বিয়ের টাকা জোগাড় করতে পারছেন না বাবা। সেই গ্লানি থেকেই সাতশো ফুট গভীর কয়লা খাদানে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছিলেন যুবতী। তিন দিন পেরিয়ে গেলেও যুবতীর দেহ উদ্ধার করা গেল না। শেষ পর্যন্ত জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলী বাহিনীকে ডেকেও খাদান থেকে দেহ তোলা গেল না। 

মর্মান্তিক এই ঘটনটি ঘটেছে পুরুলিয়ার নিতুড়িয়ার রানিপুরে। খাদানে ঝাঁপ দেওয়া ওই যুবতীর নাম সুস্মিতা গোপ। গত শুক্রবার নিতুড়িয়া থানার রানিপুর এলাকায় একটি পরিত্যক্ত খাদানে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হন স্থানীয় যুবতী সুস্মিতা গোপ। ওই যুবতীর পরিবারের আর্থিক অবস্থা একেবারেই ভাল নয়। যদিও সুস্মিতা নিজে স্নাতক ছিলেন। কিন্তু বিয়ের জন্য় পাত্রপক্ষ পণ চেয়েছিল বলে অভিযোগ। কিন্তু মেয়ের বিয়ের জন্য পণের টাকা জোগাড়ে ব্যর্থ হন সুস্মিতার বাবা। সেই হতাশা এবং গ্লানি থেকেই ওই খাদানে ঝাঁপ দেন সুস্মিতা। এমনটাই মনে করছে তাঁর পরিবার। ওই যুবতীকে খাদানে ঝাঁপ দিতে দেখেছিলেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। তিনিই স্থানীয়দের বিষয়টি জানান। এর পরেই যুবতীর দেহ উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করে প্রশাসন। কিন্তু বাহাত্তর ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও দেহ উদ্ধার করা গেল না। 

প্রথমে ওই যুবতীর দেহ উদ্ধারের চেষ্টা করে ইসিএলের মাইন্স রেসকিউ টিম। তারা ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায়। এরপর রাজ্য সরকারের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও ওই যুবতীর দেহ তুলতে পারেনি। জানা গিয়েছে, ওই খাদান প্রায় সাতশো ফুট গভীর।  তার উপর খাদানের মধ্যে জল জমে রয়েছে। 

স্থানীয় প্রশাসন ব্যর্থ হওয়ার পরে রবিবার সকাল থেকে খাদানের জমে থাকা জলের মধ্যে দেহ খোঁজার কাজ শুরু করে এনডিআরএফ-এর কুড়িজনের একটি দল। প্রথমে জলের মধ্যে বাইরে থেকে ঢেউ তুলে দেহ ভাসিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। সেই চেষ্টা সফল না হওয়ায় ডুবুরি নামানো হয় খাদানে। কিন্তু জলের গভীরে পৌঁছতেই খনির মধ্যে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন এক উদ্ধারকারী। অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে নেমেও তিনি খাদান থেকে উঠে আসেন ওই ডুবুরি। এর পরেই কার্যত রণে ভঙ্গ দেয় এনডিআরএফ। দলের নেতৃত্বে থাকা ইন্সপেক্টরও যুবতীর পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়ে বুঝিয়ে দেন, ওই খাদান থেকে দেহ তোলা কার্যত অসম্ভব। দেহ ভেসে না উঠলে তা তোলা অসম্ভব। গোটা ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়।