
শনিবার যন্তর মন্তরে 'যন্তর মন্তর ২.০' বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তবে এই কর্মসূচিতে যাতে কোনওরকম অশান্তি না হয়, তার জন্য কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে দল। দলের তরফে কর্মীদের শান্তি বজায় রাখা, ভাঙচুর না করা এবং জরুরি পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে।
সিজেপি তাদের কর্মীদের শান্ত, সতর্ক এবং একজোট থাকার আবেদন জানিয়েছে। ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) নিয়ে জবাবদিহি চাইতেই আজ যন্তর মন্তরে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশ এই বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। তা সত্ত্বেও বিপুল জমায়েতের ডাক দিয়েছে সিজেপি।
বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, উস্কানি থাকলেও কোনওভাবেই হাতাহাতি বা হুমকি দেওয়া যাবে না। সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, পাথর ছোঁড়া, আগুন লাগানো বা ব্যারিকেড ভাঙার মতো কাজ থেকে দূরে থাকতে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
অ্যাম্বুলেন্স, দমকল এবং অন্যান্য জরুরি গাড়ির যাতায়াতের রাস্তা ফাঁকা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের গেট বা জরুরি রাস্তা আটকানো যাবে না। বিক্ষোভকারীদের অস্ত্র, লাঠি, পাথর, দাহ্য পদার্থ বা আঘাত করতে পারে এমন কোনও জিনিস সঙ্গে না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি আধিকারিক, পুলিশ, সাংবাদিক বা সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে কোনওরকম সাম্প্রদায়িক মন্তব্য, উস্কানিমূলক কথা, হুমকি বা ব্যক্তিগত আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। জোর করে ব্যারিকেড না ভাঙতে এবং নির্দিষ্ট গণ্ডি ও নিষিদ্ধ এলাকার নিয়ম মেনে চলতে বলা হয়েছে।
উস্কানি ও বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ নিয়ে সতর্ক করে দল জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা যেন কোনওরকম হিংসা বা বেআইনি কাজে জড়িয়ে না পড়েন। এমন কিছু ঘটলে সিজেপি-র নির্দিষ্ট কো-অর্ডিনেটর এবং পরিস্থিতি বুঝে পুলিশকে খবর দিতে বলা হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু শেয়ার করার আগে তা যাচাই করে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে সিজেপি। আতঙ্ক বা অশান্তি ছড়াতে পারে এমন কোনও ভুয়ো দাবি, বিভ্রান্তিকর ভিডিও, গুজব বা মেসেজ ছড়াতে নিষেধ করা হয়েছে।
ঘটনার দায়িত্বশীল প্রমাণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বিবৃতিতে। পুলিশের কাজে বাধা না দিয়ে এবং কারও বিরুদ্ধে ভুয়ো অভিযোগ না তুলে, শুধুমাত্র নিরাপদ ও আইনিভাবে ঘটনার ভিডিও বা ছবি রেকর্ড করতে বলা হয়েছে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ঝামেলা থেকে দূরে সরে যেতে, কো-অর্ডিনেটরদের খবর দিতে এবং বিপদে পড়া মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের নিজেদের দলের সঙ্গে থাকতে, একটি নির্দিষ্ট জায়গায় জড়ো হতে, জরুরি পরিচয়পত্র ও ওষুধ সঙ্গে রাখতে এবং মোবাইল চার্জ করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের সঙ্গে কথা বলার সময় শান্ত থাকতে, আইনি নির্দেশ মেনে চলতে এবং গায়ে হাত না তোলার নির্দেশ দিয়েছে সিজেপি। কাউকে আটক করা হলে তার কারণ জানতে চাইতে এবং আইনি সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শান্তিপূর্ণ জমায়েতের ওপর জোর দিয়ে সিজেপি জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের আচরণেই তাদের উদ্দেশ্য ফুটে ওঠা উচিত। এই বিক্ষোভকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, সাংবিধানিক অধিকার এবং দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে তারা।
ভোটার তালিকা এবং এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে যন্তর মন্তরে সিজেপি-র এই বিক্ষোভের দিন শনিবার রাজধানী জুড়ে নিরাপত্তা বাড়িয়েছে দিল্লি পুলিশ। সীমানাগুলোতে গাড়িতে তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে এবং ঢোকা ও বেরোনোর প্রধান রাস্তাগুলোতে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ বারবার জানিয়েছে যে এই বিক্ষোভের কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি।
যন্তর মন্তর, দিল্লি-নয়ডা সীমানা, বদরপুর সীমানা-সহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা যাতে বিঘ্নিত না হয়, তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং দিল্লি-হরিয়ানা ও দিল্লি-উত্তরপ্রদেশ সীমানায় কড়া চেকিং চলছে।
এদিকে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে উত্তরপ্রদেশের গৌতম বুদ্ধ নগর পুলিশ কমিশনারেট শনিবার থেকে পুরো জেলায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারা জারি করেছে। ১০ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত এই নিয়ম বলবৎ থাকবে।
ইতিমধ্যেই দিল্লি পুলিশ সিজেপি-র একগুচ্ছ নেতাকে আটক করেছে। আটকের সংখ্যা প্রায় ৪০০। অভিজিৎ দিপকেকে বিমানের মধ্যেই আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।