CJP Protest: 'মাঝে মাঝে বিপি মাপবেন', মোদীকে কটাক্ষ সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকের

Published : Oct 09, 2026, 11:56 PM IST

১০ অক্টোবর দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ। তার আগে ট্রেন বাতিল ও মেট্রোয় বিধিনিষেধ চাপানো নিয়ে নরেন্দ্র মোদীকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। রক্তচাপ মাপার পরামর্শ দিয়ে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি

PREV
15
বিক্ষোভের আগে মোদীকে কটাক্ষ সিজেপি নেতাদের

১০ অক্টোবর দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ। আর তার আগেই কড়া নিরাপত্তার বহর দেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তিনি ব্যঙ্গ করে প্রধানমন্ত্রীকে নিজের রক্তচাপ মাপতে বলেছেন। শনিবার যন্তর মন্তরে এই বিক্ষোভ হওয়ার কথা। দিপকে এবং দলের অন্য দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা ট্রেন বাতিল এবং মেট্রো চলাচলে বিধিনিষেধের প্রস্তাব নিয়ে সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন।

দিপকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। তিনি সেখানে ট্রেন বাতিল ও মেট্রো স্টেশন বন্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে রীতিমতো মশকরা করেছেন। এই সিজেপি নেতা প্রশ্ন তুলেছেন, একটা বিক্ষোভের আগে কেন এমন পদক্ষেপ করতে হবে।

দিপকে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে 'বিশ্বগুরু' এবং ৫৬ ইঞ্চির 'মহামানব' বলে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেছেন, যুবসমাজ বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেই রেল পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি এরপরই প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "স্যার, মাঝে মাঝে নিজের বিপি চেক করতে থাকবেন।"

সৌরভ দাসও এই সমালোচনায় যোগ দিয়েছেন। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর কথায়, 'স্বৈরাচারী' ইন্দিরা গান্ধীও সেই সময় ট্রেন বন্ধ করে দেননি।

আশুতোষ রাঙ্কা প্রশ্ন তুলেছেন, একদিকে বলা হচ্ছে বিক্ষোভে লোক হচ্ছে না, অন্যদিকে বিক্ষোভের আগে এত কড়া নিরাপত্তা কেন! সৌরভ দাস মন্তব্য করেছেন, তিনি 'ডিসিপি শচীন শর্মা'-র প্রতিক্রিয়া দেখতে চান।

বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) এবং এই প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে এমনিতেই সরব। সিজেপি নেতাদের এই মন্তব্য পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

25
'যুবসমাজকে ভয় পেলে গোটা দেশ বন্ধ করে দিন'

সিজেপি নেতা রাঙ্কা বিক্ষোভের ঠিক আগের দিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুবসমাজ রাস্তায় নামছে দেখে সরকার যদি ভয় পায়, তবে তাদের উচিত গোটা দেশ বন্ধ করে দেওয়া। অন্যদিকে দিপকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, যাই হয়ে যাক না কেন, যন্তর মন্তরে পূর্বনির্ধারিত সূচি মেনেই বিক্ষোভ হবে। কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট বিক্ষোভস্থল। তিনি আরও বলেছেন, সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ নাগরিকদের প্রতিবাদ করার মৌলিক অধিকার দিয়েছে।

দিপকে নির্বাচনে কথিত অনিয়ম এবং ১৩ কোটি ভোট বাদ দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর প্রশ্ন, এর জন্য কি কারও অনুমতি নেওয়া হয়েছিল? দিপকে জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার জন্য একটা আন্দোলন খুব জরুরি। আর দেশকে বাঁচাতেই সিজেপি এই বিক্ষোভ করবে।

রেলওয়ে বোর্ড ১০ অক্টোবর ভোর ৪টে থেকে দুপুর ২টোর মধ্যে নয়াদিল্লি এবং হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছনোর কথা থাকা বেশ কিছু মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করেছে। রেল জানিয়েছে, স্টেশন চত্বরে যানজটের আশঙ্কা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভের আগে ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার জন্য দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনকে (ডিএমআরসি) অনুরোধ করেছে। স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে ভিড় বাড়ার আশঙ্কা থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সিজেপি প্রস্তাবিত জমায়েতের অনুমতি না দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকেও চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। দিপকের যুক্তি, যন্তর মন্তর তো এমনিতেই একটা নির্দিষ্ট বিক্ষোভস্থল। তাহলে সেখানে বিক্ষোভ দেখানোর জন্য দলের কেন আলাদা করে অনুমতির প্রয়োজন হবে?

35
দিল্লির বিধিনিষেধ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি

এই বিতর্ক শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে। প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল বিক্ষোভের আগে চাপানো বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আর্জি জানিয়েছেন।

সিব্বল সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির হয়ে সওয়াল করেছেন। তিনি ট্রেন বাতিল, মেট্রো বন্ধের প্রস্তাব, ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হওয়া এবং হোটেল বুকিংয়ে কথিত বিধিনিষেধ নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তুলেছেন।

সিব্বল প্রশ্ন তুলেছেন, আমার দেশের হচ্ছেটা কী? তাঁর যুক্তি, প্রস্তাবিত এই বিক্ষোভ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। তাহলে কেন এত বড় পরিসরে এমন সব পদক্ষেপ করা হচ্ছে?

সিব্বল বেঞ্চকে জানিয়েছেন, ১০ অক্টোবর ভোর ৪টে থেকে দুপুর ২টোর মধ্যে নয়াদিল্লি এবং হজরত নিজামুদ্দিনগামী ট্রেনগুলো বাতিল করার কথা রয়েছে। তিনি হোটেল বুকিং এবং অন্যান্য বিধিনিষেধের প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন। তিনি বিক্ষোভের আগে এই সার্বিক পরিস্থিতিকে 'দমনপীড়ন' বলে আখ্যা দিয়েছেন।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ অবশ্য প্রশ্ন তুলেছে, আবেদনকারীরা কেন দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হননি?

জবাবে সিব্বল জানিয়েছেন, ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসের দায়ের করা একই ধরনের একটি মামলা হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু সোমবার পর্যন্ত সেই মামলার শুনানি স্থগিত রাখা হয়েছে।

বিচারপতি বাগচী বারবার প্রশ্ন তুলেছেন, বিক্ষোভের কোনও আয়োজক কেন আদালতে উপস্থিত নেই। তিনি জানিয়েছেন, অনুমতি ছাড়া কোনও জমায়েত বেআইনি হতে পারে। বেঞ্চ এও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে গেলে সব দিক খতিয়ে দেখতে হবে। এমনকি প্রস্তাবিত জমায়েতটি আদৌ আটকানো উচিত কি না, সেটাও বিবেচনা করতে হবে।

45
নিরাপত্তার বহর নিয়ে প্রশ্ন আইনজীবীদের

প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি এবং গোপাল শঙ্করনারায়ণন যুক্তি দিয়েছেন, এই ব্যাপক বিধিনিষেধের আইনি পর্যালোচনা হওয়া প্রয়োজন।

সিংভি ২২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী (সিএপিএফ) মোতায়েন, ১০টি ডিটেনশন সেন্টার তৈরির প্রস্তুতি, ট্রেন বাতিল এবং পুলিশের অন্যান্য পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেছেন。

শঙ্করনারায়ণন যুক্তি দিয়েছেন, সরকার বিক্ষোভকারীদের সামলাতে পারছে না বলে গোটা শহর বন্ধ করে দিতে পারে না।

আইনজীবী বৃন্দা গ্রোভার জানিয়েছেন, দিল্লি পুলিশ সিজেপি-কে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। অন্যদিকে ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেস একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বিক্ষোভ দেখানোর অনুমতি চেয়েছিল। তিনি আরও বলেছেন, ভারী ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখলে বিক্ষোভের আসল উদ্দেশ্যটাই নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

প্রধান বিচারপতি পরামর্শ দিয়েছেন, শুক্রবার বিকেল ৩টেয় দিল্লি হাইকোর্টকে এই মামলার শুনানি করতে বলা যেতে পারে। সিব্বল এবং অন্যান্য আইনজীবীরা দুপুর ২টোয় আরও বিস্তারিত তথ্য এবং একজন আয়োজকের দায়ের করা পিটিশন নিয়ে ফিরে আসতে সম্মত হয়েছেন।

55
সিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন বিতর্ক

বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা এবং ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে এমনিতেই সরব। এর মাঝেই সিজেপি এই বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছে। সিজেপি-র প্রধান দাবি হল কুমার-এর পদত্যাগ।

এই বিতর্ক এখন আর শুধু নির্বাচনী ইস্যুর মধ্যে আটকে নেই। নিরাপত্তার কড়াকড়ির সীমা, গণপরিবহন ব্যবহারের অধিকার এবং প্রতিবাদ করার অধিকারের মতো প্রশ্নগুলোও এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দিপকের মন্তব্য এই বিতর্কে নতুন রাজনৈতিক মাত্রা যোগ করেছে। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের শুনানি বিধিনিষেধগুলোকে আইনি পর্যালোচনার আওতায় এনেছে। আপাতত সবার নজর ১০ অক্টোবরের প্রস্তুতির দিকে। এই কড়া বিধিনিষেধের মাঝে প্রস্তাবিত বিক্ষোভ আদৌ হবে কি না, সেটাই এখন দেখার।

Read more Photos on
click me!

Recommended Stories