ফের বিজেপির  গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে,এবার সাংসদের সামনেই  হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়লেন দুই জেলার নেতা। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার  গড়বেতার বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এই প্রথম এয়। এমনই ঘটনা বার বার প্রকাশ্যে এসেছে। এই দ্বন্দ্বের রাশ টানতে পারেনি জেলা থেকে রাজ্য নেতৃত্বও।  

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বৃষ্টি  মাথায় নিয়েই গড়বেতার খড়কুশমা থেকে বিজেপির সংকল্প যাত্রা শুরু হয়েছিল। বুধবার সংকল্প যাত্রার সূচনা করেছিলেন ঝাড়গ্রামের সাংসদ কুনার হেমব্রম। এদিন শ্যামনগর, ধাদিকা, গড়বেতা হয়ে আমলাগোড়ায় সংকল্প যাত্রা এসে পৌঁছয় দুপুর দেড়টা নাগাদ। সেখানেও উপস্থিত ছিলেন সাংসদ।  আমলাগোড়ায় একটি পথসভা করার জন্য গড়া হয়েছিল মঞ্চ। বক্তব্য রাখার কথা ছিল সাংসদ সহ বিজেপি নেতাদের। আর সভা শুরু হবার আগেই শুরু হয়ে গেল গণ্ডগোল। হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন দলের জেলা সহ সভাপতি প্রদীপ লোধা ও জেলা সম্পাদক মদন রুইদাস। মঞ্চের চেয়ারে বৃষ্টির জল মোছা নিয়ে দুই নেতার গন্ডগোলের সূত্রপাত বলে জানা যায়।  

দু'জনেই মঞ্চ থেকে পড়ে যান। দুই নেতার হাতাহাতি ঘিরে তাঁদের অনুগামীদের মধ্যে দেখা দেয় উত্তেজনা। এই অবস্থায় অস্বস্তি ঢাকতে মঞ্চ থেকে নেমে চলে যান কুনার হেমব্রম।  হকচকিয়ে যান মঞ্চের নীচে জমায়েত থাকা কর্মী সমর্থকেরা। নেতা  চলে গেলেও গন্ডগোলের রেশ থেকে যায়। অভিযোগ, সংকল্প যাত্রার মধ্যেই কিছুটা দূরে মদন রুইদাসের গাড়ি আটকে দেন প্রদীপ লোধার অনুগামীরা। তৈরি হয় বিশৃখ্লল পরিস্থিতি। এই ঘটনায় একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন এই দুই নেতা। প্রদীপ লোধার অভিযোগ, 'মঞ্চে সাংসদের পাশের চেয়ারে জল থাকায় তা মুছতে গিয়েছিলাম। মদন রুইদাস চেয়ারটা টানতেই আমি পড়ে যাই। আমার মুখে সপাটে ঘুষিও মারেন উনি। আমি কিছু না বলেই মঞ্চ থেকে নেমে আসি। দীর্ঘদিন ধরে দলটা করে আসছি । এই ভাবে দলের কর্মীর কাছে মার খাব ভাবতে পারিনি। পুরো ঘটনা জেলা নেতৃত্বকে জানিয়েছি।'

অপরদিকে মদন রুইদাসের অভিযোগ, 'বৃষ্টি হওয়ায় মঞ্চের চেয়ারগুলি মুছতে গিয়েছিলাম। সাংসদের সামনেই প্রদীপ লোধা ছিলেন। সেই সময় তিনি আমাকে ধাক্কাধাক্কি করেন। কিল চড় ঘুসি মারতে থাকেন। এমনকী  আমাকে মারধর করার চেষ্টা করেন তাঁর অনুগামীরা। পুরোটাই পূর্ব পরিকল্পিত ছিল।' এদিকে গান্ধীর সংকল্প যাত্রায় নিজেদের মধ্যে হিংসায় অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি। এক জেলা নেতা বলেন,  এই ঘটনায় দলের কর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে একটা খারাপ বার্তা যাচ্ছে। রাজ্য নেতৃত্বকে বিষয়টি জানাব।