যে বিজেপি কর্মীর মৃত্যু ঘিরে কয়েকদিন আগেই তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল কলকাতা থেকে বীরভূম পর্যন্ত, সেই স্বরূপ গড়াইয়ের স্ত্রীই রাতারাতি তৃণমূল সমর্থক হয়ে গেলেন। বোলপুরে তৃণমূল পার্টি অফিসে এসে অনুব্রত মণ্ডলের পাশে বসে নিজেই জানালেন এ কথা। কিন্তু কয়েকদিন আগে নিজের স্বামীর মৃত্যুর পরে যিনি প্রকাশ্যেই শাসক এবং পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন, রাতারাতি কোন জাদুতে তিনি তৃণমূল সমর্থক হয়ে গেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। 

গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নানুরের রামকৃষ্ণপুরের গড়াইপাড়াতে স্বরুপ গড়াই নামে এক গ্রামবাসী গুলি বিদ্ধ হন। তাঁর বুকে গুলি লাগে। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে গুরত্বর আহত হয় স্বরুপের বাবা ভুবন গড়াই। স্বরূপকে কলকাতাতে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। আগাগোড়াই স্বরূপকে নিজেদের সমর্থক বলে দাবি করেন বিজেপি নেতারা। স্বরূপের মৃতদেহ কলকাতায় বিজেপি পার্টি অফিসে নিয়ে যাওয়া নিয়ে পুলিশ এবং বিজেপি-র মধ্যে তীব্র টানাপোড়েন শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত একরকম জোর করেই ওই বিজেপি কর্মীর মৃতদেহ বীরভূমে নিয়ে গিয়ে দাহ করতে বাধ্য করে পুলিশ। পরেব মুকুল রায়, সাংসদ সৌমিত্র খাঁয়ের  মতো বিজেপি নেতা, সাংসদরা  স্বরূপের বাড়িতে আসেন। 
বেশ কয়েকজন তৃণমূল সমর্থকের বিরুদ্ধে নানুর থানায় স্বরূপ গড়াইকে খুনের অভিযোগ দায়ের হয়। মৃত্যুর আগে জবানবন্দিও দিয়েছিলেন ওই বিজেপি কর্মী। 

এ দিন সকালে কলকাতায় নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারের সদস্যকে তর্পণ কর্মসূচি পালিত হয়। সেখানে অবশ্য স্বরূপ গড়াইয়ের পরিবারের কেউ যাননি বলেই খবর। শনিবার বিকালে বোলপুরে তৃনমূলের জেলা পার্টি অফিসে আসেন মৃত স্বরূপ গড়াইয়ের স্ত্রী চায়না গড়াই। তাঁর সঙ্গে ছিলেন  নানুরের রামকৃষ্ণপুর গ্রামে খুন হয়ে যাওয়া স্বরূপ গড়াই এর স্ত্রী চাইনা গড়াই। তার সঙ্গে ছিলেন বোলপুর কেন্দ্রের তৃনমুল সাংসদ অসিত মাল। পার্টি অফিসে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন, তৃনমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মন্ডল সহ অনান্য নেতৃত্ব। 

পরে  সংবাদমাধ্যমের সামনে চায়না গড়াই দাবি করেন, তাঁরা বরাবরই তৃণমূল করতেন। আমার স্বামী, আমি এবং আমাদের পরিবার বরাবরই তৃণমূল করতাম। বিজেপি নেতাদের সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ হল তাও তিনি জানেন না, বলেও দাবি করেন নিহত বিজেপি কর্মীর স্ত্রী। কেন তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, সেই প্রশ্নের জবাবও এড়িয়ে যান নিহত স্বরূপ গড়াইয়ের স্ত্রী। তাঁকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করার সময় আপত্তিও জানান তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। 

এর পরেই সাংসদ অসিত মাল নানুর ওসিকে লেখা চায়না গড়াইয়ে একটি অভিযোগ পত্র পড়ে শোনান। সেখানে চায়নাদেবী লিখেছেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর তাঁর অজান্তেই বিজেপি ষড়যন্ত্রে জনৈক অনুপ গড়াই নানুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, তাঁরা কেউই তাঁর স্বামীর মৃত্যুর জন্য দায়ী নন বলেও চিঠিতে দাবি করেছেন চায়না গড়াই। এই মামলা থেকে অভিযুক্তদের নাম বাদ গেলে তাঁর আপত্তি নেই বলেও জানিয়েছেন চায়না গড়াই।  

জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল বলেন, 'যে কোনও মৃত্যুই দুঃখজনক। স্বরূপের পরিবার বরাবর তৃণমূল করত। তৃনমূলকে ফাঁসাবার জন্য বিজেপি এই কাজ করেছে। সাংসদ অসিত মাল গিয়ে স্বরূপের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং ওঁর স্ত্রীকে বোলপুর পার্টি অফিসে নিয়ে আসেন।' যদিও এ বিষয়ে নিহত স্বরূর গড়াইয়ের পরিবারের বাকি সদস্যদের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রতিক্রিয়া দেননি জেলার বিজেপি নেতারা। তবে চায়না গড়াই প্রকাশ্যে তৃণমূলকে সমর্থনের কথা জানানোয় স্বভাবতই অস্বস্তিতে বিজেপি নেতারা।