সিসিটিভি-র সামনে দিয়েই পায়ে হেঁটে মন্দিরে ঢুকেছে সে। চুরি হয়ে গিয়েছে কয়েক লক্ষ টাকার সোনার গয়না। কিন্তু ফুটেজ দেখে চোরকে চেনার উপায় নেই! ঘটনায় তাজ্জব বনে গিয়েছে খোদ পুলিশকর্তারাই। চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন: দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে খুন ব্যবসায়ী, মেচেদা হত্যাকাণ্ডের রহস্যভেদ পুলিশের

৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে কালীমন্দিরের দূরত্ব খুব বেশি নয়। উল্টোদিকেই আবার থানা। আলাদা করে আর নিরাপত্তা নিয়ে মাথা ঘামাননি মন্দির কমিটি সদস্যরা। কিন্তু ঘটনা হল. পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে ইসলামপুরের একটি কালীমন্দির থেকে লক্ষাধিক টাকার গয়না চুরি হয়ে গেল। চোরের বুদ্ধিতে কাজে এল না সিসিটিভির নজরদারিও।  বৃহস্পতিবার সকালে পুরোহিত ও সেবাইতরা যখন ওই কালীমন্দিরে আসেন, তখন দেখেন, মন্দিরের ঢোকার ও গর্ভগৃহের দরজার তালা ভাঙা। বিগ্রহের গায়ে কোনও অলঙ্কারও নেই! ঘটনাটি জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। জাতীয় সড়ক পার হয়ে মন্দিরে পৌঁছন ইসলামপুর থানার আধিকারিকরাও। খতিয়ে দেখা হয় মন্দির লাগোয়া এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ। ফুটেজে ধরা পড়েছে, রাতের অন্ধকারে দরজা ভেঙে সটান গর্ভগৃহে ঢুকে পড়ে এক ব্যক্তি এবং বিগ্রহের গয়না খুলে নিয়ে আবার মন্দির থেকে বেরিয়েও যায় সে। কিন্তু চোরকে শনাক্ত করা যায়নি!

আরও পড়ুন: বিয়ের আসরে পরিবেশ রক্ষার বার্তা, অতিথিদের চারাগাছ উপহার পাত্রীর দাদার

কেন? পুলিশ জানিয়েছে, যে চুরি করেছে, সে গায়ে রেইনকোট ও মাথায় টুপি পরে মন্দিরে ঢুকেছিল। মুখ ঢাকা ছিল সাদা রুমালে, এমনকী হাতেও গ্লাভস পরা ছিল। তাই সিসিটিভি ফুটেজ দেখেও চোরকে চেনা যায়নি। এমনকী, মন্দিরে ভিতরে হাতের ছাপ বা অন্য কোন প্রমাণও মেলেনি! মন্দিরে এভাবে চুরির ঘটনা ভাবিয়ে তুলেছে পুলিশ আধিকারিকদের। তাঁদের ধারনা, কাজটা যেই করে থাকুক না কেন, সে পুলিশের তদন্তের পদ্ধতি সম্পর্কে ভালোমতোই ওয়াকিবহাল। এই চোরকে ধরতে না পারলে, এলাকায় আরও বড় কোনও চুরির ঘটনা ঘটতে পারে। আপাতত বিকল্প পথে চোরকে শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।