হুগলির চণ্ডীতলায় আক্রান্ত হলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরাই এই হামলা চালিয়েছে। ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে ডেপুটেশন দিতে যাওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে। কল্যাণ ব্যানার্জি একে 'খুনের চেষ্টা' বলে দাবি করেছেন। 

রবিবার হুগলির চণ্ডীতলা থানা এলাকায় আক্রান্ত হলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরাই তাঁর উপর হামলা চালিয়েছে। ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে ডেপুটেশন জমা দিতে যাওয়ার পথেই এই ঘটনা ঘটে। কল্যাণ ব্যানার্জির দাবি, এটা তাঁকে "খুনের চেষ্টা"। হুগলি জেলার চণ্ডীতলা থানার বাইরে বিজেপি কর্মীরা তাঁর উপর হামলা চালায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কল্যাণের বাড়িতে মমতা

শ্রীরামপুরের এই সাংসদ জানান, ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে ডেপুটেশন জমা দিতে গিয়ে এই ঘটনার মুখে পড়েন তিনি। তাঁর মাথায় আঘাত লেগেছে। রবিবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। আর বেলা ৩টে নাগাদই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছে যান কল্যাণ বন্দ্যোপ্যাধায়ের বাড়িতে। তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ খবর নেন। তারপরই সেখান থেকে কালীঘাটের বাড়িতে ফেরেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী।

আক্রান্ত কল্যাণের প্রতিক্রিয়া

ঘটনার বিবরণ দিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্রচণ্ড যানজটের কারণে তিনি গাড়ি থেকে নেমে থানার দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন। তখনই একদল লোক তাঁকে ঘিরে ধরে। কল্যাণ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "চণ্ডীতলা থানার ওসির সঙ্গে দেখা করে ডেপুটেশন দেওয়ার জন্য আমি আসছিলাম। বাজারে বিশাল জ্যাম থাকায় আমি ক্রসিংয়ের কাছে আমার PSO-কে নিয়ে হাঁটছিলাম। তখন গেরুয়া পোশাক পরা ১০-১৫ জন বিজেপি গুন্ডা স্লোগান দিতে শুরু করে আর একটা উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি করে। ওরা আমাকে গালিগালাজ করছিল, কিন্তু আমি এগিয়ে যেতেই আমার মাথায় একটা পাথর ছোড়া হয়।"

রক্তাক্ত অবস্থায় কল্যাণকে মাথায় কাপড় চেপে ধরে থাকতে দেখা যায়। সাংসদ রাজ্য পুলিশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। তবে, তাঁকে সময়মতো উদ্ধার করার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এই বর্ষীয়ান সাংসদ আরও বলেন, "দু'ঘণ্টা হয়ে গেল, আমার জামায় রক্ত লেগে আছে। আমি রাস্তায় পড়ে গিয়েছিলাম, একজন সিআরপিএফ জওয়ান এসে আমাকে বাঁচান, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। কিন্তু বাংলা পুলিশ একদম চুপচাপ, দর্শকের মতো দাঁড়িয়ে ছিল। পশ্চিমবঙ্গে এখন আইনশৃঙ্খলার অবস্থা খুব খারাপ। এই ঘটনাটা আমাকে খুন করার চেষ্টা ছিল। এই পরিস্থিতি এটাই দেখাচ্ছে যে একজন স্বৈরাচারী ও ঈর্ষাপরায়ণ মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার চলছে, যিনি তাঁর বিরোধী সব তৃণমূল নেতাকে শেষ করে দিতে চান।"

আগে অভিষেক, পরে কল্যাণ

এর আগে শনিবার, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে একই ধরনের হামলার শিকার হন। আরজেডি সাংসদ মনোজ কুমার ঝা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত তাদের নিচুতলার কর্মীদের বোঝানো যে তারা প্রতিপক্ষ, শত্রু নয়। ঝা এএনআই-কে বলেন, "শুধু একজন জনপ্রতিনিধির সঙ্গে এটা ঘটেছে বলেই নয়, একজন সাধারণ নাগরিকের সঙ্গেও এমন ঘটনা ঘটলে তা একদমই ভুল। আমি বিশ্বাস করি, সব দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে একসঙ্গে বসে নিচুতলার কর্মীদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে হবে যে আমরা প্রতিপক্ষ, শত্রু নই।"

তৃণমূল নেতা কীর্তি আজাদও অভিযোগ করেন, এই হামলা 'রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট' এবং এর জন্য পশ্চিমবঙ্গের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা দায়ী।

এএনআই-কে আজাদ বলেন, "বাংলায় কেউ সুরক্ষিত নয়। দুঃখের বিষয় হল, দাবি করা হচ্ছে যে এই হামলা জনতা করেছে। বিজেপির সমর্থন ছাড়া এই ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয়। আমরা চোখের সামনেই দেখতে পাচ্ছি যে পুলিশ কিছুই করছিল না। এই ঘটনাটি বিজেপি মদতপুষ্ট। হাজার হাজার তৃণমূল কর্মী এবং সাধারণ সমর্থকের বাড়ি ও অফিস ভেঙে দেওয়া হয়েছে..."