এদেশে পড়তে এসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি। বিশ্বভারতী থেকে চলে যেতে হবে বাংলাদেশের এক পড়ুয়াকে। তেমনই নির্দেশ দিয়েছে মোদি সরকারের বিদেশমন্ত্রক। দিল্লি থেকে ওই পড়ুয়ার কাছে চিঠিও চলে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনায় মুখ কুলুপ এঁটেছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। ক্ষুদ্ধ পড়ুয়াদের একাংশ। 

আরও পড়ুন: ছাত্রীর শ্লীলতাহানিতে অভিযুক্ত অধ্যাপকে ছুটি, আন্দোলনকে বেআইনি বললেন উপাচার্য

শিল্পসদনের ডিজাইন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী আপসারা মিমি। তাঁর বাড়ি বাংলাদেশের কুষ্টিয়ায়। ২০১৮ সালে বিশ্বভারতীতে ভর্তি হন তিনি। গত ডিসেম্বরে সিএএ বিরোধী আন্দোলনে শামিল হন বিশ্বভারতীর ছাত্রছাত্রীরা। সেই আন্দোলন নিয়ে আপসারা ফেসবুকে বেশ কয়েকটি পোস্ট দিয়েছিলেন জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, গত ৪ জানুয়ারি বামেদের ডাকা বনধেও শামিল হন ওই বাংলাদেশি পড়ুয়া। সহপাঠীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কেন্দ্রীয় দপ্তরের সামনে দীর্ঘক্ষণ আন্দোলনও করেছিলেন তিনি। আর তাতেই ঘটেছে বিপত্তি। কারণ, আপসারা এদেশের নাগরিক নন। বাংলাদেশ থেকে পড়াশোনা করতে এসেছেন বিশ্বভারতীতে। জানা দিয়েছে, ভিসা সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিকরা এদেশে কেন্দ্র বিরোধী কোনও কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারেননি। বিশ্বভারতী বাংলাদেশি পড়ুয়াকে পনেরো দিনের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে বিদেশমন্ত্রক। তাহলে পড়াশোনার কী হবে? বেজায় দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন আপসারা। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ নিয়ে মুখ খুলতে চাইছে না বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: গুজরাত থেকে চন্দননগর, নিখোঁজ বৃদ্ধাকে বাড়ি ফেরালেন হ্যাম রেডিও অপারেটররা

এদিকে এই ঘটনা বেজায় ক্ষুদ্ধ বিশ্বভারতীর পড়ুয়াদের একাংশ।  তাঁদের বক্তব্য, ছাত্র আন্দোলন অংশে নেওয়াটা কখনই অপরাধ হতে পারে না। বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতে এই পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর আগে লোকসভা ভোটের সময়ে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে তৃণমূল প্রার্থী হয়ে রোড-শো করেছিলেন বাংলাদেশের অভিনেতা ফিরদৌস। ঘটনায় কলকাতার আঞ্চলিক অফিস থেকে রিপোর্ট তলব করেছিল বিদেশমন্ত্রক। আর এবার সরাসরি বাংলাদেশি পড়ুয়াকে দেশ ছাড়া নির্দেশ দেওয়া হল।