জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের (National Security Adviser Ajit Doval) বাসভবনে গাড়ি নিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা। কর্ণাটকের (Karnataka) বেঙ্গালুরুর (Bengaluru) বাসিন্দা ওই ব্যক্তি দাবি করে, তার গায়ে লাগানো আছে ইলেকট্রনিক চিপ।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের (National Security Adviser Ajit Doval) বাসভবনে নিরাপত্তা লঙ্ঘন! বুধবার, গাড়ি নিয়ে এক ব্যক্তি জোর করে এনএসএ-র বাসভবন প্রাঙ্গণে প্রবেশের চেষ্টা করে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু সেখানে উপস্থিত নিরাপত্তাকর্মীরা সঠিক সময়ে ওই ব্যক্তিকে থামিয়ে হেফাজতে নেন। বর্তমানে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের (Delhi Police Special Cell) দল তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। জানা গিয়েছে সে কর্ণাটকের (Karnataka) বেঙ্গালুরুর (Bengaluru) বাসিন্দা।
পুলিশের জানিয়েছে, ধরা পড়ার পর ওই ব্যক্তি কিছু গুরুতর দাবিও করে। সে বলে, কেউ তার শরীরে একটি ইলেকট্রনিক চিপ (Electronic Chip) লাগিয়ে দিয়েছে। সেটাকে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তবে তন্ন তন্ন করে তল্লাশী চালিয়েও তার শরীরে কোনও চিপ পাওয়া যায়নি, এমনটাই জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তাকে লোধি কলোনিতে (Lodhi Colony) অবস্থিত স্পেশাল সেলের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানেই চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। করা হচ্ছে। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের পাশাপাশি, অ্যান্টি টেরর ইউনিট (Anti-terror Unit) বা সন্ত্রাস বিরোধী শাখাও ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
আরও পড়ুন - Delhi Gangrape: গণধর্ষণের শিকার একসন্তানের মা, আরও একবার বেআব্রু হলেন রাজধানীর রাজপথে
সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দিল্লি পুলিশের এক সূত্র বলেছে, তাদের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ধৃত ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন। তবে, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ, 'ভারতের জেমস বন্ড' (James Bond of India) অজিত ডোভাল দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির নিশানায় রয়েছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, জৈশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammad) জঙ্গিদের কাছ থেকে অজিত ডোভালের অফিসের রেইকির একটি ভিডিও পাওয়া গিয়েছিল। জানা যায়, ওই ভিডিওটি পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের পাঠানো হয়েছে। এরপরই ডোভালের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়েছিল।
আসলে, গত কয়েক বছরে, তিনি পাকিস্তান (Pakistan) ও চিনের (China) চক্ষুশূল হয়ে উঠেছেন। কেরালা (Kerala) ক্যাডারের আইপিএস (IPS) অফিসার ডোভাল, ১৯৭২ সালে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোয় (Intelligence Bureaw) যোগ দিয়েছিলেন। একজন ইন্টেলিজেন্স এজেন্ট হিসাবে অজিত ডোভাল অনেক কীর্তির অধিকারী। শোনা যায়, প্রায় সাত বছর তিনি, গুপ্তচর হিসেবে পাকিস্তানে বসবাস করেছিলেন।
'অপারেশন ব্লু স্টার' (Operation Blue Star), 'অপারেশন ব্লু থান্ডার'-এর (Operation Blue Thunder) মতো ভারতের সফল অভিযানের নেপথ্যে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ১৯৯৯ সালে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি হাইজ্যাকের ঘটনার সময়, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তিনিই ছিলেন জঙ্গিদের সঙ্গে প্রধান আলোচনাকারী। বর্তমানে, জম্মু ও কাশ্মীরে (Jammu And Kashmir) জঙ্গিবাদের অবক্ষয়ের পিছনেও তাঁরই প্রধান ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হয়। ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর উপত্যকায় স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার জন্যও তাঁর উপরই ভরসা করেছিল মোদী সরকার (Modi Govt)।