জমি-বাড়ি রেজিস্ট্রিতে জালিয়াতি পাকাপাকিভাবে বন্ধ করা যায়, তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছিল রাজ্য সরকার। অবশেষে মিলেছে সমাধান। সৌজন্যে একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ—নাম ‘আপনি’। এই অ্যাপের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি অফিসে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতার পরিচয় যাচাই করা হবে। পরিচয় যাচাই সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই শুরু হবে রেজিস্ট্রির মূল প্রক্রিয়া।

আপনার জমি বিক্রি হয়ে গিয়েছে, অথচ আপনি কিছুই জানেন না! যখন জানতে পারলেন, তত দিনে অন্যের নামে রেজিস্ট্রি হয়ে গিয়েছে আপনার সম্পত্তি। সাম্প্রতিক অতীতে এমন একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। জমি জালিয়াতির এই ধরনের ঘটনা রুখতে রেজিস্ট্রির সময় জমির মালিকের মোবাইলে ওটিপি পাঠানোর ব্যবস্থা চালু করেছিল রাজ্যের পূর্বতন সরকার। কিন্তু সেই ব্যবস্থা খুব একটা কার্যকর হয়নি বলেই খবর। তাই কীভাবে জমি-বাড়ি রেজিস্ট্রিতে জালিয়াতি পাকাপাকিভাবে বন্ধ করা যায়, তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছিল রাজ্য সরকার। অবশেষে মিলেছে সমাধান। সৌজন্যে একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ—নাম ‘আপনি’। এই অ্যাপের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি অফিসে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতার পরিচয় যাচাই করা হবে। পরিচয় যাচাই সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই শুরু হবে রেজিস্ট্রির মূল প্রক্রিয়া।

অর্থাৎ, কেউ আসল মালিকের পরিচয় ব্যবহার করে অন্যের সম্পত্তি বিক্রি করতে গেলে রেজিস্ট্রি অফিসেই ধরা পড়ে যাবে। এর ফলে জমি জালিয়াতির অসাধু চক্রে বড়সড় ধাক্কা দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে প্রশাসন। নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহ থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে বিধাননগরে ‘আপনি’ অ্যাপ চালু করা হবে। দু’সপ্তাহের ট্রায়াল রানের পর রাজ্যজুড়ে এই ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যবাসী এই নতুন ব্যবস্থার সুবিধা পেতে শুরু করতে পারেন।

কীভাবে কাজ করবে ‘আপনি’ অ্যাপ?

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রেজিস্ট্রির জন্য আবেদন করার পর ক্রেতা ও বিক্রেতা—দু’জনকেই একটি করে কুয়েরি বা অ্যাপ্লিকেশন নম্বর দেওয়া হবে। সেই পর্যায়েই প্রাথমিক আধার যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরপর ক্রেতা ও বিক্রেতাকে নিজেদের মোবাইলে ‘আপনি’ অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে। সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে অ্যাপটির আকার মাত্র ৪ এমবি রাখা হয়েছে। ফলে মোবাইলে খুব বেশি জায়গা দখল করবে না। পাশাপাশি, অ্যাপটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে সহজেই ব্যবহার করতে পারেন সাধারণ মানুষ। অ্যাপ ডাউনলোড করার পর নির্দিষ্ট কুয়েরি নম্বর দিতে হবে। এরপর নিজের সামনে মোবাইল ফোন ধরে চোখের পাতা দু’বার ফেললেই একটি বার্তা নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টালে চলে যাবে। সেই বার্তা দেখতে পারবেন শুধুমাত্র রেজিস্ট্রার বা রেজিস্ট্রি অফিসের সংশ্লিষ্ট আধিকারিক।

রেজিস্ট্রি অফিসে বসেই হবে যাচাই

এই পরিচয় যাচাইয়ের গোটা প্রক্রিয়াটি করতে হবে রেজিস্ট্রির জন্য নির্ধারিত দিনে এবং রেজিস্ট্রি অফিসে বসেই। কারণ, ‘আপনি’ অ্যাপে জিও-ফেন্সিংয়ের ব্যবস্থা থাকছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে থেকে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না। ক্রেতা ও বিক্রেতার পরিচয় সফলভাবে যাচাই হওয়ার পরেই রেজিস্ট্রির মূল প্রক্রিয়ায় যাওয়ার অনুমতি মিলবে। কোনও কারণে পরিচয় যাচাইয়ে সমস্যা হলে সেখানেই থমকে যাবে জমি বা বাড়ি বিক্রির রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া। ফলে অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়ো বিক্রেতা সাজা বা জাল নথির মাধ্যমে সম্পত্তি হাতবদলের মতো ঘটনা অনেকটাই আটকানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

শীঘ্রই পেপারলেস রেজিস্ট্রেশন

এদিকে, রাজ্যে শীঘ্রই চালু হতে চলেছে পেপারলেস রেজিস্ট্রেশন এবং জমি-বাড়ি বিক্রির জন্য অনলাইন স্লট বুকিং পরিষেবাও। রাজ্য বাজেটেই স্বচ্ছ ও তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের আশা, ‘আপনি’ অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই, পেপারলেস রেজিস্ট্রেশন এবং অনলাইন স্লট বুকিং—এই একাধিক প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের ফলে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে। পাশাপাশি জমি-বাড়ি রেজিস্ট্রেশন থেকে রাজ্যের রাজস্ব আদায়ও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে সরকার।