
ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় কর্মসূচি বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR)-এর সিদ্ধান্ত ও নির্দেশাবলি ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের মধ্যেই শনিবার নয়াদিল্লির ‘নির্বাচন সদন’-এ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী বৈঠকে বসেন। বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশন (EC) এসআইআর (SIR) ও কমিশনের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সংক্রান্ত বেশ কিছু সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে এবং ক্যাবিনেট সচিবের কাছে সান্ধু ও জোশীর পাঠানো চিঠি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে। তিন সদস্যের একত্রে তোলা একটি ছবি-সহ ২৬ সেপ্টেম্বরের ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মূলত তিনটি বিষয়ের উপর আলোকপাত করা হয়। নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তকরণ, চলমান এসআইআর (SIR)-এর সময়সীমা বৃদ্ধি এবং ২৩ সেপ্টেম্বর ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ প্রকাশিত সেই প্রতিবেদন—যা নির্বাচন কমিশনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও আইনি ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি SIR-সহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভিতরে মতপার্থক্যের খবর সামনে এসেছে। সেই আবহেই শনিবারের এই বৈঠককে ঘিরে নজর রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ক্যাবিনেট সচিবকে পাঠানো একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেটি কমিশন বা তার IT বিভাগের কোনও নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল না। বরং তা ছিল একজন আধিকারিকের কাজের ধরন বা কার্যপদ্ধতি বিষয়ক। কমিশন উল্লেখ করে যে, কাজের পুনর্বণ্টন সংক্রান্ত যেসব আদেশের বিরুদ্ধে আপত্তি তোলা হয়েছিল, তা দুই কমিশনারের নির্দেশনার পর আর কার্যকর করা হয়নি এবং আইটি বিভাগের উপর একজন ডেপুটি ইলেকশন কমিশনারের তদারকির বিষয়টিও কখনও প্রত্যাহার করা হয়নি। কমিশনের বক্তব্য, ওই চিঠিকে কোনও নির্দিষ্ট কমিশন-নীতি বা IT বিভাগের নীতিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। SIR নিয়ে কমিশনের ভিতরে দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি থাকার খবরও সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে। তবে কমিশনের তরফে দাবি করা হয়েছে, কোনও বিষয়ে আলোচনা চলাকালীন প্রশ্ন তোলা, মন্তব্য করা বা ব্যাখ্যা চাওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। এগুলিকে আনুষ্ঠানিক মতবিরোধ বা ‘ডিসেন্ট’ হিসেবে গণ্য করা যায় না।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) জারি করা একটি সরকারি বিবৃতি অনুসারে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার বৈঠকে নানা বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।
এসআইআর-এ নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিদের বাড়ি নথি সংগ্রহের জন্য বিএলও-রা যাবেন। সাধারণত শুনানির প্রয়োজন হবে না। প্রয়োজন অনুযায়ী ডিইও-রা রাত্রিকালীন আশ্রয়কেন্দ্র, শ্রমিক, দরিদ্র এবং গৃহহীনদের জন্য হেল্প ডেস্ক স্থাপন করবেন। সুপ্রিম কোর্ট এসআইআর-এ ফর্ম ৬-এর সঙ্গে একটি ঘোষণাপত্রের বিধান বহাল রেখেছে। একজন সিনিয়র ডিইসি এবং একজন স্বাধীন আইআইটি/আইআইএম বিশেষজ্ঞকে নিয়ে গঠিত একটি কমিটি দ্বারা ইসিআইএনইটি (ECINET) পর্যালোচনা করা হবে। দিল্লিতে দাবি ও আপত্তি জানানোর শেষ তারিখ ছিল ৩০ অক্টোবর এবং মহারাষ্ট্রে ১২ অক্টোবর। কমিশনের সমস্ত সভার আলোচ্যসূচি আগে থেকেই পাঠানো হবে এবং সভার কার্যবিবরণী প্রকাশ করা হবে। প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্ত আধিকারিকের এপিএআর রিপোর্ট সম্পন্ন করতে হবে। আধিকারিকদের বিদেশ ভ্রমণের জন্য এখন থেকে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। কমিশনারদের দ্বারা দেওয়া সমস্ত নির্দেশ কঠোরভাবে আধিকারিকদের মেনে চলতে হবে।