এদিন ফরাক্কা বিডিও অফিস চত্বরে সমস্ত বিএলও একযোগে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। বিক্ষোভ চলাকালীনই তাঁরা তাঁদের ইস্তফাপত্র ইআরও-র হাতে তুলে দেন।
এসআইআর শুনানি ঘিরে রণক্ষেত্রে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা। বিডিও অফিসে ঢুকে ভাঙচুর তৃণমূলের। স্থানীয় বিধায়ক মণিরুল ইসলামের নেতৃত্বে তৃণমূল কর্মীরা বিডিও অফিসে ঢুকে চেয়ার, টেবিল ভাঙচুর করে। কাগজপত্র ছিঁড়ে দেয়। বুধবার সকাল সাড়ে দশটা থেকে বিএলওদের বিক্ষোভ চলছিল। ৪২ জন বিএলও ইস্তফা দেন এ দিন। তাঁদের দাবি, তাঁরা সাধারণ মানুষের কাছে হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। দুপুরে তৃণমূলের একদল নেতা বিডিও অফিসে এসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বেলা দেড়টা নাগাদ আসেন তৃণমূলের বিধায়ক মনিরুল ইসলাম। এরপরেই তৃণমূলের সদস্যরা বিডিও অফিসে ঢুকে ভাঙচুর করেন। বিধায়ক নিজেই এসআইআর-র বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। বিডিও জুনায়েদ আহমেদ এই ঘটনায় কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি।
এদিন ফরাক্কা বিডিও অফিস চত্বরে সমস্ত বিএলও একযোগে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। বিক্ষোভ চলাকালীনই তাঁরা তাঁদের ইস্তফাপত্র ইআরও-র হাতে তুলে দেন। বিএলওদের দাবি, কমিশনের নির্ধারিত নির্দেশ মেনে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে অ্যাপে আপলোড করার পরেও বারবার নতুন নথি চাওয়া হচ্ছে এবং একাধিকবার সংশোধনের নির্দেশ আসছে। ফলে সাধারণ মানুষকে ঘন ঘন ডাকা হচ্ছে, যার কারণে সাধারণ মানুষ হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। বিএলওদের আরও অভিযোগ, এই গোটা প্রক্রিয়ার দায় তাঁদের ঘাড়েই চাপানো হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্য়ায়ে পৌঁছয় যে হেয়ারিংয়ের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা-কর্মীরাও বিডিও অফিস চত্বরে অবস্থান বিক্ষোভে যোগ দেন। অবিলম্বে এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে স্লোগান ওঠে। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ফরাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলাম ও দলের অন্যান্য নেতৃত্ব। এক পর্যায়ে তৃণমূল কর্মীরা হেয়ারিং ক্যাম্পে ভাঙচুর চালায়। এরপর তাঁরা বিডিও-র চেম্বারে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। ভেঙে দেওয়া হয় তাঁর ঘরের বেশ কিছু চেয়ার এবং কাচের টেবিল। পাশাপাশি ভাঙচুর করা হয় চেম্বারে রাখা অন্য বেশ কিছু জিনিস। উল্টে ফেলা হয় দরকারি সরকারি নথি। ভাঙচুরের ঘটনার পর বিডিও অফিসে নির্বাচন সংক্রান্ত সমস্ত কাজ থমকে যায় আজ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।
ফরাক্কার বিধায়ক মণিরুল ইসলাম বলেন, 'ধর্ম দেখে দেখে হেয়ারিং করা হচ্ছে। এই সংক্রান্ত সমস্ত অভিযোগ আমার কাছে রয়েছে। এই ধরনের হেয়ারিং কোনওভাবেই হতে দেওয়া হবে না। কোনও ব্যক্তির ৬-৭ জন সন্তান থাকলে তাঁকে অদ্ভুত সব কাগজ দেখাতে বলা হচ্ছে। আমরা আর কোনও কাগজ দেখাব না। বিডিও অফিসে ধরনা চলবে। ফরাক্কার মানুষকে বাঁচাতে গেলে যদি আমাকে গুলি খেতে হয় আমি তাতেও রাজি।'


