সাধারণ মানুষকে সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে কাটমানি নিয়ে থাকলে অবিলম্বে তা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার পরেই কাটমানি ফেরত চেয়ে বুধবার বীরভূমের ইলামবাজারে দুই তৃণমূল নেতার বাড়ি ঘেরাও করলেন গ্রামবাসীরা। অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বাড়ি করার জন্য সরকারি প্রকল্পের টাকা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে গ্রামবাসীদের থেকে কাটমানি নিয়েছিলেন ওই দুই নেতা। 

ঘটনাটি ঘটেছে ইলামবাজার থানার অন্তর্গত শ্রীচন্দ্রপুর গ্রামে। কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকার তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য এবং তৃণমূল বুথ সভাপতির বাড়ি ঘেরাও করেন।  অভিযোগ, এলাকার যে সমস্ত গরিব মানুষ প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকা পেয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০০ টাকা করে কাটমানি নিয়েছেন তৃণমূল সদস্য উত্তম বাউড়ি এবং তৃণমূল বুথ সভাপতি রাজীব আকুর।

আরও পড়ুন- কোটি টাকা কাটমানি নিয়ে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা, মমতার নির্দেশে কাঁপছেন অনেকেই

এতদিন বিষয়টি মুখ বুজে মেনে নিলেও মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই বুধবার ওই দুই তৃণমূল নেতার বাড়ি ঘেরাও করে জনতা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

 পরে ইলামবাজার থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। 

শুধু প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকা নয়, গ্রামবাসীদের আরো অভিযোগ, একশো দিনের কাজের টাকা থেকেও স্থানীয় তৃণমূল নেতারা কাটমানি নিতেন। 

যদিও পুরো ঘটনা অস্বীকার করেছেন এলাকার তৃণমূল সদস্য উত্তম বাউরি। অন্য অভিযুক্ত রাজীব আকুরের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তৃণমূলের আরও এক কর্মী সন্দীপ বাউড়ির বিরুদ্ধেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলেন গ্রামবাসীরা। যদিও তিনি নিজের মুখেই জানান, 'টাকা আমি নিতেন না, টাকা নিতেন এলাকার বুথ সভাপতি রাজীব আকুর এবং দুখু বাবু নামে দলের আরও এক নেতা।'

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় পরিবার পিছু ৩৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। তার থেকে ৫ হাজার টাকা করে আত্নসাৎ করেন ওই দুই তৃণমূল নেতা। কাটমানি না দিলে বাড়ি তৈরির টাকা পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দিয়েছিলেন তাঁরা। অভিযুক্ত উত্তম বাউরির অবশ্য দাবি, এই অভিযোগ মিথ্যে। পুরোটাই বিজেপি-র চক্রান্ত।