BRICS 2026: বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ভারত 'গ্লোবাল সাউথ'-এর কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজের জায়গা আরও মজবুত করেছে। ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের মাধ্যমে ভারত প্রমাণ করে দিল, কেন সে এই গোষ্ঠীর নেতা। বিশদে জানতে দেখুন সম্পূর্ণ ফটো গ্যালারি…
নয়াদিল্লিতে ১২-১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হল ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলন। ভারতের সভাপতিত্বে এই সম্মেলন বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। নানা দেশের ভিন্ন ভিন্ন মতামত থাকা সত্ত্বেও, ভারত সবাইকে এক টেবিলে এনে 'নয়াদিল্লি ডিক্লারেশন ২০২৬' পাশ করিয়েছে, যা এক বিরাট সাফল্য। এই সম্মেলনে ভারতের সেরা ৫টি সাফল্য দেখে নেওয়া যাক।
26
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সব দেশকে একজোট করা
এই সম্মেলনে ভারতের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক জয় হল সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সব দেশকে একজোট করা। সীমান্তপার সন্ত্রাস, জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া এবং তাদের অর্থ জোগান দেওয়ার মতো বিষয়গুলির তীব্র নিন্দা করেছে ব্রিকস। বিশেষ করে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে হওয়া কাপুরুষোচিত জঙ্গি হামলার নাম উল্লেখ করে নিন্দা প্রস্তাবে চিন ও রাশিয়াকেও রাজি করিয়েছে ভারত।
36
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমেরিকান ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর সিদ্ধান্ত
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমেরিকান ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সদস্য দেশগুলির মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য রুপি, ইউয়ান, রুবলের মতো স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার বাড়াতে সম্মত হয়েছে ব্রিকস। এর জন্য ভারতের প্রস্তাবিত 'BRICS Payment Task Force' তৈরি করে জাতীয় পেমেন্ট সিস্টেমগুলিকে সংযুক্ত করা হবে। আন্তঃসীমান্ত পেমেন্ট সহজ করার জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ছোট দোকান থেকে শুরু করে বড় শোরুম, সর্বত্র ব্যবহৃত ভারতের ইউপিআই (UPI) এবং আধার-এর মতো ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (DPI)-এর সাফল্যকে গোটা বিশ্ব প্রশংসা করেছে। এই ভারতীয় ডিজিটাল মডেলকে ব্রিকস দেশগুলির ডিজিটাল পরিকাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব তৈরি হয়েছে। সদস্য দেশগুলির মধ্যে এই প্রযুক্তি ভাগ করে নেওয়ার জন্য একটি 'BRICS Repository for Digital Public Infrastructure' তৈরিতেও সকলে সম্মত হয়েছে। এর ফলে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ভারত এক বিশ্ব নেতারূপে উঠে এসেছে।
56
মানসিক স্বাস্থ্যে নজর বিশ্বের
স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও ভারত নিজের ছাপ রেখেছে। বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিশ্বব্যাপী মনোযোগ দেওয়ার জন্য ভারতের পরিকল্পনাকে বাকি দেশগুলি সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে। বেঙ্গালুরুর বিখ্যাত 'নিমহ্যান্স' (NIMHANS) প্রতিষ্ঠানটি ব্রিকসের 'সেন্টারস অফ এক্সেলেন্স'-এর প্রধান সমন্বয় কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, ব্রিকস হেলদি লাইফস্টাইল মিশন এবং সংক্রামক রোগ সম্পর্কে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার জন্য আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমও ভারতের নেতৃত্বে চালু হবে।
66
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নে জোর
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (MSMEs) উন্নয়নের লক্ষ্যে 'India Centre for BRICS Industrial Competencies' স্থাপনে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। 'জয়পুর কনসেনসাস'-এর মাধ্যমে ছোট ব্যবসায়ীদের আর্থিক সাহায্য এবং বিশ্ব বাজারে সুযোগ করে দেওয়া হবে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) এবং কৃষিতে ডিজিটাল নেটওয়ার্কের ব্যবহারের মতো বিষয়ে ভারত এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে, এই ব্রিকস সম্মেলন ২০২৬-এর মাধ্যমে ভারত 'গ্লোবাল সাউথ'-এ নিজের শক্তি দেখানোর পাশাপাশি ব্যবসা, প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।