CJP Leaders Released: এক বছরের শর্তে মুক্তি পেলেন সিজেপি নেতারা! কী কী মানার আদেশ দেওয়া হয়েছে?

Published : Oct 11, 2026, 01:44 PM IST

১১ অক্টোবর দিল্লিতে ৫০ হাজার টাকার বন্ডে মুক্তি পেলেন সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে, আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস। বিএনএসএস-এর ১২৬ এবং ১৭০ ধারায় তাঁদের আটক করা হয়েছিল।

PREV
16
সিজেপি নেতাদের মুক্তি

রবিবার, ১১ অক্টোবর দিল্লিতে ৫০ হাজার টাকার বন্ডে মুক্তি পান ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে, আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস। তবে আগামী এক বছর তাঁদের শান্তি ও ভালো আচরণ বজায় রাখার কড়া শর্ত দেওয়া হয়েছে।

১০ অক্টোবর আটকের পর এই তিন নেতাকে দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (এসইএম) আদালতে পেশ করা হয়। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া মেনেই বন্ড জমা দেওয়ার পর আদালত তাঁদের মুক্তি দেয়।

যন্তর মন্তরে সিজেপি-র পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভের আগেই দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তা জারি করা হয়েছিল। ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর)-এ অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আসছে সিজেপি এবং বিরোধী দলগুলো।

26
মুক্তির নেপথ্যে এক বছরের শর্তটি আসলে কী?

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, এক বছর শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার শর্তে ৫০ হাজার টাকার বন্ড জমা দিয়ে এই তিন নেতা মুক্তি পেয়েছেন।

এই শর্তের মানে হলো, আগামী এক বছর তাঁরা এমন কোনও কাজ করতে পারবেন না যাতে শান্তি বিঘ্নিত হয়। এটি কোনও অপরাধের শাস্তি নয়, বরং একটি সতর্কতামূলক আইনি পদক্ষেপ।

পুলিশের ঘোষণায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, এই মুক্তি শর্তহীন নয়। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর অধীনেই এই বন্ড জমা নেওয়া হয়েছে।

এক্স হ্যান্ডেলে সিজেপি-র লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স হেড রত্না সিং নিশ্চিত করেছেন যে, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে মুক্তি দিয়েছে।

এর ফলে তাঁদের আটক পর্ব শেষ হলেও, আদালতের নির্দেশিত এক বছরের শর্ত বহাল থাকছে।

36
কেন আটক করা হয়েছিল অভিজিৎ, আশুতোষ ও সৌরভকে?

১০ অক্টোবর ফ্লাইট থেকে দিল্লিতে নামার পরই তিন সিজেপি নেতাকে আটক করা হয়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একটি বিক্ষোভে যোগ দিতে তাঁরা রাজধানীতে এসেছিলেন।

দিল্লি পুলিশ পরে জানায়, বিএনএসএস-এর ১২৬ এবং ১৭০ ধারায় তাঁদের সতর্কতামূলকভাবে আটক করা হয়েছে। ১১ অক্টোবর তাঁদের দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের এসইএম আদালতে পেশ করা হয়।

এক্স হ্যান্ডেলে পুলিশ জানায়, "সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনে ১১.১০.২০২৬ তারিখে তাঁদের এসইএম আদালতে পেশ করা হয়েছে।"

এক বছর শান্তি বজায় রাখার শর্তে ৫০ হাজার টাকার বন্ড জমা দেওয়ার পর তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়।

মূলত শান্তিভঙ্গ বা কোনও অপরাধমূলক কাজ আটকানোর জন্যই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এটি সাধারণ গ্রেফতারির থেকে আইনিভাবে অনেকটাই আলাদা।

46
বিএনএসএস-এর ১২৬ এবং ১৭০ ধারা আসলে কী?

পুলিশের প্রয়োগ করা এই দুটি ধারার আলাদা উদ্দেশ্য রয়েছে।

ধারা ১২৬: শান্তি বজায় রাখার নিরাপত্তা

বিএনএসএস-এর ১২৬ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনও ব্যক্তির দ্বারা শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা থাকে, তবে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন। ম্যাজিস্ট্রেট ওই ব্যক্তিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে বন্ড জমা দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। এই বন্ডের মেয়াদ এক বছরের বেশি হতে পারে না। এটি মূলত একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। অপরাধ প্রমাণ হওয়ার পর শাস্তির বদলে, শান্তিভঙ্গ আটকানোই এর প্রধান লক্ষ্য।

ধারা ১৭০: ধর্তব্য অপরাধ ঠেকাতে গ্রেফতার

বিএনএসএস-এর ১৭০ ধারা পুলিশের সতর্কতামূলক গ্রেফতারির সঙ্গে যুক্ত। যদি পুলিশ জানতে পারে যে কেউ কোনও বড় অপরাধের ছক কষছে, তবে পরোয়ানা ছাড়াই তাকে গ্রেফতার করা যায়। তবে এই ধারায় কাউকে সাধারণত ২৪ ঘণ্টার বেশি আটকে রাখা যায় না।

এই ধারাগুলো প্রয়োগ করার মানেই এই নয় যে ওই তিন নেতা কোনও অপরাধ করেছেন। তাঁদের আটক করা হয়েছিল শুধুমাত্র সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার পর তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়।

56
সিজেপি-র বিক্ষোভের আগে দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তা

রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তার মাঝেই সিজেপি নেতাদের আটক করা হয়। শনিবার যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথে পুলিশ বাধা দেওয়ায় বিভিন্ন জায়গা থেকে ৭ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।

অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পিনারাই বিজয়ন এবং মানিক সরকারের মতো প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীরাও এই বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়ে আটক হন।

রবিবার ফের যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেয় সিজেপি। পরিস্থিতি সামাল দিতে দিল্লি জুড়ে ৩০ হাজারেরও বেশি পুলিশ ও আধাসেনা মোতায়েন করা হয়।

ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতেই এই বিক্ষোভ। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিরোধী ও প্রশাসনের মধ্যে সংঘাত চরমে পৌঁছেছে।

সিজেপি-র এই কর্মসূচি এবং পুলিশের সতর্কতামূলক আটকের ঘটনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আইনি ধারার প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

66
নেতাদের মুক্তির পর সাংবাদিক বৈঠকের ডাক সিজেপি-র

নেতাদের মুক্তির পর রবিবার দুপুর ২টোয় সাংবাদিক বৈঠকের কথা ঘোষণা করে সিজেপি। দলের জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা এএনআই-কে জানান, নেতারা ছাড়া পাওয়ার পরই দল সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হবে।

এই আটক পর্ব এবং মুক্তির শর্ত নিয়ে দলের অবস্থান এই বৈঠকেই স্পষ্ট করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আপাতত আইনি দিক থেকে দিপকে, রাঙ্কা এবং দাস বন্ড জমা দিয়ে মুক্ত। তবে তাঁদের এই মুক্তি এক বছর শান্তি ও ভালো আচরণ বজায় রাখার শর্তের ওপর নির্ভরশীল।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার, তিন নেতা মুক্তি পেলেও এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ বা মুক্তির শর্তকে কোনওভাবেই অপরাধমূলক বিচারে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।

(এজেন্সির ইনপুট সহ)

Read more Photos on
click me!

Recommended Stories