বাংলা ও বিহারকে ভাগ নাকি কেন্দ্রীয় সরকার নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গড়ার পরিকল্পনা করেছে। ধর্মতলার ধর্না মঞ্চ থেকে শনিবার এই বিস্ফোরক অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও, তিনি তা হতে দেবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

বাংলা ও বিহারকে ভাগ নাকি কেন্দ্রীয় সরকার নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গড়ার পরিকল্পনা করেছে। ধর্মতলার ধর্না মঞ্চ থেকে শনিবার এই বিস্ফোরক অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও, তিনি তা হতে দেবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সূত্রের খবর, নবম কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনা করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরি হবে। বিহারের ৪টি জেলা এবং পশ্চিমবঙ্গের ২টি জেলা। এনিয়ে মমতা বলেন, " বাংলায় হাত দিয়ে দেখাক।" এদিকে, রাজ্য বিজেপি বলছে, কেন্দ্রের এমন কোনও পরিকল্পনা নেই। মুখ্যমন্ত্রী এসব বলে নজর ঘোরাতে চাইছেন। তাঁর কথা কেউ বিশ্বাস করে না। ডিএ দিতে না পেরে তিনি নজর ঘোরাতে চাইছেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কী বলেছেন মমতা

তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্র সরকার 'বঙ্গভঙ্গ' করার পরিকল্পনা করছে। বাংলা ও বিহার নিয়ে এই পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন মমতা। এরপরেই মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কার ইউনিয়ন টেরিটরি তৈরি করতে দেব না। মমতা বলেন,"বাংলা ও বিহারকে ভাগ করে নাকি ইউনিয়ন টেরিটোরি করবে। আরে বাংলায় হাত দিয়ে দেখো। ওদের ধান্দা হচ্ছে বাংলাকে ভাগ করা। আবার একটা বঙ্গভঙ্গ করা। বিহারকে একবার ভাগ করেছে। বিহার থেকে ঝাড়খণ্ড হয়েছে। আবার বিহারকেও ভাগ করার চেষ্টা করছে। ডাবল ইঞ্জিন সরকার যেখানেই থাকবে সেখানেই লুটেপুটে খাবে। এটাই ওদের কাজ। করছে লুট, বলছে ঝুট।"

সম্প্রতি, কয়েকটি রাজ্যে রাজ্যপাল ও লেফটেন্যান্ট গভর্নর বদল করেছে কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হয়েছেন আরএন রবি। এত দিন তামিলনাড়ু রাজ্যপাল ছিলেন তিনি। একদা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এবং আইবি-তেও ছিলেন রবি। এবার ভোটমুখী বাংলার দায়িত্ব তাঁর কাঁধেই সপে দিলেন রাষ্ট্রপতি। এছাড়াও, বিহারে আরিফ মহম্মদের জায়গায় এসেছেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনান্ট জেনারেল সৈয়দ আটা হাসনাইন (Lt. Gen. Syed Ata Hasnain)। এই দুই নিয়োগ নিয়েই যাবতীয় জল্পনার সূত্রপাত হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন এই দুই নিয়োগের পিছনে কেন্দ্রের কোনও পরিকল্পনা রয়েছে। এনিয়ে নানা জল্পনাও ছড়িয়েছে। সূত্রের খবর, পশ্চিবঙ্গের মালদা, উত্তর দিনাজপুর ও বিহারের পূর্ণিয়া, আরারিয়া, কিষাণগঞ্জ, কাটিহার নিয়ে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন করা হতে পারে। এক্ষেত্রে যুক্তি হল, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের প্রবেশের ফলে এই জেলাগুলির জনবিন্যাস পাল্টে গিয়েছে। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল না করা হলে এখানবার আদি বাসিন্দাদের অস্তিত্ব থাকবে না। বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যপাল পদে বদল সেই পরিকল্পনার প্রাথমিক অংশ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

দাবি ওড়াল বিজেপি

এনিয়ে রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এসব কথা কেউ বিশ্বাস করে না। কোনও বাঙালি বিশ্বাস করে না। তিনি ডিএ না দিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, দিন ৫০ টাকা বেকার যুবকদের দিয়ে হাওয়া তোলার চেষ্টা করছেন। যা বাজেট তাতে ৮০ হাজারের কাছাকাছি বেকারকে ভাতা দিতে পারবেন। এদিকে আবেদন করছেন লক্ষ লক্ষ যুবক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালাকি, মিথ্যা কথায় বাঙালি আর ভুলবে না। ২৬-র নির্বাচনে এই সরকারের বিসর্জন হবে। বিজেপি সরকার গড়বে।"