Cyclone Murasu: অর্ণবের পর এবার চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় 'মুরসুর', একাধিক রাজ্যে জারি রেড অ্যালার্ট

Published : Oct 31, 2026, 06:32 PM IST

Cyclone Murasu: ঘূর্ণিঝড় মুরসুর প্রভাব শুধু অন্ধ্রপ্রদেশেই নয়, তেলেঙ্গানাতেও ভালোই টের পাওয়া যাবে। আবহাওয়া দফতর বলছে, ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি থেকে রেহাই নেই। পরিস্থিতি বুঝে বেশ কয়েকটি জেলায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছেন আবহাওয়াবিদরা।

PREV
15
ফের ঘূর্ণিঝড়ের ভ্রুকূটি

অর্ণব ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষত শুকোনোর আগেই অন্ধ্রপ্রদেশে ফের চোখ রাঙাচ্ছে প্রকৃতি। বঙ্গোপসাগরে নতুন একটি ঘূর্ণিঝড় তৈরির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, এটিও অন্ধ্র উপকূলের দিকেই ধেয়ে আসবে। তবে এবার শুধু অন্ধ্রপ্রদেশ নয়, তেলেঙ্গানাতেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। আবহাওয়া দফতরের সতর্কতা অনুযায়ী, বেশ কিছু জেলায় প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে মুষলধারে বৃষ্টি হতে পারে।

25
বঙ্গোপসাগরে ফের নিম্নচাপ

অর্ণব ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আছড়ে পড়ার পরপরই বঙ্গোপসাগরে আরও একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। এটি শক্তি বাড়িয়ে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন আন্দামান সাগরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে এটি আরও শক্তিশালী হবে। অন্ধ্রপ্রদেশ বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ (APSDMA) সতর্ক করেছে যে, রবিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যার মধ্যে এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসবে। সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এটি ঠিক কোথায় আছড়ে পড়বে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

35
সাগরে চোখ রাঙাচ্ছে 'মুরসু'

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হতে চলা এই ঘূর্ণিঝড়টির নাম দেওয়া হয়েছে 'মুরসু'। নামটি ভারতের দেওয়া। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। APSDMA-এর এমডি প্রখর জৈন সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিশেষ করে সোম ও মঙ্গলবার মধ্য অন্ধ্র এবং রায়লসীমা জেলাগুলোতে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি হবে। কিছু জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূল বরাবর ৪৫-৬৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

45
কোন কোন রাজ্যের ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় মুরসুর প্রভাব শুধু অন্ধ্রপ্রদেশেই নয়, তেলেঙ্গানাতেও ভালোই পড়বে। ইতিমধ্যেই নিম্নচাপের জেরে জয়শঙ্কর ভূপালপল্লী, মুলুগু, ভদ্রাদ্রি কোথাগুদেম, খাম্মাম, নালগোন্ডা, সূর্যপেট, মহাবুবাবাদ, ওয়ারাঙ্গাল, হানামকোন্ডা, জনগাঁও, সিদ্দিপেট এবং ইয়াদাদ্রি ভুবনগিরি জেলায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। হায়দরাবাদ, রাঙ্গারেড্ডি এবং মেডচাল মালকাজগিরি জেলাতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। আগামী ২ নভেম্বর অর্থাৎ সোমবার থেকে মুরসুর প্রভাবে তেলেঙ্গানায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। বিশেষ করে আদিলাবাদ, কোমারাম ভীম আসিফাবাদ, মাঞ্চেরিয়াল, জগতীয়াল, মহাবুবনগর, নাগরকুরনুল, ওয়ানাপার্থি, নারায়ণপেট এবং জোগুলাম্বা গাদোয়াল জেলায় ভারী বৃষ্টি হবে। এই জেলাগুলোতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইতে পারে। বাকি জেলাগুলোতে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় ইয়েলো অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

55
প্রবল বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস

তেলেঙ্গানার আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ 'তেলেঙ্গানা ওয়েদারম্যান' সতর্ক করেছেন যে, মুরসু ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে রাজ্যে প্রবল বৃষ্টিপাত হবে। তিনি জানিয়েছেন, ৩০ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত রাজ্যে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হবে। অর্থাৎ আগামী ৬-৭ দিন টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ২ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত মহাবুবাবাদ, ভদ্রাদ্রি কোথাগুদেম, খাম্মাম, সূর্যপেট, ইয়াদাদ্রি ভুবনগিরি এবং নালগোন্ডা জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এই জেলাগুলোর জন্য রেড অ্যালার্ট জারি করেছেন তিনি। ভারী বৃষ্টির কারণে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। নিচু এলাকাগুলো জলমগ্ন হওয়ার পাশাপাশি নদী ও খালগুলোতে জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বাড়তে পারে। জলাধার ও পুকুরগুলো কানায় কানায় ভরে যেতে পারে। তাই সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। বৃষ্টির কারণে যাতে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে, তার জন্য সরকারও আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে।

Read more Photos on
click me!

Recommended Stories