রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সুস্মিতা দেব। এক সপ্তাহের মধ্যে এনিয়ে তৃণমূলের দুজন রাজ্যসভার সাংসদ পদত্যাগ করলেন।

রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সুস্মিতা দেব। এক সপ্তাহের মধ্যে এনিয়ে তৃণমূলের দুজন রাজ্যসভার সাংসদ পদত্যাগ করলেন। সোমবার ইস্তফা দেন সুখেন্দু শেখর রায় (Sukhendu Sekhar Roy)। রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি। দিল্লিতে উপরাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, দল ছাড়ার কথাও ঘোষণা করেছেন সুখেন্দুশেখর (Sukhendu Sekhar Roy Resigns)। দিল্লিতে সংবাদমাধ্য়মের মুখোমুখি হলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন। সুখেন্দুশেখরের অভিযোগ, দলে তাঁকে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সুস্মিতা দেব আগে কংগ্রেসে ছিলেন। আসামের শিলচর থেকে কংগ্রেসের লোকসভার সাংসদ ছিলেন। ২০১৯ সালের পরাজয়ের পরে দলত্যাগ করেছিলেন এবং ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছিলেন৷ তিনি দ্রুত পদে উন্নীত হন, দলের জাতীয় মুখপাত্র হন এবং পরে রাজ্যসভায় স্থান পান৷

এই নতুন ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষাপটে রয়েছে বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের একটি দাবি। সোমবার তিনি জানিয়েছিলেন যে, দলের প্রায় ২০ জন সাংসদ এনডিএ-র সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দস্তিদারের মতে, এই পদক্ষেপের বিষয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে একটি চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে। কাকলি এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং তাঁকে এর 'চিফ হুইপ' হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। প্রবীণ সাংসদ শতাব্দী রায়কে এই বিদ্রোহী দলের উপনেতা করা হয়েছে। বিদ্রোহী শিবিরের এই দাবির ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংকটের গভীরতা নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।

চলমান অস্থিরতার মধ্যেই, মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ পার্থ ভৌমিক আনুষ্ঠানিকভাবে সেই সরকারি বাংলোটি ছেড়ে দিয়েছেন, যা রাজধানীতে দলের কাজকর্ম পরিচালনার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। সূত্রের খবর, পার্থ ভৌমিক নিজেই ওই আবাসন থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। নেতৃত্ব ও বিদ্রোহী সাংসদদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে তাঁর এই পদক্ষেপ দলের ভেতরে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধির ইঙ্গিতকেই আরও জোরাল করে তুলেছে।

এই বিদ্রোহের কড়া জবাব দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের প্রবীণ নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর আচরণের সমালোচনা করেন। বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দলের প্রতি অসন্তুষ্ট নেতাদের উচিত পদ আঁকড়ে না থেকে পদত্যাগ করা; প্রকাশ্যে সংগঠনের বিরোধিতা করার পাশাপাশি পদে বহাল থাকা উচিত নয়। তিনি বলেন, কোনও নেতা যদি আর তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত থাকতে না চান কিংবা দলের সঙ্গে তাঁর গুরুতর মতপার্থক্য থাকে, তবে নৈতিকতার খাতিরে তাঁর সরে দাঁড়ানোই শ্রেয়।