তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ধাক্কা। দল এবং রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সুখেন্দুশেখর রায়। সাম্প্রতিক বিধানসভা ভোটে দলের হারের জন্য তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের '১৫ বছরের অরাজকতা'কে দায়ী করেছেন।
তৃণমূলে কংগ্রেসের অন্দরের বিবাদ যখন চরমে, ঠিক তখনই বড় ধাক্কা এল। রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় দল এবং সাংসদ পদ, দুটো থেকেই ইস্তফা দিলেন। তিনি সংসদের উচ্চকক্ষের সদস্যপদ এবং তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ ছেড়ে দিয়েছেন।

সুখেন্দুর পদত্যাগের কারণ
নিজের ইস্তফাপত্রে সুখেন্দু শেখর রায় পশ্চিমবঙ্গে দলের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল হারের প্রসঙ্গ তুলেছেন। তাঁর মতে, এই হারের কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দলের '১৫ বছরের অরাজক শাসন'। তিনি বলেন, "এই ১৫ বছর ধরে লাগামছাড়া দুর্নীতি, মহিলাদের ওপর অত্যাচার চলেছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিল্প, আইন-শৃঙ্খলা এবং কর্মসংস্থানের মতো ক্ষেত্রে সরকার চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছে।"
সুখেন্দুবাবু আরও বলেন, "রাজ্যের ইতিহাসে প্রথমবার মানুষ ভারতীয় জনতা পার্টিকে (BJP) বিপুলভাবে জিতিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের এই ১৫ বছরের অরাজক শাসনের অবসান ঘটানোর জন্য।" নতুন বিজেপি সরকারের প্রশংসাও করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, "নতুন নির্বাচিত BJP সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের জন্য ইতিমধ্যেই উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে।" তিনি যোগ করেন, "মানুষের এই ঐতিহাসিক রায়কে সম্মান জানিয়ে আমি আজ রাজ্যসভার সদস্যপদ এবং সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলাম।"
তৃণমূলের বিদ্রোহী ২০ সাংসদ
সুখেন্দু শেখর রায়ের এই ইস্তফার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন তৃণমূলের ২০ জন লোকসভা সাংসদের দলত্যাগ নিয়ে জল্পনা চলছে। সম্প্রতি দল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলে বিদ্রোহ দেখা দেয়। দলবিরোধী কার্যকলাপের জন্য তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ঋতব্রত বিধানসভায় ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনে একটি আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করেন। পরে তিনি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের জায়গায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হন।
ঋতব্রত শিবির বিধানসভা ভোটে দলের ভরাডুবির জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে দায়ী করে খোলাখুলি সমালোচনা করে আসছে।


