ফোনে আলাপ হওয়া অপরিচিত যুবককেই বিশ্বাস করে ভালবেসেছিলেন। প্রেমিককে বিশ্বাস করেই তার হাতে আড়াই লক্ষের বেশি টাকা তুলে দিয়েছিলেন। সঙ্গে দিয়েছিলেন সোনার গয়নাও। শেষ পর্যন্ত অবশ্য সেসব কিছু নিয়েই পালিয়ে যায় অভিযুক্ত প্রেমিক। মেয়ের জন্য প্রায় সর্বস্ব খুইয়ে রাগ করে ওই যুবতীকেই বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন তাঁর বাবা- মা। বাধ্য হয়ে এখন পেট চালাতে পরিচারিকার কাজ করছেন ওই যুবতী। 

ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর চব্বিশ পরগণার হাড়োয়া থানা এলাকার পিলখানা এলাকায়। অভিযোগকারিণী যুবতীর সঙ্গে ২০১৬ সালে ফোনে এক যুবকের পরিচয় হয়। ওই যুবকের নাম সাদ্দাম মোল্লা। সে হুগলির ডানকুনির বাসিন্দা। ধীরে ধীরে দু'জনের মধ্যে গড়ে ওঠে। বর্তমানে ওই যুবতী বেঁড়াচাপার শহিদুল্লা কলেজ- এর তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। অভিযোগ, আলাপের পর থেকেই বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেমের অভিনয় করতে শুরু করে সাদ্দাম। বেশ কয়েক বার দু' জনের মধ্যে দেখাও হয়। এর পর থেকেই নানা অছিলায় যুবতীর কাছ থেকে টাকা হাতাতে শুরু করে ওই যুবক। 

অভিযোগ, প্রথমে হাড়োয়ার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক-এর মাধ্যমে ওই যুবকের অ্যাকাউন্ট-এ আড়াই লক্ষ টাকা অনলাইন ট্রান্সফার করে ওই যুবতী। এর পরে ওই যুবতীর বাড়িতেও আসে সাদ্দাম। সেখানেও যুবতীর পরিবারকে বুঝিয়ে গয়না এবং নগর টাকা নিয়ে চম্পট দেয় সাদ্দাম। সবমিলিয়ে যুবতীর থেকে নগদ ও সোনার গয়না মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকার  জিনিস নিয়ে গা ঢাকা দেয় ওই যুবক। তার পর থেকে ফোনে সাদ্দামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না ওই যুবতী। অভিযোগ, তাঁর নম্বরও ব্লকে দিয়েছে সাদ্দাম। 

জানা গিয়েছে, যুবতীর বাবা পেশায় দিনমজুর। মেয়ের বিয়ের জন্য যে টাকা তিনি জমিয়েছিলেন, তার পুরোটাই নিয়ে ধোঁকা দিয়েছে ওই যুবক। এই ঘটনার পর নিজেদের মেয়ের উপরেই রাগ করে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেন ওই যুবতীর বাবা মা।  

বাধ্য হয়ে এখন একটি বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করছেন ওই কলেজ ছাত্রী। তার পড়াশোনাও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অভিযুক্ত সাদ্দাম মোল্লার নামে হাড়োয়া থানায় প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছেন যুবতী। 

সাদ্দামের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি এই প্রতারণা চক্রে আর কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।