দক্ষিণী অভিনেতা তথা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম বা TVK-এর পশ্চিমবঙ্গে সংগঠন তৈরির খবর ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
দক্ষিণী অভিনেতা তথা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম বা TVK-এর পশ্চিমবঙ্গে সংগঠন তৈরির খবর ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। পূর্ব বর্ধমানের ফাগুপুরে TVK-এর নামে একটি দলীয় কার্যালয় খোলার খবর প্রকাশ্যে আসার পর দলের তামিলনাড়ু নেতৃত্ব জানিয়ে দিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে দলের কোনও অনুমোদিত সংগঠন নেই। সম্প্রতি পূর্ব বর্ধমানের ফাগুপুরে TVK-এর একটি অফিস উদ্বোধনের খবর সামনে আসে। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের ‘রাজ্য কোঅর্ডিনেটর’ হিসেবে চৈতালি রায়ের নামও উঠে আসে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, ওই অফিস থেকেই রাজ্যে সংগঠন বিস্তারের কাজ শুরু করবে TVK। তবে এই দাবিকে সরাসরি খারিজ করেছে TVK-এর শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের তরফে জানানো হয়েছে, তামিলনাড়ুর বাইরে বর্তমানে কোনও রাজ্যেই TVK-এর অনুমোদিত সংগঠন নেই। ফলে পশ্চিমবঙ্গে যে কার্যকলাপের কথা বলা হচ্ছে, তা দলের অনুমোদিত কর্মসূচি নয়।
দলের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে কাউকে TVK-এর হয়ে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমতি দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, পূর্ব বর্ধমানে যে অফিস খোলার খবর সামনে এসেছে, তার সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কোনও অনুমোদিত যোগ নেই। টিভিকে-র মুখপাত্র সানকাভি দ্যানাহ ইংরেজি সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে বলেন, “আমাদের দল আনুষ্ঠানিক ভাবে পশ্চিমবঙ্গে কোনও শাখা বা দলীয় কার্যালয় খোলেনি। যদি তেমন কিছু হয়েও থাকে, তা হলে বলতে হয় যে, সেগুলোয় কোনও দলীয় অনুমোদন নেই। টিভিকে-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এতে সমর্থন নেই। পশ্চিমবঙ্গে যারা কার্যালয়টি স্থাপন করেছেন, তাঁরা বোধহয় দলের নেতৃত্বের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে থাকতে পারেন। আপনারা যে সংস্থা বা কার্যালয়টির কথা বলছেন, তা হল স্থানীয় সমর্থকদের একটি স্বতন্ত্র উদ্যোগ। যারা আমাদের টিভিকে দলের সভাপতি এবং তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় স্যারের নেতৃত্বের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছেন। বর্তমানে টিভিকে তার মূল রাজনৈতিক কার্যক্রম, নির্বাচনী ইশতেহার যথাসম্ভব বাস্তবায়ন এবং তামিলনাড়ুতে জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের উপরই মনোযোগ দিচ্ছে। আমি নিশ্চিত যে, পশ্চিমবঙ্গে সাংগঠনিক সম্প্রসারণের বিষয়ে টিভিকে কোনও আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেনি।""
এর আগে পশ্চিমবঙ্গের ওই সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছিল, আপাতত সরাসরি রাজনৈতিক কর্মসূচির বদলে সামাজিক কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করা হবে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং জনকল্যাণমূলক কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল। ফলে পশ্চিমবঙ্গে TVK-এর সত্যিই কোনও সাংগঠনিক বিস্তার হচ্ছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে রাজ্যে দলের নামে অফিস খোলার দাবি, অন্যদিকে তামিলনাড়ু নেতৃত্বের স্পষ্ট অস্বীকৃতি—দুইয়ের জেরে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।


