
NEET পেপার ফাঁস কাণ্ড নিয়ে দিল্লির যন্তর মন্তরে বড়সড় প্রতিবাদের পর, এবার ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) দেশজুড়ে এক নতুন অভিযানের ঘোষণা করল। বৃহস্পতিবার তারা জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর মাস থেকে 'ক্যায়া বোলতি পাবলিক' নামে এই প্রচার শুরু হবে, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনোই তাদের মূল লক্ষ্য।
ছাত্রপতি সম্ভাজি নগরে এক সাংবাদিক বৈঠকে CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জোর দিয়ে বলেন যে তাদের এই আন্দোলন সাংবিধানিক নীতির উপর ভিত্তি করেই চলবে। জওহরলাল নেহরু, বিআর আম্বেদকর এবং মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তারা ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সামাজিক ন্যায়ের জন্য কাজ করবে। দীপকে বলেন, "CJP জওহরলাল নেহরু, আম্বেদকর এবং গান্ধীর আদর্শে চলবে। আমরা ধর্মনিরপেক্ষ এবং আমরা সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য কাজ করব।"
সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে চলা এই দেশব্যাপী যাত্রার লক্ষ্য হল আলোচনার কেন্দ্রে সাধারণ মানুষকে ফিরিয়ে আনা। দীপকে জানান, মানুষের ব্যাপক আগ্রহের কারণেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "সাধারণ মানুষের নিজেদের মতামত জানানোর দরকার আছে, আর এখন তাদের কথা শোনার সময় এসেছে। যদি আপনি না শোনেন, তাহলে জনতা রাস্তায় নামবে।"
অভিজিৎ ভারতের বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। নির্বাচন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলির অবস্থা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং নির্বাচনে কারচুপির বিরুদ্ধে সতর্ক করেন। দীপকে আরও দাবি করেন যে ভারতের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির অবস্থা "বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে" রয়েছে, বিশেষ করেনির্বাচন কমিশন।
অভিজিৎ বলেন, "আমাদের দেশে আজ প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা এক বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। এটা আমাদের গণতন্ত্রের জন্য একটা বিপজ্জনক সংকেত। আগে ভোটাররা সরকার বাছত। এখন সরকার ঠিক করছে কারা ভোট দেবে। গণতন্ত্র এভাবে চলতে পারে না। আমাদের নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। যতক্ষণ না আমরা এটা করতে পারছি, ততক্ষণ দেশে নির্বাচনী কারচুপি চলতেই থাকবে।"
এই আন্দোলন থেকে কী আশা করা যায়, সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমি বলতে চাই, যদি আপনারা ভাবেন যে একজন ব্যক্তি সবকিছু সমাধান করে দেবে, তাহলে সেটা ভুল। যে আপনাকে বলছে সব সমস্যার সমাধান করে দেবে, সে মিথ্যে বলছে। আর এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ আমরা ২০১৪ সালে দেখেছি।"
দীপকে জানান, NEET পেপার ফাঁস নিয়ে দিল্লিতে যন্তর মন্তরের প্রতিবাদের পর সাধারণ মানুষ তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইছিল। সেই আগ্রহের জবাব হিসেবেই এই ঘোষণা। তিনি বলেন, "আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বহু মানুষ মেসেজ ও কমেন্ট করে জানতে চাইছেন আমরা এরপর কী করব। আমরা ঘোষণা করছি: সেপ্টেম্বর মাসে ককরোচ জনতা পার্টি দেশজুড়ে একটি অভিযান শুরু করবে।"
অভিজিৎ আরও বলেন, "এটা হবে 'ক্যায়া বোলতি পাবলিক' নামের একটি দেশব্যাপী যাত্রা। কারণ এখন যা দরকার তা হল জনগণের কথা বলা; জনগণের মতামত প্রকাশের প্রয়োজন আছে এবং তাদের কথা শোনার সময় এসেছে। যদি আপনি না শোনেন, তাহলে জনতা রাস্তায় নামবে।"
CJP-র মুখপাত্র সৌরভ দাস সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে স্পষ্ট করে দেন যে তারা নির্বাচনে লড়বে না বা কোনও রাজনৈতিক দল হিসেবে নথিভুক্ত হবে না। তিনি জানান, বর্তমান জাতীয় পরিস্থিতিতে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করা ফলপ্রসূ হবে না। সৌরভ দাস বলেন, "আমরা কোনও রাজনৈতিক দল তৈরি করছি না; আমরা শুধুমাত্র একটি প্রেশার গ্রুপ বা চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে কাজ করব।" তিনি আরও বলেন, "আমরা জানি যে তরুণরা চায় ককরোচ জনতা পার্টি একটি রাজনৈতিক দল হয়ে উঠুক, কিন্তু এই মুহূর্তে দেশের যা পরিস্থিতি, তাতে একটি নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করা লাভজনক হবে না।"
এই প্রচার অভিযানের ঘোষণার পাশাপাশি CJP তাদের সাংগঠনিক নেতৃত্বের নামও প্রকাশ করেছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পদগুলি হল - আহ্বায়ক (Convener) পদে অভিজিৎ দীপকে, যুগ্ম আহ্বায়ক (Co-conveners) পদে সৌরভ এবং আশুতোষ, এবং যুগ্ম ইনচার্জ (Co-in-charge) পদে দীপক বালিয়ান।