রাস্তার ধারে তাঁকে বসে থাকতে দেখেছিলেন অনেকেই। নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা যে কেউ করেননি, তাও নয়। কিন্তু লাভ হয়নি। কারও সামনেই মুখ খুলছিলেন না ওই বৃদ্ধা। শেষপর্যন্ত হ্যাম রেডিও-র সৌজন্যে চারমাস পর বাড়ি ফিরলেন গুজরাতের ভানিতা বেন। 

আরও পড়ুন: ফিরছেন রায়গঞ্জের বিনয় সঙ্গে ১২২ জন, হোয়াটসঅ্যাপ করে পাঠালেন ছবি

চালচুলো নেই, মলিন পোশাক। গত কয়েক দিন ধরেই চন্দনগরের বারাসত এলাকায় জিটি রোডের ধারে বসেছিলেন এক বৃদ্ধা। ঘটনাটি নজর এড়ায়নি স্থানীয় বাসিন্দারা। কে তিনি? কোথায় থেকে এসেছেন? পথচারীদের অনেকেই ওই বৃদ্ধার সঙ্গে কথা বলে নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা করেন। কিন্তু কারও কাছেই কিছু বলতে চাইতেন না তিনি। মাঝে মাঝে দুর্বোধ্য় ভাষায় কে যে বিড়বিড় করতেন, তাও বোঝা যেত না। এদিকে দিন দিন ওই বৃদ্ধের শারীরিক অবস্থারও অবনতি হচ্ছিল। শেষপর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহায্যে তাঁকে চন্দননগর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করে দেন অভীক মুখোপাধ্যায় নামে এক শিক্ষক। স্রেফ হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দিয়েই ক্ষান্ত হননি তিনি। ওই বৃদ্ধার পরিবারে লোকেদেরও খোঁজ করতে শুরু করেন অভীক। আর তাতেই মেলে সাফল্য।

আরও পড়ুন: নিষেধাজ্ঞা উড়িয়েই এই রাজ্যে চলছে নাড়া পোড়া, ফিরছে দিল্লি দূষণের ভয়াবহ স্মৃতি

জানা গিয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর ওই বৃদ্ধার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দেন অভীক। ছবি দেখেই ওই শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন হ্যাম রেডিও-র চন্দনগরের প্রতিনিধি সৌরভ গোস্বামী। তিনি নিজে হাসপাতালে ওই বৃদ্ধাকে দেখতেও যান। কথাবার্তা শুনে বুঝতে পারেন, তিনি কোনও আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলছেন। ওই বৃদ্ধার ছবি-সহ বিবরণ আবার হ্যাম রেডিও অপারেটরদের গ্রুপে পোস্ট করেন সৌরভ। জানা যায়, ওই বৃদ্ধার নাম ভানিতা বেন। গুজরাতের রাজকোটের মোভিয়া গ্রামে থাকেন তিনি। মাস চারেক আগে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন ভানিতা।  এরপর কোনওভাবে চলে আসেন চন্দননগরে। খবর দেওয়া হয় ভনিতার বাড়িতে।  মঙ্গলবার গুজরাট থেকে চন্দননগর হাসপাতালে আসেন ভনিতা বেনের পরিবারের লোকেরা। ঘরের লোককে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছেন তাঁরা।  হাসপাতাল ছাড়ার আগে ওই বৃদ্ধার হাতে নতুন জামা ও কিছু টাকা তুলে দেন মহকুমাশাসক মৌমিতা সাহা।