
রাজ চক্রবর্তীর পরিচালনায় নির্মিত ছবি ‘লক্ষ্মী এল ঘরে’ সম্প্রতি কলকাতার নন্দন ২ প্রেক্ষাগৃহে বিশেষ প্রদর্শিত হয়। সেই প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রা, অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় সহ রাজনীতি ও বিনোদন জগতের একাধিক পরিচিত মুখ। এই ছবিতে মূলত গত ১৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্প ও উন্নয়নমূলক কাজকে তুলে ধরা হয়েছে। গ্রাম থেকে শহর— সাধারণ মানুষের জীবনে সরকারের প্রকল্প কীভাবে প্রভাব ফেলেছে, সেই বাস্তব চিত্রই ছবির মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
ছবি দেখার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ চক্রবর্তীর পরিচালনার প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য, খুব সহজ ভাষায় ও সাবলীল উপস্থাপনায় রাজ্যের কাজ মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। অনেক সময় উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়, এই ধরনের ছবি সেই ভুল ধারণা ভাঙতে সাহায্য করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
একই সঙ্গে অভিষেক স্পষ্ট করে দেন, তিনি সিনেমা ভালোবাসেন এবং শিল্পীদের কাজকে সম্মান করেন, তবে নিজে অভিনয়ে আসার কোনও পরিকল্পনা তাঁর নেই। ছবিতে শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় ও অঙ্কুশ হাজরার অভিনয় নিয়েও প্রশংসা শোনা যায় তাঁর মুখে। সাংসদ মহুয়া মৈত্রা ছবিটি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান।
তাঁর মতে, এটি শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক ছবি নয়, বরং গত দেড় দশকে বাংলার সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের একটি নথি। সাধারণ মানুষের জীবনের পরিবর্তন কীভাবে ঘটেছে, তা ছবির মাধ্যমে স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় সহ উপস্থিত অন্যান্য শিল্পীরাও ছবির বিষয়বস্তু ও নির্মাণের প্রশংসা করেন। তাঁদের মতে, এই ধরনের ছবি দর্শকদের শুধু বিনোদন দেয় না, পাশাপাশি রাজ্যের বাস্তব চিত্র সম্পর্কে ভাবতেও বাধ্য করে। সব মিলিয়ে, ‘লক্ষ্মী এল ঘরে’ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত হলেও, তা রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজকে তুলে ধরার এক ভিন্নধর্মী প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখছেন দর্শক ও বিশিষ্টজনেরা।