বারবার তিনবার। পাল্টির হ্যাট্রিক করলেন মণিরুল ইসলাম। 

বীরভূমের লাভপুরের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা মণিরুল ইসলাম এখন বিজেপিতে। দলবদল করা তার কাছে নতুন কিছু নয়। রাজনীতির কেরিয়ারের শুরুতে  মণিরুল ইসলাম ও তাঁর ভাই রবিউল ইসলাম দু'জন  বাম রাজনীতির ধ্বজাধারী ছিলেন। ফরোয়ার্ড ব্লকের প্রধান মুখ ছিলেন তারা। বিভিন্ন অসামাজিক কাজের কারণে ২০০৫- ২০০৬ সালে আস্তে আস্তে লাভপুর এলাকায় পরিচিতি পেতে থাকে মণিরুল ও তাঁর অনুগামীরা। বহু নিরীহ মানুষকে হত্যার অভিযোগও ছিল তাঁর বিরুদ্দে হয়েছিল। 

২০১১- ২০১২ সালে সাঁইথিয়ার একটি জনসভায়  তাঁর বক্তব্য আজও ভোলেনি এই রাজ্যের মানুষ। মণিরুল বলেছিলেন, "আমি পা দিয়ে দলে কত মানুষকে মেরেছি, এদেরকেও শেষ করবো।" 

ততদিনে তিনি নাম লিখিয়েছেন তৃনমূলে।  ২০১০ সালে অনুব্রত মণ্ডলের হাত ধরেই তৃনমুলে আসেন মণিরুল। ২০১১ সালে মণিরুল ইসলাম লাভপুর কেন্দ্রে বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হন। বিপুল ভোটে জয়ীও হন মণিরুল ইসলাম। দিনে দিনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত মণিরুল লাভপুর এলাকায় একাধিপত্য বিস্তার করে। হয়ে ওঠে গডফাদার।
 
মখ্যমন্ত্রী তাঁকে অতিরিক্ত দায়িত্বও দিয়েছিলেন। বীরভূমে পাথরচাপুরী ডেভলপমেন্ট অথারিটির এক বিশেষ পদও পান মণিরুল ইসলাম। এলাকায় সামগ্রিক উন্নয়নেও হাত লাগান মণিরুল, তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে একটু একটু করে কমতে থাকে ক্ষমতা। এলাকার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে লাভপুর বিধানসভার দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয় জেলার তৃণমূল নেতা অভিজিৎ সিন্হাকে। এখান থেকেই অনুব্রতর সঙ্গে তাঁর দূরত্বের শুরয়াত। 

এই দূরত্বকেই হাতিয়ার করে তৃতীয় বার লাফ দিলেন মণিরুল।  প্রসঙ্গত ২০১৯ লোকসভা ভোটে তৃণমূলের পরাজয় হয়ছে লাভপুর বিধানসভায়। অভিযোগ তলে তলে বিজেপির হয়ে কাজও করেছিলেন মণিরুল ইসলাম ও তাঁর অনুগামীরা। এবং সময় মতো পাল্টি।

আপাতত আর কোনও আড়াল আবডাল নেই। বিজেপিকে বিধানসভা ভোটে লাভপুর উপহার দিতে খাটনি শুরু করলেন মণিরুল ও তাঁর ছোট ছেলে আসিফ খান।