মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার রাজ্যের সমস্ত অনুমোদনহীন টোল গেট, ড্রপ গেট ও ব্যারিকেড অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা বিনা অনুমোদনের টোল গেট, ড্রপ গেট ও ব্যারিকেডের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র নেতৃত্বাধীন প্রশাসন নির্দেশ দিয়েছে, অনুমোদনহীন সমস্ত টোল গেট অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং সেখান থেকে আর কোনও ধরনের টাকা তোলা যাবে না।

মঙ্গলবার রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব মনোজকুমার অগ্রবাল-এর দফতর থেকে এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় যেসব টোল গেট বা টাকা তোলার পয়েন্ট সরকারি অনুমোদন ছাড়া চালানো হচ্ছে, সেগুলিকে দ্রুত চিহ্নিত করে বন্ধ করার ব্যবস্থা নিতে হবে।
নির্দেশিকায় প্রত্যেক জেলাশাসককে বলা হয়েছে, তাঁরা যেন নিজেদের জেলার সমস্ত অনুমোদনহীন টোল গেট, ড্রপ গেট ও ব্যারিকেড চিহ্নিত করেন এবং দ্রুত তা বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে কোনও নতুন টোল গেট যথাযথ অনুমতি ছাড়া চালু না হতে পারে, সেই বিষয়েও নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকেই এই নির্দেশ কার্যকর হবে। শুধু বেআইনি টোল গেট বন্ধ করাই নয়, কোথায় কোথায় সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত টোল গেট রয়েছে, তারও একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই তালিকায় উল্লেখ করতে হবে—
কোন টোল গেট অনুমোদিত
কোন সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ সেখানে টাকা তোলে
সংগৃহীত অর্থ কোথায় জমা পড়ে
আগামী শুক্রবার দুপুর ১২টার মধ্যে এই তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত শনিবার রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর সোমবারই নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠক শেষে তিনি জানান, তাঁর সরকার “সুশাসন ও সুরক্ষা”-র নীতিতে চলবে। একই সঙ্গে বিজেপিশাসিত অন্যান্য রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গেও “ডবল ইঞ্জিন সরকার”-এর মডেল অনুসরণ করা হবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
তার পরের দিনই প্রশাসনের তরফে এই কড়া নির্দেশিকা জারি হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজ্যের বহু জায়গায় দীর্ঘদিন ধরেই বেআইনি ভাবে টাকা তোলার অভিযোগ উঠছিল। পরিবহণ ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ যাত্রী— অনেকেই অতিরিক্ত অর্থ আদায় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের একাংশ স্বস্তি পেতে পারেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
