সন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। শেষপর্যন্ত চলন্ত ট্রেনেই প্রসব করলেন এক মহিলা। স্টেশন মাস্টারের তৎপরতায় মা ও সদ্যোজাতকে তড়িঘড়ি নিয়ে যাওয়া হল হাসপাতালে। সোমবার সকালে ঘটনা ঘটেছে পুরুলিয়ার বরাভূম স্টেশনে।

 

ওই মহিলার নাম মঞ্জু দত্ত। বাড়ি, পুরুলিয়ার বলরামপুরের রাঙ্গাডি গ্রামে। চলন্ত ট্রেনে তৃতীয় সন্তানের জন্ম দিলেন তিনি। সোমবার সকালে বাপের বাড়ি যাওয়ার জন্য গৌরিনাথধাম স্টেশন থেকে স্বামীর সঙ্গেই ট্রেনে উঠেছিলেন অন্তঃসত্ত্বা ওই গৃহবধূ। সঙ্গে ছিল দুই সন্তানও। ট্রেন তখন সবেমাত্র পুরুলিয়া স্টেশন ছেড়েছে। আচমকাই মঞ্জুর প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয় বলে জানা  গিয়েছে। বাথরুমে যাওয়ার পথে সন্তানের জন্ম দেন তিনি। প্রসবের পর ওই গৃহবধূকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন ট্রেনের এক মহিলা যাত্রী। কর্তব্যরত আরপিএফ জওয়ানদের মারফৎ খবর পাঠানো হয় বরাভূম স্টেশনের স্টেশন মাস্টারকে। আর দেরি করেননি তিনি।  রেল সূত্রে খবর, বরাভূম স্টেশনে আগেই থেকে দাঁড়িয়েছিল অ্যাম্বুল্যান্স। ট্রেন পৌঁছানোর পর অ্যাম্বুলেন্সে চাপিয়ে মঞ্জু ও তাঁর সদ্যোজাত সন্তানকে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় বাঁশবেড়িয়া গ্রামীণ হাসপাতালে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন ওই গৃহবধূ। মা ও সন্তান সুস্থ রয়েছে।

আরও পড়ুন: অফিসারের 'হেনস্থা', কর্তব্যরত অবস্থায় আত্মহত্যার চেষ্টা সিভিক ভলেন্টিয়ারের

আরও পড়ুন: রায়গঞ্জে শুরু হয়েছে প্রকৃতি পাঠ শিবির, বাবা-মা ছাড়াই জঙ্গলে রাত কাটাবে শিশুরা

এর আগে একই ঘটনা ঘটেছিল বীরভূমের রামপুরহাট স্টেশনে। সেবার ভিডিও কলে চিকিৎসকের পরামর্শে চলন্ত ট্রেনে এক মহিলার প্রসব করিয়ে দিয়েছিলেন সহযাত্রীরাই। হামসফর এক্সপ্রেস চড়ে সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন শিবা রামস্বামী নামে এক ব্যক্তি। জানা গিয়েছে, ট্রেন যখন নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের কাছে পৌঁছয়, তখন প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়। কিন্তু ট্রেনে কোনও চিকিৎসক ছিলেন না। এদিকে রক্তরক্ষণ শুরু হওয়ায় প্রসূতির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছিল। সহযাত্রীরাই ওই মহিলার প্রসব করানোর সিদ্ধান্ত নেন। ভিডিও কলে তাঁদের সাহায্য করেন এক চিকিৎসক।