2026 West Bengal Legislative Assembly Election: রাজ্যে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হয়ে গিয়েছে। বুধবার দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ হতে চলেছে। তার আগে হাওড়ার সাঁতরাগাছি ঝিল সংলগ্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ধরা পড়ল। এই অঞ্চলের বাসিন্দারা ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছেন।

DID YOU
KNOW
?
ভোট বয়কটের ডাক
হাওড়ার সাঁতরাগাছি ঝিলপাড়ে খানাখন্দে ভরা রাস্তার প্রতিবাদে ভোট বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছে।

Vote Boycott: পিচের চিহ্নমাত্র নেই। ঢালাই রাস্তা বেশিরভাগ জায়গাতেই ভাঙা। কোনও কোনও জায়গায় ইট ফেলা হয়েছে। বাকি জায়গায় গর্ত, খানাখন্দ, মাটির রাস্তা। কোনও প্রত্যন্ত অঞ্চল না, পরিযায়ী পাখির জন্য বিখ্যাত হাওড়ার সাঁতরাগাছি ঝিলের দক্ষিণ দিকের রাস্তার এই অবস্থা। গত দেড় দশকে এই অংশেই একের পর এক বহুতল গজিয়ে উঠেছে। রাস্তার হতশ্রী দশার ফলে ওই অঞ্চলের পুরনো বাসিন্দাদের পাশাপাশি বহুতলগুলির বাসিন্দারাও সমস্যায় পড়েছেন। রাস্তা চওড়া না হওয়ায় এই রাস্তায় বড় গাড়ি নিয়ে যাওয়া যায় না। এখন এমন অবস্থা যে কোনও টোটোও এই রাস্তায় যেতে চায় না। ফলে অসুস্থ ও বয়স্ক ব্যক্তিরা সমস্যায় পড়েছেন। এই কারণেই স্থানীয় বাসিন্দারা ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছেন।

‘ভোট দিতে যাব না,’ স্পষ্ট বার্তা স্থানীয়দের

স্থানীয় বাসিন্দা অরুণ গোস্বামী বললেন, ‘প্রায় আট বছর ধরে হাওড়া পুরসভায় নির্বাচিত বোর্ড নেই। আমরা কোনও পুর পরিষেবা পাই না। এর মধ্যে গত বছর হঠাৎ মাটি কাটার মেশিন এনে আমাদের ঝিলপাড়ের রাস্তা লন্ডভন্ড করে দেওয়া হল। তারপর রাস্তা সারানোর কোনও উদ্যোগ দেখা গেল না। উল্টোদিকে রেলের জায়গায় রাস্তা সারানো হয়েছে। কিন্তু আমাদের এদিকের রাস্তা সারানোর ব্যবস্থা করল না রাজ্য সরকার। আমরা কি কোনও অপরাধ করেছি যে ভালো রাস্তা পাওয়ার অধিকার নেই? পাড়ায় সমাধানের নামে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের বাড়ির সামনে বা কিছু গলিতে নতুন রাস্তা করা হয়েছে। আমাদের এখানে রাস্তার দিকে সরকারের নজর নেই।’ সঞ্জিৎ ঘোষ নামে অপর এক স্থানীয় বাসিন্দা বললেন, ‘স্থানীয় বিধায়ক নন্দিতা চৌধুরী ফের প্রার্থী হয়েছেন। উনি এসে আমাদের এখানের রাস্তা দেখে যান। রাস্তা সারানো না হলে আমরা কেউ ভোট দিতে যাব না। আমরা এবার ভোট বয়কট করছি।’

মানুষের ক্ষোভ মেনে নিয়েও দাম্ভিক আচরণ শাসক দলের

স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী অমর ভুঁইয়া খারাপ রাস্তা নিয়ে মানুষের ক্ষোভের কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধির কারণে ঝিলপাড়ের রাস্তা সারানো যাচ্ছে না। ভোট মিটলেই নতুন করে রাস্তা তৈরি হবে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা যখন রাস্তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছিলেন, তখন সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন শাসক দলের এক কর্মী। তিনি সদম্ভে বললেন, 'ভোট বয়কট, এসব চলবে না। সব ভোট দিদি পাবে।' এ কথা বলে তিনি ভাঙা রাস্তা দিয়েই ধীর পায়ে এগিয়ে গেলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের চতুর্থবার সরকার গঠনের পথ মসৃণ হবে না সাঁতরাগাছি ঝিলপাড়ের রাস্তার মতোই হবে, তা জানা যাবে ৪ মে।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।