একটা গেরুয়া রঙের কার্ড, আর একটি রাজস্থানী পাগড়ি। আর এই দুটি আপাত সামান্য জিনিস নিয়েই পুরুলিয়া জেলার রাজনৈতিক মহল এখন সরগরম। গেরুয়া রঙের কার্ডটি একটি বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র। আর তাতে রাজস্থানী পাগড়ি মাথায় ছবি রয়েছে রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী তথা দাপুটে তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারীর। অনুষ্ঠানটির আয়োজনও তৃণমূল কর্মীরাই করছেন বলে জানা গিয়েছে, কিন্তু কার্ডে তাদের পরিচয় 'দাদার অনুগামী'। আর এই নিয়েই আরও একবার খুঁচিয়ে উঠেছে জল্পনা, শুভেন্দু অধিকারীর মনেও কি লাগল গেরুয়া রঙের ছোঁয়া?

শুভেন্দু বরাবরই তৃণমূলের মধ্যে থেকেও স্বতন্ত্র হিসাবেই পরিচিত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর জনভিত্তির নিরিখে তর্কযোগ্যভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন তিনিই। একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত সৈনিকের সঙ্গে এখন দল ও সরকারের ক্রমশ দূরত্ব বাড়ছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচী এবং সরকারি অনুষ্ঠান তিনি নাকি ইদানিং এড়িয়েই যাচ্ছেন। যেসব কর্মসূচীতে দেখা যাচ্ছে, সেখানেও তাঁর পরিচয় শুধুই শুভেন্দু অধিকার, মন্ত্রী বা দলের নেতা হিসাবে তিনি পরিচয় দিতে চাইছেন না, এমনটাই শোনা যাচ্ছে।

তবে গেরুয়া আমন্ত্রণপত্রের পিছনে এমন কোনও কারণ নেই বলেই দাবি করা হয়েছে আয়োজকদের পক্ষ থেকে। কার্ডে 'দাদার অনুগামী' পরিচয় দিলেও তাঁরা নিজেদের তৃণমূলের সৈনিক হিসাবেই দাবি করেছেন। দলের পক্ষ থেকে সরাসরি বিজয়া সম্মিলনীর মতো অনুষ্ঠান করা হয় না বলেই তাঁদের ও শুভেন্দু অধিকারীর দলীয় বা সরকারি পরিচয় দেওয়া হয়নি আমন্ত্রণপত্রে। এমনটাই দাবি আয়োজকদের।

কিন্তু, হঠাৎ গেরুয়া রঙ? তৃণমূলের নামে হোক কি বেনামে, মঞ্চ থেকে আমন্ত্রণপত্রের ধরা-বাধা রঙ দিদির পছন্দের নীল-সাদা। গেরুয়া রঙের ব্যবহার নিয়ে আয়োজকরা কিছু বলতে না চাইলেও জেলা বিজেপির পক্ষ থেকে 'অনেকেরই তৃণমৃলে মোহভঙ্গ হয়েছে' বলে জল্পনার পালে আরও হাওয়া দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে তৃমমূলের শীর্ষ নেতৃত্বও শুভেন্দুর উপর অসন্তুষ্ট বলেই শোনা যাচ্ছে। অধিকারী গড় থেকে অবশ্য এখনও এই বিষয়ে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।