২০২২-২৩ অর্থবর্ষে বাজেটের বাইরে প্রায় ৫৪,০৬৭ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়েছিল। সেই টাকা কনসোলিডেটেড ফান্ড থেকে তোলার জন্য সংসদে বিল পাশ হল। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়েছেন, এটি একটি স্বাভাবিক সাংবিধানিক প্রক্রিয়া।
বৃহস্পতিবার সংসদেঅ্যাপ্রোপ্রিয়েশন (নম্বর ৩) বিল, ২০২৬ পাশ হয়ে গেল। এই বিলের মাধ্যমে ভারত সরকারের কনসোলিডেটেড ফান্ড থেকে টাকা তোলার অনুমতি দেওয়া হল। ২০২৩ সালের ৩১ মার্চ শেষ হওয়া অর্থবর্ষে বাজেটের বাইরে যে ৫৪,০৬৭.৪৬ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়েছিল, সেই খরচকে নিয়মের আওতায় আনতেই এই পদক্ষেপ। এই অতিরিক্ত খরচের সিংহভাগই হয়েছে ঋণ শোধ করতে, যার পরিমাণ ৫৩,৮৭১.০১ কোটি টাকা। বাকি ১৯৬.৪৫ কোটি টাকা রেল মন্ত্রকের মূলধনী খাতে খরচ হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণের প্রতিক্রিয়া
লোকসভায় আগেই বিলটি পাশ হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভাতেওএটি পাশ হয়ে যায়। রাজ্যসভায় বিলটি নিয়ে আলোচনার জবাবে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনবলেন, যখনই অতিরিক্ত খরচের জন্য অনুমোদনের প্রয়োজন হয়, তখন সংসদে এই ধরনের বিল আনা একটি স্বাভাবিক সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। নির্মলা সীতারামন বলেন, "যখনই এই ধরনের অতিরিক্ত খরচের দাবি ওঠে, ভারত সরকার তা সংসদে পেশ করে। কারণ, সংসদের কাছ থেকেই এর ছাড়পত্র নিতে হয়।"
তিনি মনে করিয়ে দেন যে, এর আগেও সংসদে এমন অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন বিল আনা হয়েছে। যেমন, ২০১৯-২০ অর্থবর্ষের অতিরিক্ত খরচের জন্য ২০২২ সালে, ২০২০-২১ অর্থবর্ষের জন্য ২০২৩ সালে এবং ২০২১-২২ অর্থবর্ষের জন্য ২০২৫ সালে বিল এনে অনুমোদন চাওয়া হয়েছিল। তাঁর কথায়, এবারের বিলটিও একইভাবে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের অতিরিক্ত খরচের জন্য সংসদের অনুমোদন চাইছে।
এর আর্থিক প্রভাব কেমন?
কয়েকজন সাংসদের উদ্বেগের জবাবে অর্থমন্ত্রীবলেন, এই অতিরিক্ত খরচের হিসাব সঠিকভাবে করা হয়েছে এবং এর ফলে সরকারের আর্থিক অবস্থার উপর বড় কোনও প্রভাব পড়বে না। "এর আর্থিক প্রভাব গুরুতর নয়," জানিয়ে তিনি আরও বলেন যে, প্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্টিং অ্যাডজাস্টমেন্টগুলি যথাযথভাবে করা হয়েছে। তিনি জানান, সংসদে অনুমোদনের জন্য আনার আগেই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই অতিরিক্ত খরচ চিহ্নিত করে তার হিসাব মিলিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত অনুদান অনুমোদন করা হয়, এই দাবিও তিনি খারিজ করে দেন। সীতারামন বলেন, খরচটা ঋণ পরিশোধ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা অন্য যে কোনও খাতেই হোক না কেন, সরকার সংসদের অনুমোদন চায়। তিনি আরও বলেন, পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির মতো নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় যাচাই হওয়ার পরেই এই ধরনের বিষয়গুলি সংসদে আনা হয়। অতিরিক্ত খরচ হলে সরকার একই সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে।


