Burdwan News: সুপ্রিম রায়ে একসঙ্গে চাকরি চলে গিয়েছে ছেলে-বউমার। ঘরের ছেলে-বউয়ের চাকরি হারানোর যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন মা (Death News)। বিস্তারিত জানতে সম্পূর্ণ প্রতিবেদন পড়ুন… 

Burdwan News: সুপ্রিম রায়ে একসঙ্গে চাকরি চলে গিয়েছে ছেলে-বউমার। ঘরের ছেলে-বউয়ের চাকরি হারানোর যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন মা (Death News)। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের সোনাকূড় গ্রামে। একে চাকরি হারানোর যন্ত্রণা তার উপর মায়ের অকাল মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সূত্রের খবর, পূর্ব বর্ধমানের সোনাকূড় গ্রামের বাসিন্দা অর্ণব যশ ও তার স্ত্রী চন্দ্রানী দত্ত দুজনেই পেশায় হাইস্কুলের শিক্ষিকা। অর্ণব ছিলেন বীরভূমের চাতরা গণেশলাল হাইস্কুলের একমাত্র ভূগোলের শিক্ষক। ও তার স্ত্রী ছিলেন বীরভূমের নওয়াপাড়া হাইস্কুলের ভূগোল শিক্ষিকা। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে একসঙ্গে চাকরি চলে গিয়েছে স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই। ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার।

এদিকে শীর্ষ আদালতের ২০১৬ সালের সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিলের রায়ে ভেঙে পড়েন অর্ণবের মঞ্জুলা যশও। ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে গেলেও হয়নি শেষরক্ষা। ছেলে-বউয়ের চাকরি হারানোর শোকেই মারা যান তিনি। ঘটনার শোকের ছায়া নেমে এসেছে পূর্ব বর্ধমানের সোনাকূড় গ্রামে।

এই বিষয়ে চন্দ্রানী দত্তের দিদি বলেন, ''আমার বোন সারা দিনরাত এককরে পড়াশোনা করেই চাকরি পেয়েছে। সাতবছর চাকরি করার পর হঠাৎ করে চাকরি চলে গেলে এখন তাঁদের কী হবে? কীভাবে চলবে সংসার?'' শুধু তাই নয়, সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে পরিবারের লোকের দাবি, কলকাতা হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পর থেকেই মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত ছিলেন ওই বৃদ্ধা। এদিন সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে নিতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। পরিজনদের আরও দাবি, হঠাৎ করে চাকরি চলে যাওয়ায় একেই মনের অবস্থা ভালো নেই অর্ণব-চন্দ্রাণীর। তার উপর মায়ের মৃত্যুতে আরও ভেঙে পড়েছেন তাঁরা।

প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করার কোনও প্রয়োজনীয়তা বোধ করছে না আদালত।’ অর্থাৎ ২০১৬ সালের এসএসসি তে ২৬ হাজারের যে নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ সেই নির্দেশই বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। অর্থাৎ ২৫,৭৫৩ জনের চাকরি বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট‌। বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণার পর ভেঙে পড়েন সদ্য চাকরি হারা বাংলার বহু শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে