
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। ১০ অক্টোবর দিল্লিতে দলের প্রস্তাবিত বিক্ষোভের আগে কড়া নিরাপত্তার বহর দেখেই তাঁর এই কটাক্ষ। শনিবার যন্তর মন্তরে এই বিক্ষোভ হওয়ার কথা। কিন্তু তার আগেই ট্রেন বাতিল ও মেট্রো চলাচলে বিধিনিষেধ চাপানো নিয়ে সরকারের কড়া সমালোচনা করেন দিপকে এবং দলের অন্য দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা।
Get well soon paw-paw https://t.co/48w6eyzKXH
— Abhijeet Dipke (@abhijeet_dipke) October 9, 2026
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দিপকে প্রশ্ন তোলেন, একটা বিক্ষোভের আগে কেন ট্রেন বাতিল বা মেট্রো স্টেশন বন্ধ করতে হবে? প্রধানমন্ত্রীকে 'বিশ্বগুরু' এবং ৫৬ ইঞ্চির 'মহামানব' বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, যুবসমাজ পথে নামছে দেখেই রেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরপরই মোদীকে তাঁর পরামর্শ, 'স্যার, মাঝে মাঝে নিজের বিপি-টা চেক করবেন।'
সৌরভ দাসও এই পরিস্থিতির সঙ্গে জরুরি অবস্থার তুলনা টানেন। তিনি বলেন, 'স্বৈরাচারী' ইন্দিরা গান্ধীও সেসময় ট্রেন বন্ধ করেননি। রাঙ্কার প্রশ্ন, সরকার একদিকে বলছে বিক্ষোভে লোক হবে না, আবার অন্যদিকে এত নিরাপত্তার বহর কেন? ডিসিপি শচীন শর্মার প্রতিক্রিয়া দেখার অপেক্ষাতেও রয়েছেন বলে জানান সৌরভ।
নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) এবং তাতে বিরোধীদের কারচুপির অভিযোগ ঘিরেই এই রাজনৈতিক তরজার সূত্রপাত।
সিজেপি নেতা রাঙ্কা বিক্ষোভের আগের দিন সাংবাদিকদের বলেন, যুবসমাজকে এতই ভয় পেলে সরকারের উচিত গোটা দেশটাই বন্ধ করে দেওয়া। দিপকে সাফ জানান, যাই হয়ে যাক না কেন, যন্তর মন্তরেই বিক্ষোভ হবে। কারণ ওটা নির্দিষ্ট প্রতিবাদস্থল। তিনি মনে করিয়ে দেন, সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ নাগরিকদের প্রতিবাদের মৌলিক অধিকার দিয়েছে। নির্বাচনে কারচুপি এবং ১৩ কোটি ভোট গায়েব হয়ে যাওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন দিপকে। তাঁর প্রশ্ন, 'এর জন্য কি কারও অনুমতি নেওয়া হয়েছিল?' তিনি বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলতে এই আন্দোলন জরুরি এবং দেশ বাঁচাতে সিজেপি পথে নামবেই।
Shut metros. Shut trains. Shut roads. Shut everything.
But we will NOT stop!
https://t.co/Yz71BKj903
— Cockroaches of India (@CJP_for_India) October 9, 2026
दिल्ली में 10 अक्टूबर को होने वाले CJP के प्रदर्शन को लेकर पार्टी के संस्थापक अभिजीत दिपके ने कहा कि आंदोलन होकर रहेगा। मुंबई में उन्होंने कहा कि जंतर-मंतर निर्धारित प्रदर्शन स्थल है और संविधान का अनुच्छेद 19 विरोध करने का मौलिक अधिकार देता है। उन्होंने चुनावों में कथित गड़बड़ी और 13 करोड़ वोट हटाए जाने का आरोप लगाते हुए सवाल उठाया कि क्या इसके लिए अनुमति ली गई थी। दिपके ने कहा कि चुनावी प्रक्रिया पर सवाल उठाने के लिए आंदोलन जरूरी है और CJP देश को बचाने के लिए प्रदर्शन करेगा।
#CJP #AbhijeetDipke #JantarMantar #DelhiProtest #Article19 #ElectionCommission #ATReel #AajTakSocial
— AajTak (@aajtak) October 9, 2026
রেলওয়ে বোর্ড ১০ অক্টোবর ভোর ৪টে থেকে দুপুর ২টোর মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে বেশ কিছু মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করেছে। কারণ হিসেবে স্টেশনের আশেপাশে যানজটের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। দিল্লি পুলিশও বিক্ষোভের আগে ভিড় সামলাতে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনকে (ডিএমআরসি) ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
সিজেপি জমায়েতের অনুমতি না মেলার সিদ্ধান্তকেও চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। দিপকের যুক্তি, যন্তর মন্তর তো প্রতিবাদের জন্যই নির্দিষ্ট, তাহলে সেখানে বিক্ষোভ দেখাতে আলাদা করে অনুমতির কী দরকার?
এই বিতর্ক শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছয়। প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল বিক্ষোভের আগে এমন বিধিনিষেধ চাপানোর বিরুদ্ধে জরুরি শুনানির আর্জি জানান। সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে সিব্বল ট্রেন বাতিল, মেট্রো বন্ধ, ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ এবং হোটেল বুকিংয়ে নিষেধাজ্ঞার মতো বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
তিনি প্রশ্ন করেন, 'আমার দেশে এসব কী হচ্ছে?' তাঁর দাবি, এই বিক্ষোভ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। তাহলে এত কড়াকড়ির কী দরকার?
সিব্বল বেঞ্চকে জানান, ১০ অক্টোবর ভোর ৪টে থেকে দুপুর ২টোর মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিনগামী ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। হোটেল বুকিংয়ে নিষেধাজ্ঞার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, বিক্ষোভের আগে রীতিমতো দমনপীড়ন চলছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ অবশ্য জানতে চায়, আবেদনকারীরা কেন দিল্লি হাইকোর্টে যাননি। সিব্বল জানান, ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসের করা একই ধরনের একটি মামলা হাইকোর্টে সোমবার পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
বিচারপতি বাগচী বারবার জানতে চান, বিক্ষোভের আয়োজকরা কেন আদালতে আসেননি। তিনি বলেন, অনুমতি ছাড়া জমায়েত বেআইনি হতে পারে। বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে গেলে সব দিক খতিয়ে দেখতে হবে। এমনকি প্রস্তাবিত জমায়েত আদৌ আটকানো উচিত কি না, সেটাও বিবেচনা করতে হবে।
প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি এবং গোপাল শঙ্করনারায়ণন যুক্তি দেন, এত ব্যাপক বিধিনিষেধের আইনি পর্যালোচনা হওয়া দরকার।
সিংভি জানান, বিক্ষোভে ২২১ কোম্পানি সিএপিএফ (CAPF) মোতায়েন করা হয়েছে। তৈরি রাখা হয়েছে ১০টি ডিটেনশন সেন্টার। বাতিল হয়েছে ট্রেন। শঙ্করনারায়ণন বলেন, সরকার বিক্ষোভকারীদের সামলাতে পারছে না বলে গোটা শহরটাই বন্ধ করে দিতে পারে না।
আইনজীবী বৃন্দা গ্রোভার জানান, দিল্লি পুলিশ সিজেপি-কে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। অন্যদিকে, ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেস নির্দিষ্ট জায়গায় প্রতিবাদের অনুমতি চেয়েছিল। তাঁর দাবি, এত ব্যারিকেড করে দিলে প্রতিবাদের আসল উদ্দেশ্যটাই নষ্ট হয়ে যায়।
প্রধান বিচারপতি পরামর্শ দেন, শুক্রবার বিকেল ৩টেয় দিল্লি হাইকোর্টকে এই মামলা শুনতে বলা যেতে পারে। সিব্বল এবং অন্যান্য আইনজীবীরা দুপুর ২টোয় আয়োজকদের দায়ের করা পিটিশন এবং আরও তথ্য নিয়ে ফিরে আসতে রাজি হন।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের কারচুপির অভিযোগের মাঝেই এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। সিজেপি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগকে তাদের প্রধান দাবি করেছে।
তবে এই বিতর্ক এখন আর শুধু ভোটের মধ্যে আটকে নেই। নিরাপত্তা বিধিনিষেধের সীমা, গণপরিবহণ ব্যবহার এবং প্রতিবাদের অধিকারের মতো বিষয়গুলোও সামনে চলে এসেছে।
দিপকের মন্তব্য এই বিতর্কে নতুন রাজনৈতিক মাত্রা যোগ করেছে। অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের শুনানির ফলে বিধিনিষেধের বিষয়টি আইনি আতসকাঁচের তলায় এসেছে। এখন সবার নজর ১০ অক্টোবরের দিকে। এত বিধিনিষেধের মধ্যে শেষ পর্যন্ত এই বিক্ষোভ হয় কি না, সেটাই দেখার।
(তথ্য সহায়তা: এজেন্সি)