মাধ্যমিক না দিয়ে পাহাড়, জঙ্গলে ঘেরা পহ্যারি পটার-এর স্রষ্টা জে কে রাউলিং-এর নিজস্ব প্রকাশনা সংস্থার নতুন উপন্যাস-এর নাম 'দ্য হোয়াটস লেফট অফ দ্য জাঙ্গল।' ট্যুর গাইড নেত্রর রোমাঞ্চকর জীবন কাহিনিই সেই উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু।্রকৃতির মধ্যে ট্যুর গাইড-এর কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। প্রায় চব্বিশ বছর আগের সেই সিদ্ধান্ত যে তাঁকে এভাবে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেবে, কিছুদিন আগে পর্যন্ত ভাবতেও পারেননি বক্সার জঙ্গলের ট্য়ুর গাইড নেত্র প্রসাদ শর্মা। কারণ বছর চল্লিশের এই ছাপোষা ট্যুর গাইডই হ্যারি পটার-এর স্রষ্টা জে কে রাউলিং-এর বিখ্যাত প্রকাশনা সংস্থার নতুন উপন্যাসের মূল চরিত্র। আপাতত কয়েক মাস বাদেই ক্যালিফোর্নিয়ায় উড়ে গিয়ে নিজের ভাগ্য বদলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন নেত্র। বলা ভাল, নেত্রর মতো এক ছাপোষা গাইডের জীবন কাহিনিই ফুটে উঠবে নতুন উপন্যাসের পাতায় পাতায়। 

এতটুকু শুনের পুরোটাই হ্যারি পটার-এর গল্পের মতোই কল্পকাহিনি মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবটা হলো, নিজের পেশার সুবাদেই গোটা বিশ্বের কাছে পরিচিত হতে চলেছেন বক্সার নেত্র। ইতিমধ্যেই রাউলিং-এর প্রকাশনা সংস্থার সঙ্গে বই প্রকাশের জন্য তাঁর চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে। 

আরও পড়ুন- কী গল্প কলকাতাকে শোনাল রোবট কন্যা সোফিয়া, দেখুন সেরা ১২ ছবি

আরও পড়ুন- মাও উপদ্রুত এলাকার মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য বোর্ড পুলিশের, চালু হল বিশেষ হেল্পলাইন

কিন্তু নেত্রর সামনে কীভাবে এলো এই সুযোগ? ২৪ বছর আগে পেটের তাগিদেই বক্সার পাম্পু বস্তির বাসিন্দা নেত্র মাধ্যমিক না দিয়ে গাইড-এর জীবীকা বেছে নিয়েছিলেন। দু' যুগেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতায় হাতের তালুর মতো চেনেন বক্সার জঙ্গল এবং পাহাড়কে। পর্যটকদের কাছে নিজের কদর আরও বাড়াতে বাংলা, হিন্দি, গোর্খার পাশাপাশি কাজ চালানোর মতো ইংরেজিটাও শিখে নিয়েছিলেন তিনি। ফলে দেশ বিদেশের পর্যটকরাও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। 

সেরকমই ২০১০ সালে নীতিন শেখর নামে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ভারতীয় ছাত্র বক্সায় গবেষণার কাজ করতে আসেন। তখনই তাঁর সঙ্গে নেত্রর পরিচয় হয়। তৈরি হয়ে যায় বন্ধুত্ব। প্রায় তিন বছর নীতিন বক্সায় ছিলেন। খুব কাছ থেকে নেত্রর দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রোমাঞ্চ, ঝুঁকি প্রত্যক্ষ করেন তিনি। জঙ্গলে দীর্ঘদিন কাজ করার সুবাদে নেত্র নিজেও অনেক অজানা কাহিনি বলেন তাঁকে। নেত্র নিজেও জানতে পারেননি, অজান্তে কখন সেসবই লিখে রেখেছিলেন নীতিন। 

সম্প্রতি বিষয়টি নেত্রকে জানান নীতীন। ই মেল-এ নেত্রকে তাঁর জীবনীর ২৭২ পাতার পাণ্ডুলিপিও পাঠিয়েছেন নেত্র। ফোন করে নীতিন জানান, নেত্র জীবন কাহিনি উপন্যাস আকারে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে জে কে রাউলিং-এর প্রকাশনা সংস্থা। নেত্র সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়ার পরই প্রকাশনা সংস্থার তরফে নেত্রর সঙ্গে যোগাযোগ করে চুক্তি সম্পন্ন করা হয়। সম্ভবত এ বছরের শেষ দিকেই প্রকাশিত হবে সেই উপন্যাস। তার আগে আগামী জুলাই মাসে নীতিনের আমন্ত্রণে ক্যালিফোর্নিয়া যাচ্ছেন নেত্র। তার জন্য পাসপোর্ট এবং ভিসা-র আবেদনও করে ফেলেছেন তিনি। 

নেত্র ছাড়াও তাঁর পরিবারে স্ত্রী এবং দুই ছেলেমেয়ে রয়েছে। এ ভাবেও যে জীবন বদলে যেতে পারে, তা যেন ভাবতে পারছেন না নেত্র। এখনও একটা ঘোরের মধ্যে রয়েছেন তিনি। তবে তাঁর এই সাফল্য তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করছেন স্ত্রী এবং সন্তানরা। গোটা বক্সাতেই এখন এক ডাকে সবাই নেত্রকে চেনেন। মিষ্টিমুখ থেকে সংবর্ধনা, নেত্রই এখন বক্সা-র সেলিব্রিটি।