খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসে তাঁর দোকানে চা বানিয়ে নিজে হাতে সবাইকে খাইয়েছিলেন। সেই ছবি প্রচারিত হয়েছিল সংবাদমাধ্যেমে। রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে গিয়েছিল দিঘার রাধারানি স্টোর্স। দিন বদলের স্বপ্ন দেখেছিলেন দোকানের মালিক পরিমল জানা। ভেবেছিলেন, খোদ মুখ্যমন্ত্রী যখন এসেছেন তখন তাঁর দোকানের জন্য কিছু না কিছু করবেই প্রশাসন। 

কয়েক মাসের মধ্যেই অবশ্য স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে পরিমলবাবুর। দোকানের জন্য ভাল কিছু দূরে থাক, সরকারি জায়গা দখল করে থাকা দোকান এখন উচ্ছেদের ধাক্কা সামলে কোনওক্রমে চলছে। হতাশ পরিমলবাবুর প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রী এসে তবে লাভটা কী হল? 

গত অগস্ট মাসে দিঘা সফরে এসে একদিন বিকেলে হঠাৎই সায়েন্স সিটির সামনে পরিমলবাবুর দোকানে চলে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। তখন তাঁর সঙ্গে রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, সাংসদ, রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা। পরিমলবাবুর দোকানে ঢুকে নিজে হাতে সবার জন্য চা বানান মুখ্যমন্ত্রী। সেই সমস্ত এখনও পরিমলবাবুর দোকানে জ্বলজ্বল করছে। মুখ্যমন্ত্রী আসার পর থেকে পরিমলের দোকানে বিক্রিবাট্টাও বেশ বেড়ে গিয়েছিল। সরকারি জায়গার উপর থাকা দোকানের জন্য যাতে পাকাপাকি কোনও বন্দোবস্ত হয়, মুখ্যমন্ত্রী ফিরে যাওয়ার আগে তাঁর কাছে সেই আর্জি জানিয়েছিলেন পরিমল। তাঁর দাবি, বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। 

আরও পড়ুন- গ্রামের দোকানে ঢুকে নিজের হাতে চা বানালেন মুখ্যমন্ত্রী, দেখুন ভিডিও

এই ঘটনার পর থেকেই আশায় দিন গুনছিলেন পরিমল জানা। কিন্তু মাসখানেক আগে থেকেই দিঘায় রাস্তা এবং ফুটপাথ দখল করে থাকা দোকান এবং হকারদের উচ্ছেদ শুরু করে দিঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্যদ। সেই তালিকায় পড়ে রাধারানি টি স্টলও। নোটিশ পেয়ে নিজেই ফুটপাথ জুড়ে থাকা দোকান ভেঙে রাস্তা থেকে অনেকটা পিছিয়ে এনেছেন পরিমল। রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যাওয়া দোকান এখন অনেকটাই অগোছাল অবস্থায় রয়েছে। আগের তুলনায় দোকানে জায়গাও অনেক কমে গিয়েছে। প্রভাব পড়েছে ব্যবসাতেও। 

আগামী ১০ ডিসেম্বর ফের দিঘায় শিল্প সম্মেলনের উদ্বোধনে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিমলবাবুর আশা, আগের বারের ঘটনা মনে করে এবার নিশ্চয়ই তাঁর দোকানের উন্নতিতে কিছু নির্দেশ দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হতাশ পরিমলবাবুর প্রশ্ন, 'আমার বাড়িতে স্ত্রী, দুই মেয়ে রয়েছে। সংসার চলে এই দোকানের ভরসাতেই। ভেবেছিলাম মুখ্যমন্ত্রী আসায় এবারে আমাদের জন্য কিছু ব্যবস্থা করা হবে। উল্টে আমাদের উচ্ছেদ করা হল। দিদি যদি আমার জন্য এখানে একটা সরকারি স্টল করে দিতেন, খুব উপকার হতো। দিদি আমার কাছে চা খেয়ে গেলেন, কিন্তু আমার জন্য কিছুই হল না। এটাই আমার দুঃখ।'

পরিমলবাবুর দাবি, তাঁর জমি- জায়গা সবই সরকারি কাজের জন্য নিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁর এখন আশঙ্কা, দোকানের অবশিষ্ট অংশটুকুও হয়তো প্রশাসনের তরফে ভেঙে দেওয়া হবে। 

হতাশা থেকেই চা বিক্রেতা পরিমলবাবু বলেন, 'আমাকে অনেক টিটকিরি করে বলছেন, দিদি চা যাওয়ার পর তোর দোকান ভেঙে দিল। এবার দেখবি পুরোটাই তুলে দেবে।'