লটারি জিতে ভাগ্য বদলাচ্ছে ঠিকই। কিন্তু তার সঙ্গে জুড়ছে প্রাণের ভয়ও। কোটিপতির যে চিন্তা কম না, তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন এ রাজ্য থেকে লটারিতে কোটি টাকা বিজয়ীরা। বর্ধমান, মালদহের পর এবার মুর্শিদাবাদ, সর্বত্রই ছবিটা একই। তবে এবার এক টিকিটেই ভাগ্য বদল হল দু' জনের। সম্পর্কে তাঁরা কাকা এবং ভাইপো। 

মাঝে মধ্যেই ভাগ্য পরীক্ষার জন্য টিকিট কাটতেন মুর্শিদাবাদের বড়ঞার পালি বাসিন্দা শাহদুল্লা শেখ। এতদিন ভাগ্যদেবী মুখ তুলে না তাকালেও পচাত্তর বছর বয়সে এসে অবশেষে কপাল ফিরল বৃদ্ধের। সম্প্রতি লটারিতে প্রথম পুরস্কার বাবদ এক কোটি টাকা জিতেছেন শাহদুল্লা। তাঁর অবশ্য দাবি লটারির পুরস্কার মূল্যে এক ভাইপোর-ও ভাগ রয়েছে। কিন্তু ভাইপোকে ভাগ দিয়েও তার যে অর্থপ্রাপ্তি হবে তাতে জীবন বদলে যাবে দিন আনা দিন খাওয়ার পরিবারের। কিন্তু তার মধ্যেই বৃদ্ধকে গ্রাস করেছে অন্য চিন্তা। লটারির টাকার জন্য কেউ যদি তাঁর এবং অথবা পরিবারের সদস্যদের উপরে হামলা চালায়, এই আশঙ্কাতেই দিন কাটছে বৃদ্ধের। 

বছর দু'য়েক আগে শাহদুল্লার বড়  ছেলে পেশায় সিভিক ভলেন্টিয়ার মিঠুন শেখ বাইক দুর্ঘটনায় মারা যান। তার পর থেকেই ছোট ছেলে কোনওভাবে দিন মজুরি  করে সংসার চালান। খড়ের চালার বাড়িতে কোনওক্রমে বাস করে শাহদুল্লার পরিবার। ছেলে হারানোর শোকে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়ায় কাজকর্মও করতে পারতেন না ওই বৃদ্ধ। বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা সম্পর্কে তাঁর ভাইপো হাসিবুল আলির দোকানে গিয়ে সম্প্রতি সময় কাটাতে শুরু করেন তিনি। সেখানেই হাসিবুলের সঙ্গে ভাগাভাগি করে গত ১ জানুয়ারি ৩০০ টাকা মূল্যের লটারির টিকিট কাটেন তিনি। আর সেই টিকিটই তাঁর ভাগ্য বদলে দিল। ভাগ্য বদলে গিয়েছে শাহদুল্লার ভাইপো হাসিবুলেরও।

খেলার ফল বেরোতে তাঁরা জানতে পারেন ওই টিকিটেই কোটি টাকার প্রথম পুরস্কার বেঁধেছে। যা শুনে প্রথমে ছাপোষা শাহদুল্লার ভিরমি খাওয়ার অবস্থা হয়।পরে গ্রামের অন্যান্যদের দিয়ে টিকিট পরীক্ষা করে কোটি টাকা জয় সম্পর্কে নিশ্চিত হন ওই বৃদ্ধ।  পুরস্কার জিতে শাহদুল্লা ও তাঁর ভাইপো উভয়ই এখন বেজায় খুশি। সেই সঙ্গে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিতও বটে। সরকারি সমস্ত নিয়ম মেনে টাকা পেতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে।  

হাসিবুল বলেন, 'আমি ওই টাকার কিছুটা অংশ দোকানের কাজে লাগাব। ব্যবসাটাকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করব, আর বাকি টাকা পরিবারের জন্য রাখব।' অন্যদিকে শাহদুল্লা বলেন, 'আজ আমার বড় ছেলে যদি বেঁচে থাকত, তাহলে খুব খুশি হতো। তবে ও যখন নেই আমার আরেক ছেলের জন্যই ওই টাকা রাখব আর বাকি টাকা দিয়ে নিজের চিকিৎসা আর মাথার উপরে একটা পাকা ছাদের এর ব্যবস্থা করব।'