প্রত্যন্ত গ্রামের দেওয়ালে রং তুলি দিয়ে আঁকা সচেতনতার বার্তা। যামিনী রায়ের শিল্পকলা উপকরণের সাথে বর্তমান পরিস্থিতি মেলবন্ধন ঘটিয়ে একদল যুবক ও যুবতীর শিল্প ছোঁয়ায় ফুটে উঠেছে সচেতনতার শিল্পকলা। শহর থেকে দূরে আদিবাসী গ্রামে এমনই এক অভিনব চিত্রকলা করোনা আবহের মধ্যে গ্রামের মানুষকে করে তুলেছে সচেতন। গ্রামের মাটির দেওয়ালে রঙিন অভিনব চিত্রকলা করোনা  পরিস্থিতিতে সচেতনতার বার্তা দিচ্ছে গ্রামকে । বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর ব্লকের শিয়ালকোন্দায় গ্রামে মাস্ক নিয়ে এমনই সচেতনতার চিত্র ফুটে উঠেছে দেওয়াল গাত্রে।

বাঁকুড়ার প্রাচীন শহর বিষ্ণুপুর। শহরের কয়েকজন উদ্যোমী যুবক-যুবতী নিজেদের উদ্যোগে রং তুলি নিয়ে ছুটে গিয়েছেন শহর ছেড়ে দূরে এক আদিবাসী গ্রামে। একদিন বেড়াতে গিয়ে এই উদ্যোগে যুবকদের চোখে পড়ে প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রামে মানুষের মধ্যে সচেতনতা অভাব।  করোনা পরিস্থিতিতে ছোট্ট গ্রামের আদিবাসী মানুষজনকে সচেতনতার প্রয়োজন মনে করে তারা গ্রামে পৌঁছে গ্রামের মাটির দেওয়ালে দেওয়ালে রং তুলি দিয়ে সচেতনতা ছবি আঁকতে শুরু করেন। প্রায় ১০ দিন ধরে ওই যুবক যুবতীর দল গ্রামে গিয়ে গ্রামের দেওয়াল গুলিতে রঙিন ছবি এঁকে ফুটিয়ে তুলেছেন গ্রামের মানুষকে সচেতন করা এক অভিনব চিত্রকলা। 

দেওয়ালের গায়ে উদ্যোগী শিল্পীদের প্রচেষ্টায় ফুটে উঠেছে যামিনী রায় শিল্পকলার আদলে বর্তমান পরিস্থিতির মেলবন্ধন ঘটিয়ে সচেতনতা বার্তা। দেওয়াল গাত্রে ফুটে উঠেছে মাস্ক পরার এক অভিনব সচেতনতা। অদৃশ্য ভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক।  বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে গ্রামের মানুষের মধ্যে মাস্ক পরার  প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি করতে দেওয়ালের নানান আঁকা ছবি দেখে এই গ্রামের মানুষ  যেমন সচেতন হবেন,  তেমনই গ্রামে আসা বাইরের মানুষও সচেতন হবেন। দেওয়ালের আঁকা ছবিতে সামাজিক জীবনযাত্রা,  দেব দেবী এমন নানান ধরনের ছবিতে ফুটে উঠেছে মাস্কের ব্যবহার। সবমিলিয়ে গ্রামের আদিবাসী এই প্রান্তিক মানুষগুলোর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে এই প্রয়াস জানাচ্ছেন উদ্যমী শিল্পীরা।

বিষ্ণুপুর শহর থেকে খানিকটা দূরে  প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রাম শিয়ালকোন্দায়। ছোট্ট গ্রাম আট দশটি পরিবারের বসবাস। গ্রামের মানুষের প্রধান জীবিকা চাষবাস। গাছগাছালি মাঝেই ছোট্ট ছোট্ট মাটির বাড়ি একেবারেই সুন্দরভাবে সাজানো আদিবাসীদের এই গ্রাম। গ্রামেরই প্রান্তিক মানুষগুলো শহর থেকে আসা শিল্পীদের শিল্পকলার ভূয়শী প্রশংসা করেছেন তারা। দেওয়ালের ছবি দেখে তারা আজ সচেতন। বাড়ির বাইরে বের হলেই তাদের চোখে পড়ছে করোনা থেকে বাঁচতে মাস্ক পরা কতটা প্রয়োজন। তাই গ্রামের মানুষ বাড়ির বাইরে বের হলেই মাস্ক পরেই বের হন। আর বাইরে থেকে গ্রামে কেউ এলে তাদেরকেও মাস্ক পরতে অনুরোধ করছেন গ্রামের মানুষ। 

করোনা পরিস্থিতিতে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। আর সেই সচেতনতার বার্তা নিয়ে ছবি এঁকে গ্রামের মানুষকে সচেতন করার এই অভিনব প্রয়াস রীতিমতো সাড়া ফেলেছে। শিয়ালকোন্দায় মতো এমনই প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে এই উদ্যোগ গ্রামবাসীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে বলেই আশাবাদী সকলেই।