করোনার প্রকোপে দেশজুড়ে আচমকাই শুরু হয়েছে স্য়ানিটাইজারের সংকট। কলকাতাতে যদি-বা কিছু পাওয়া যাচ্ছে, রাজ্য়ের বিভিন্ন জায়গায় তার জোগান ক্রমশ নিম্নমুখী। পুরুলিয়ায় জেলা জুড়েই কার্যত অমিল এই মহার্ঘ্য় স্য়ানিটাইজার। এই পরিস্থিতিতে, আত্মবিশ্বাসের ওপর ভর করে, স্বনির্ভর গোষ্ঠীদের সঙ্গে নিয়ে স্য়ানিটাইজার তৈরি করতে নেমে পড়ল ব্লক প্রশাসন। সবকিছু ঠিকঠাক চললে, এবার বাজারে জঙ্গলমহলে তৈরি স্য়ানিটাইজার।

লকডাউনের মধ্য়েই পুরুলিয়ার বলরামপুর পঞ্চায়েত সমিতির উদ্য়োগে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের নিয়ে ইতিমধ্য়েই শুরু হয়ে গিয়েছে স্য়ানিটাইজার তৈরির কাজ। এই আকালের বাজারে যে পরিমাণ স্য়ানিটাইজার তৈরি হবে,  প্রথমে যা দেওয়া  হবে ব্লকের স্বাস্থ্য়কর্মীদের। তারপর তা পাবেন পুলিশকর্মীরা। আর তারওপর সেগুলোকে বাজারজাত করা হবে। বলরামপুরের বিডিও ধ্রুবপদ শান্ডিল্য় জানান, "করোনার মোকাবিলায় যাঁরা সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে মোকাবিলা করছেন, প্রথমে তাঁদের হাতে আমরা তুলে দেব এই স্য়ানিটাইজার। পরের ধাপে আমরা চেষ্টা করবো সেগুলোকে বাজারে বিক্রি করার। বাজারে তো এখন স্য়ানিটাইজার নেই বললেই চলে। সেই অভাবটাও পূরণ হবে।"

ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে এই কাজে সহযোগিতা করছে জেলার আবগারি দফতরও। জেলাশাসকও এগিয়ে এসেছ সাহস জোগাচ্ছেন। জানা গিয়েছে, মার্চের  মাঝামাঝি সময় থেকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণে খবর চাউর হতেই পুরুলিয়া জেলা সদর থেকে মহকুমা এমনকি ব্লকের দোকানবাজার থেকে উধাও হয়ে যায় স্যানিটাইজার। হাতেগোনা কিছু ওষুধের দোকানে  প্রথম দিকে স্যানিটাইজার পাওয়া গেলেও সেসব জায়গায় বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তারপর প্রশাসন এ ব্যাপারে কড়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ধীরে ধীরে বাজারে অমিল হয়ে গিয়েছে স্যানিটাইজারও। এই পরিস্থিতিতে, কয়েকদিন আগে জেলা শাসক রাহুল মজুমদার সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়েছিলেন, জেলার মানুষের এই সংক্রান্ত সমস্যা দূর করতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের দিয়ে স্যানিটাইজার তৈরি করা শুরু হয়েছে। এর পরেই জঙ্গলমহলের বলরামপুর ব্লক প্রশাসনের যুদ্ধকালীন  তৎপরতায় স্যানিটাইজার তৈরি করা শুরু করে দেয়। সহকিছু ঠিকঠাক থাকলে, এবার কলকাতার বাজারেও আসবে জঙ্গলমহলে তৈরি স্য়ানিটাইজার।