বাড়ির অমতে বিয়ের মাশুল শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে মেয়েকে কোপাল বাবা গুরুতর আহত অবস্থায় ওই তরুণী ভর্তি হাসপাতালে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ  

প্রাপ্ত বয়ষ্ক মেয়ে কথা শোনেনি, বাড়ির অমতে পালিয়ে গিয়ে প্রেমিককে বিয়ে করেছে। শ্বশুরবাড়িতে চড়াও হয়ে মেয়েকে কুপিয়ে খুনের চেষ্টা করল বাবা! ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগণার অশোকনগরে। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই তরুণী ভর্তি আরজিকর হাসপাতালে। এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রী এসে চা বানিয়েছিলেন, উচ্ছেদের কোপে দিঘার সেই চায়ের দোকান

আক্রান্তের নাম বর্ণালী মজুমদার। বছর তেইশের ওই তরুণীর বাড়ি অশোকনগরের জনকল্যাণ পল্লি এলাকায়। মাস তিনেক আগে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে শংকর হালদার নামে এক যুবককে বিয়ে করেন বর্ণালী। শংকর পেশায় কাঠের মিস্ত্রি। তিনি অশোকনগরেরই গোলবাজারে গোডাউন এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রায় তিন বছর ধরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু প্রথম থেকেই শঙ্করের সঙ্গে মেয়ের সম্পর্ক নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন বর্ণালীর বাড়ির লোকেরা। সবচেয়ে বেশি অমত ছিল বাবারই। শেষপর্যন্ত মাস তিনেক আগে শঙ্করের সঙ্গে ঘর ছাড়েন বর্ণালী। বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে সংসারও করছিলেন তিনি। জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে মেয়েকে বাড়ি ফিরিয়ে আনার জন্য তাঁর শ্বশুরবাড়িতে যান বর্ণালীর বাবা দুলাল মজুমদার। তখন ওই তরুণীকে বিয়ে মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বাপের বাড়িতে ফিরতে রাজি হননি বর্ণালী।

 রবিবার সকালে সাইকেলে চেপে ফের বর্ণালীর শ্বশুরবাড়িতে হাজির হন দুলাল। ঘরে ঢুকে নিজের মেয়েকেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে শুরু করে সে। এমনকী, বাধা দিতে গেলে ওই তরুণীর শাশুড়িকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আক্রান্ত ওই গৃহবধূর চিৎকারে যখন আশেপাশে লোকজন ছুটে আসেন, তখন চম্পট দেয় অভিযুক্ত। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে বর্ণালীকে ভর্তি করা হয়েছে কলকাতার আরজিকর হাসপাতালে। এদিকে এই ঘটনার পর হাওড়ার বেলুড়ে বোনের বাড়িতে আশ্রয় নেয় অভিযুক্ত দুলাল মজুমদার। গোটা ঘটনা জানার পর তাকে ঘরে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন ওই মহিলা। বেলুড়ে গিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেন অশোকনগর থানার আধিকারিকরা। পুলিশের তৎপরতার খুশি আক্রান্তে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা।