শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে বুলবুল। সাগরদ্বীপ থেকে আর মাত্র ১২৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়। যে কোনও মুহূর্তে তীব্র বেগে সমুদ্র উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে শক্তিশালী বুলবুল। স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময় তার গতিবেগ ঘন্টায় ১২০ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার থাকবে বলে অুমান করা হচ্ছে। গতি বারিয়ে ক্রমশ ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের দিকে ধেয়ে আসছে বুলবুল। 

আরও পড়ুন- চোখ রাঙাচ্ছে বুলবুল, আরও ঝেপে আসতে চলেছে বৃষ্টি

শনিবার ভোররাত থেকেই বুলবুলের দাপটে শুরু হয়েছে বৃষ্টিপাত। রাত ৮ টা থেকে ১২টার মধ্যে সাগরদ্বীপ ও বাংলাদেশের খেপুপাড়ার মধ্যে আছড়ে পড়বে শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়। এই মুহূর্তে ওড়িশার পারাদ্বীপ থেকে ১১০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে বুলবুল। অত্যন্ত শক্তিশালী বুলবুল উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এবং পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে এই ঘূর্ণিঝড় তীব্র হয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কোথাও কোথাও এর গতিবেগ হতে পারে ১৩৫ কিলোমিটার অবধি। ঘূর্ণিঝড় 'বুলবুল' বিষয়ে নবান্ন-এ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বর ১০৭০, ২২১৪৩৫২৬।

আরও পড়ুন- স্থলভাগে আঘাত হানার আগে আরও শক্তিশালী বুলবুল, দাপট থাকবে রবিবার পর্যন্ত

বুলবুল ঘূর্ণিঝড়ের অশঙ্কা উস্কে দিচ্ছে আয়লার স্মৃতি। সেই সময়কার পরিস্থিতি মাথায় রেখে উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে জারি করা হয়েছে সতর্কতা। সমুদ্রতীরবর্তি এলাকা থেকে বহু সাধারণ মানুষ সরিয়ে আনা হয়েছে সুরক্ষিত জায়গায়। মৎসজীবি দের একদিন আগেই ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমুদ্রতীরবর্তি অঞ্চলে প্রবল জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। আগামী ৪৮ ঘন্টা কলকাতা-সহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত নিম্নচাপের সৃষ্টির ফলে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল কয়েক ঘন্টার মধ্যে আছড়ে পড়তে পারে পশ্চিমবঙ্গের উপকূল এলাকায়। পূর্ব মেদিনীপুরের দীঘা মন্দারমনি তাজপুর সহ উপকূল এলাকায় ইতিমধ্যে পৌঁছে গিয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবেলা টীম। নদীয়ার হরিণঘাটা থেকে ২৬ জনের একটি এনডিআরএফ টিম সমুদ্র সৈকত এলাকায় পর্যটকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবেলা দল।