কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বুধবার বলেছেন যে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি একবার ক্ষমতায় এলে দার্জিলিংয়ের গোর্খা সমস্যার সমাধানে অগ্রাধিকার দেবে। অতীতে হিংসাত্মক আন্দোলনের জেরে গোর্খা সম্প্রদায়ের নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করে নেবে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বুধবার বলেছেন যে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি একবার ক্ষমতায় এলে দার্জিলিংয়ের গোর্খা সমস্যার সমাধানে অগ্রাধিকার দেবে। অতীতে হিংসাত্মক আন্দোলনের জেরে গোর্খা সম্প্রদায়ের নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করে নেবে। খারাপ আবহাওয়ার কারণে দার্জিলিঙে লেবঙের সভাস্থলে পৌঁছতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হেলিকপ্টার। বিমানে করে বাগডোগরায় নামলেও সেখান থেকে তাঁর হেলিকপ্টার ওড়ার অনুমতি মেলেনি। সেই কারণে চলে যান মালদায়। সেখান থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্য়মে ভাষণ দেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

তিনি বলেন, "আজ আপনাদের মাঝে সশরীরে পৌঁছতে না পারায় আমি গভীরভাবে দুঃখিত। তবে আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি যে, আগামী ২১ এপ্রিল কার্শিওংয়ের সুকনায় নির্ধারিত জনসভায় আমি আপনাদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করব। সেখানে আমি দার্জিলিংয়ের মানুষের জন্য আমাদের যে উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।" তিনি আরও যোগ করেন, "আপাতত আমি শুধু এটুকুই বলব যে, বাংলায় আমরা সরকার গঠন করার পর আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হবে যত দ্রুত সম্ভব গোর্খা সমস্যার সমাধান করা। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর আমরা গোর্খা নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে বিচারাধীন সমস্ত পুলিশি মামলা প্রত্যাহার করে নেব।"

বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি বলেন যে, নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যজুড়ে চষে বেড়িয়ে তিনি যেসব সভা-সমাবেশে অংশ নিয়েছেন, তার ভিত্তিতে তিনি নিশ্চিত যে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিই তৃণমূল কংগ্রেসকে (TMC) পরাজিত করবে। অমিত শাহ এটাও জানান যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার কারণে তিনি গোর্খা সমস্যার সমাধানের জন্য অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু রাজ্য সরকারের সদিচ্ছার অভাবে তা বাস্তবায়িত হয়নি। শাহের কথায়, "দেড় বছরে আমি তিন বার বৈঠকের কথা বলেছি। কিন্তু মমতাদিদি বা ওঁর কোনও প্রতিনিধি দিল্লি যাননি। আমি চেয়েছিলাম পশ্চিমবঙ্গে এসে বৈঠক করব। সময়ও চাওয়া হয়। কিন্তু মমতাদিদি সেই সময়ও দেননি। মমতাদিদি চান না দার্জিলিঙে থাকা গোর্খারা ন্যায়, অধিকার পান। আপনারা চিন্তা করবেন না। ৫ মে বিজেপি সরকার গড়ার পর তার প্রথম কাজ হবে গোর্খাদের সমস্যার সমাধান। গোর্খাদের বিরুদ্ধে যা অভিযোগ, মামলা দায়ের হয়েছে, সব তুলে নেওয়া হবে।"

দার্জিলিং পাহাড়ের নেপালি-ভাষী ভারতীয়দের দীর্ঘ কয়েক দশকের দাবি পৃথক 'গোর্খাল্যান্ড' রাজ্য গঠন। যা নিয়ে অতীতে একাধিকবার হিংসা ছড়িয়েছে। ২০১১ সালে দার্জিলিংয়ের উঁচু এলাকা এবং পাদদেশের কিছু অংশ পরিচালনার জন্য আধা-স্বশাসিত 'গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন' (GTA) গঠিত হওয়া সত্ত্বেও ২০১৭ সাল পর্যন্ত সেখানে হিংসাত্মক আন্দোলন অব্যাহত ছিল।

এই অঞ্চলে স্থানীয় গোর্খা দলগুলো—যেমন 'গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা' (GJM) এবং 'গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট' (GNLF)—এবং বিজেপি ও তৃণমূলের মতো জাতীয় স্তরের বড় দলগুলোর মধ্যকার রাজনৈতিক জোট-সমীকরণে বহুবার উত্থান-পতন দেখা গেছে। আর এই পুরো প্রেক্ষাপটেই একটি পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবি সর্বদা রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করেছে। আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস অনীত থাপার নেতৃত্বাধীন 'ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা' (BJPM)-এর সঙ্গে আসন-বণ্টন নিয়ে একটি কৌশলগত জোট গঠন করেছে। উল্লেখ্য, 'ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা' হল বিমল গুরুংয়ের নেতৃত্বাধীন 'গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা' (GJM)-এরই একটি বিচ্ছিন্ন অংশ। টিএমসি দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কার্শিয়ং আসনগুলো তাদের জোটসঙ্গীর জন্য ছেড়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি আবারও গুরুংয়ের প্রতি সমর্থন নিশ্চিত করেছে। যদিও এবার এই অঞ্চলে গেরুয়া শিবির সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।