
দিল্লিতে ফের জঙ্গি হামলার আশঙ্কা। আর এই আশঙ্কার পরেই রাজধানী জুড়ে জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, দিল্লির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান এবং ঐতিহাসিক জায়গায় জঙ্গি হামলা হতে পারে। এরপরেই শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। বিশেষ করে লালকেল্লা এবং চাঁদনি চকের মতো জনবহুল ও সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এই জায়গাগুলি তাদের প্রতীকী এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে জঙ্গিদের কাছে 'হাই-ভ্যালু টার্গেট' বলে মনে করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, এই সম্ভাব্য হামলার পিছনে রয়েছে পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা। খবর পাওয়া গেছে, জঙ্গিরা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED) ব্যবহার করে বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে। চাঁদনি চকের মতো এলাকার মন্দিরগুলি তাদের নিশানায় থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই সতর্কবার্তা পাওয়ার পরেই দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।
এইসব এলাকা এমনিতেই খুব ভিড়ে ঠাসা থাকে। প্রতিদিন প্রচুর পর্যটক ও সাধারণ মানুষ এখানে আসেন। তাই প্রশাসন আশঙ্কা করছে, এই ধরনের ঘনবসতিপূর্ণ জায়গায় হামলা হলে বহু মানুষের প্রাণহানি হতে পারে এবং শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর ফলে, শহরে ঢোকার সমস্ত রাস্তায়, বিশেষ করে সীমান্ত পয়েন্টগুলিতে গাড়ি চেকিং বাড়ানো হয়েছে।
এই সতর্কতার পিছনে অতীতের কিছু ঘটনাও রয়েছে। এর মধ্যে একটি হল লালকেল্লার কাছে ২০২৫ সালের বিস্ফোরণ, যা শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে এনেছিল এবং পুরোনো দিল্লিতে ফের হামলার ভয় বাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই প্রশাসন পুরোনো দিল্লি এবং তার আশেপাশের এলাকা নিয়ে বিশেষভাবে সতর্ক।
বর্তমান হুমকির মোকাবিলায়, শহরের প্রধান প্রধান ল্যান্ডমার্ক এবং ধর্মীয় স্থানগুলিতে নিরাপত্তা আরও আঁটসাঁট করা হয়েছে। অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সমস্ত পদক্ষেপই সতর্কতামূলক, যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যায় এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
তবে প্রশাসন জানিয়েছে, অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। সাধারণ মানুষকে শুধু সতর্ক থাকতে এবং কোনও সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে। এই পরিস্থিতি রাজধানীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ এবং সন্ত্রাসবাদী угроз মোকাবিলায় সব সময় প্রস্তুত থাকার প্রয়োজনীয়তাকেই আবার মনে করিয়ে দিচ্ছে।