Bhutan Flash Flood: ভুটানে হিমবাহের হ্রদ ফেটে বিপত্তি। হঠাৎ হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত ভুটানের একাধিক এলাকা। রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতেও। পাশাপাশি ভুটানের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক উত্তরবঙ্গও। কী বলছে প্রশাসন? বিস্তারিত জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।।
Bhutan Flash Flood: নেপালের হড়পা বানের স্মৃতি এখনও অতীত হয়নি। তারমধ্যে আরও এক পড়শী দেশে হিমবাহের হ্রদ ফেটে চৌচির অবস্থা। আশঙ্কা ফ্লাশ ফ্লাডের (Bhutan Flash flood)। এই অবস্থায় ঘরবাড়ি হারানোর আশঙ্কায় ঘুম উড়েছে ভুটান সীমান্ত সংলগ্ন ডুয়ার্সের বাসিন্দাদের। সূত্রের খবর, সংকোশ নদীতে প্রবল জলস্রোত। এবং বৃহস্পতিবার রাত থেকে মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে ভুটানের গাসা জেলার শিন্তাফু হ্রদ যেটি মোচু নদীর উৎসস্থল। সেটি ভেঙে পড়েছে বলে খবর শোনা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, তিব্বত লাগোয়া ভুটানে (Bhutan) জারি করা হয়েছে বন্যা সতর্কতা। ভুটানের শিনটাফু লেক ফেটে হুড়মুড়িয়ে জল নেমে আসছে। আশঙ্কা, লেক থেকে প্রায় ৭৪ লক্ষ ঘনমিটার জল বেরিয়ে আসতে পারে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে মোচু নদীর তীরবর্তী এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিপদ বার্তা দিতে বাজানো হচ্ছে সাইরেন। পাশাপাশি, ভুটানের পুনাসাংচুতেও জারি হয়েছে সতর্কতা। হঠাৎ জলস্তর বেড়ে গেলে পুনাসাংচু জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভারত ও ভুটানের যৌথ উদ্যোগে এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি হয়েছে। পুনাসাংচু নদীই বাংলা ও অসমে সঙ্কোশ নামে প্রবেশ করেছে। ফলে ভুটানের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।
উত্তরবঙ্গেও সতর্কতা
এদিকে, ভূটান পাহাড়ে ভারী বৃষ্টি ও হিমবাহ বিপর্যয়ের জেরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে। নদী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদেরও সতর্ক করে দেওযা হয়েছে প্রশাসনের তরফে। নদীতে জলস্তর বাড়তে দেখলে কিংবা কোনও বিপদের আশঙ্কা দেখা দিলে দেরি না করে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, যে কোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিভিক ভলান্টিয়ার, গ্রাম পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা দলকেও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কী বলছেন বনমন্ত্রী?
এই বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁরাও। তিনি বলেন, “সঙ্কোষ লাগোয়া যে গ্রামগুলো রয়েছে, উপরদিকে চলে যায় ফরেস্ট ভিলেজ, কুমারগ্রামের কিছু অংশ। কারণ ভূটানের উপরে একটি লেক ভেঙে গিয়েছে। পুরো জলটাই নেমে আসবে। পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হয়ে যেতে পারে। প্রশাসনের তরফে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়েছে। প্রত্যেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। অবশ্যই গুজবে কান দেবেন না।”
ভুটানে প্রাণহানির খবর নেই, তবে হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত সৌরচালিত সেচ প্রকল্প। ভুটানে হড়পা বানের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি সৌরচালিত সেচ প্রকল্প। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার রাতে ভুটানের মো চু নদীতে আচমকা হড়পা বান আসে। এর জেরে ভুটানের পুনাখা জেলার গুমা গেওগের অন্তর্গত দোছুখা-জোমলিংথাং-রিৎসা চিউওগ এলাকায় অবস্থিত সৌরচালিত জল উত্তোলন ও সেচ প্রকল্পটি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হড়পা বানের পর থেকেই সেচ প্রকল্পটির কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের সেচের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে চলতি বছরের গোড়ার দিকে এই সৌরচালিত সেচ প্রকল্পটি স্থাপন করা হয়েছিল। অন্যদিকে, হড়পা বানের জলে ভেসে আসা পাথর, কাদা ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ জমে পুনাখা-গাসা জাতীয় সড়কের জোমলিংথাং এলাকার একটি অংশ ঢেকে গিয়েছে।






