
বেঙ্গালুরুতে গ্রেফতার বাংলার এক যুবক। অভিযোগ রয়েছে যে ওই যুবক 'তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান' (টিটিপি)-এর এক সদস্যের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে ওই সংগঠনে যোগ দেওয়ার এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহজনক অনলাইন কার্যকলাপ এবং সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে বেঙ্গালুরুর জিগানি এলাকা থেকে ২৫ বছরের আসাফুল মল্লিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আসাফুল মল্লিকের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নাওপাড়া গ্রামে। তিনি বর্তমানে জিগানির এপিসি (APC) সার্কেলের কাছে বসবাস করছিলেন এবং জিগানি শিল্পাঞ্চলের 'টাটা অ্যাডভান্সড লিমিটেড'-এ নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে কাজ করছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, বোমাসান্দ্রা শিল্পাঞ্চলে টহল দেওয়ার সময় ওই যুবকের সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে তথ্য পায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মল্লিককে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তিনি স্বীকার করেন যে, পাকিস্তানে মুসলিমদের উপর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কথিত নির্যাতনের কারণে তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। এছাড়া ইজরায়েল-প্যালেস্তাইন সংঘাতের বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থান নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভারতে মুসলিমরা কোনও সমস্যার সম্মুখীন হলে তার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মল্লিককে প্ররোচিত করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের দাবি, মল্লিক ফেসবুকের মাধ্যমে আফগানিস্তানের ইমরান হায়দার নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলেছিলেন, যিনি 'তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান'-এর সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। আফগানিস্তানে যাওয়ার জন্য ইমরান হায়দারের সহায়তা চেয়েছিলেন আসাফুল এবং ভিসার জন্য আবেদনও করেছিলেন। তবে পুলিশকে তিনি জানান যে, আর্থিক অনটন এবং পরিবারের দেখাশোনা করার প্রয়োজনে তিনি পরবর্তীতে সেই পরিকল্পনা বাতিল করেন।
এরপর পুলিশ আসাফুলের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে এবং তাতে তাঁর ও ইমরান হায়দারের মধ্যে হওয়া চ্যাট, পাশাপাশি বেশ কিছু ভয়েস কল ও অডিও কথোপকথনের রেকর্ড খুঁজে পায়। অভিযুক্তের মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার করা চ্যাট, ভয়েস রেকর্ডিং এবং অন্যান্য বিষয়বস্তু পরীক্ষা করে পুলিশ তাঁর আরও কিছু জানার চেষ্টা করছে।