আশিষ মণ্ডল, বীরভূম: স্বাধীন দেশেও কি রেশন মিলবে না? স্থানীয় বিধায়কের দ্বারস্থ হলেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষেরা। বীরভূমের আদিবাসী অধ্যূষিত বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের যে রেশন কার্ড নেই, তা ধরা পড়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সমীক্ষাতেও।

আরও পড়ুন: করোনা বিধি অমান্য করেই স্কুলে চলছে শিশুদের পরীক্ষা, কাঠগড়ায় বেসরকারি স্কুল

বীরভূম জেলায় বিশেষ মহম্মদবাজার ব্লকে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। স্থানীয় ভাঁড়কাটা পঞ্চায়েতে বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের অনেকেই কিন্তু রেশন পান না! কেন? জেঠিয়া গ্রামের ৫১ বছর বয়সি সুরজমুনি মুরমু বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে আমার রেশন কার্ড নেই। তাই রেশনের কোনো সামগ্রী পাই না।' শুধু তাই নয়, ভিন রাজ্যের বহু যুবক আবার পর পাকাপাকি থাকেন শ্বশুরবাড়িতে। রেশন কার্ড করাননি তাঁরাও।

জানা গিয়েছেন, রেশন কার্ডের আর্জি জানিয়ে স্থানীয় বিধায়ক ও কৃষিমন্ত্রীর আশিষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষেরা। বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে খতিয়ে দেখার অনুরোধ করেন তিনি। এরপর সিউড়ি মহকুমাশাসক এলাকায় গিয়ে অভিযোগ শুনে এসেছেন। রেশন কার্ড মিলবে কবে? কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'ওই এলাকার মানুষের অভিযোগ পেয়ে ত‍ৎক্ষনাৎ জেলা শাসককে বিষয়টি দেখার নির্দেশ দিয়েছিলাম। যাঁরা বঞ্চিত, তাঁরা দ্রুত রেশন পেয়ে যাবেন।'

আরও পড়ুন: বৃষ্টিতে জল বাড়ছে শিলাবতী নদীতে, প্রবল স্রোতে ভেঙে পড়ল ব্রিটিশ আমলের সেতু

এদিকে আবার ভাঁড়াকাটা পঞ্চায়েতের পলাশবুনি, জেঠিয়া, ঢোলকাটার মতো বেশ কয়েকটি গ্রামে সমীক্ষা চালিয়েছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সেই সমীক্ষায় সাড় চারশোর জনের নাম পাওয়া গিয়েছে, যাঁদের রেশন কার্ডই নেই! ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য গুপিন মার্ডিও। তিনি বলেন, 'বেশ কিছু মানুষ রেশন সামগ্রী থেকে বঞ্চিত। বিষয়টি আমরা বিধায়ককে জানিয়েছিলাম। এরপরেই সিউড়ি মহকুমা শাসক এলাকায় এসে অভিযোগ শুনে যান।'