দিল্লিতে পরীক্ষা সংস্কারের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) আন্দোলন আরও জোরদার হয়েছে। অ্যাক্টিভিস্ট সোনাম ওয়াংচুকের অনুরোধে অনশন ভাঙলেন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন CJP প্রতিনিধিরা।
পরীক্ষা সংস্কারের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) আন্দোলন সোমবার আরও তীব্র হয়েছে। এরই মধ্যে দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে তাঁর অনির্দিষ্টকালের অনশন ভাঙলেন। অ্যাক্টিভিস্ট সোনাম ওয়াংচুকের অনুরোধে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ওয়াংচুক।
অনশন ভাঙলেন অভিজিৎ দিপকে
প্রসঙ্গত, টানা ২১ দিন অনশনের পর অসুস্থ হয়ে পড়ায় গত ১৮ জুলাই সোনাম ওয়াংচুককে দিল্লি পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপরই অনশনে বসেন অভিজিৎ। এদিন সংসদ অভিযানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়়িয়ে পড়়ে আন্দোলনকারীরা। এই ঘটনার পরই কেন্দ্রীয় সরকার সুর কিছুটা হলেও নরম করে। আলোচনায় বসতে রাজি হয়।
CJP-কেন্দ্র বৈঠক
CJP-র দুই প্রতিনিধি সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা সোমবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে দেখা করতে যান। যন্তর মন্তরে দলের কর্মী-সমর্থকরা যখন পরীক্ষা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, তখনই এই বৈঠক হয়। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে সৌরভ দাস এই বৈঠকের খবর জানান। তিনি লেখেন, সরকার দিনের শুরুতেই আলোচনার জন্য যোগাযোগ করেছিল।
সৌরভ দাসের দাবি
সৌরভ লেখেন, "এখন সকাল ১১:৫২। আমি আর আশুতোষ রাঙ্কা ককরোচ জনতা পার্টির তরফ থেকে জে.পি. নাড্ডার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি। সরকার সকালে আলোচনার জন্য ডেকেছিল। আমাদের দাবি স্পষ্ট। বিপুল সংখ্যায় তরুণরা জমায়েত হয়েছেন। আমরা জিতবই!"
এর আগে দিনের বেলায় সৌরভ দাস জানিয়েছিলেন, পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের দাবিদাওয়া মেটাতে তাঁরা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি। যদিও তাঁর মতে, প্রশাসন দেরিতে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, সরকার আলোচনার কথা বললেও তাদের তরফে কোনও স্পষ্ট বার্তা নেই। সৌরভের কথায়, "বল এখন ওদের কোর্টে।"
হাসপাতাল থেকে ছুটি চাইলেন সোনম ওয়াংচুক
অন্যদিকে, সোমবার সফদরজং হাসপাতালের কর্তৃপক্ষকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন অ্যাক্টিভিস্ট সোনাম ওয়াংচুক। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল, তাই তিনি অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে আয়োজিত 'সংসদ চলো' মিছিলে যোগ দিতে চান।
সোনম ওয়াংচুকের বার্তা
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে অনশনে বসেছিলেন ওয়াংচুক। ২১ দিনের মাথায় গত ১৮ জুলাই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি নোটে ওয়াংচুক লেখেন, তিনি এখন সুস্থ বোধ করছেন এবং সাময়িকভাবে হলেও তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হোক, যাতে তিনি মিছিলে যোগ দিতে পারেন।
তিনি লেখেন, "আমি আজ বেশ ভালো আছি এবং আমার স্বাস্থ্যের প্যারামিটারগুলোও স্বাভাবিক দেখাচ্ছে। তাই অনুরোধ করছি, আমাকে দয়া করে হাসপাতাল থেকে বেরোনোর অনুমতি দেওয়া হোক, অল্প সময়ের জন্য হলেও। আমি আজকের সংসদ চলো মিছিলে যোগ দিতে চাই। আমি কৃতজ্ঞ থাকব।"
এর আগে, সংসদের দিকে এগোতে থাকা কয়েকশ বিক্ষোভকারীকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ হালকা লাঠিচার্জ করে। যন্তর মন্তর থেকে এই মিছিল শুরু হয়েছিল। এর জেরে রাজধানীর রাস্তায় ব্যাপক যানজট তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পুলিশের একটি নির্দেশিকা অনুযায়ী, যন্তর মন্তরের নির্দিষ্ট জায়গা ছাড়া পাঁচ বা তার বেশি লোকের জমায়েত, মিছিল বা বিক্ষোভ নিষিদ্ধ। বাদল অধিবেশন চলায় সংসদ চত্বরের আশেপাশে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।


