Bharat Taxi: চালকের পকেটেই যাবে লাভের টাকা, ক্যাব চালকদের বললেন অমিত শাহ
Amit Shah: দিল্লিতে ভারত ট্যাক্সি অ্যাপের চালকদের সঙ্গে কথা বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জানান, এই সমবায় মডেলে চালকরাই মালিক, তাই লাভের টাকা তাঁদের পকেটেই যাবে, অন্য অ্যাপের মতো কোম্পানির মালিকদের নয়।

ভারত ট্যাক্সি অ্য়াপ চালক-অমিত শাহ বৈঠক
সোমবার দিল্লির ভারত ট্যাক্সি অ্যাপের চালকদের সঙ্গে কথা বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সমবায় ভিত্তিক অ্যাপ পরিষেবার মূল উদ্দেশ্যই হল, যাঁরা পরিশ্রম করছেন, লাভটা যেন তাঁদের কাছেই পৌঁছায়, কোনও মালিকের কাছে নয়।
ভারত ট্য়াক্সি অ্য়াপ চালু
প্রসঙ্গত, গত ৫ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে দেশের প্রথম সমবায় ভিত্তিক রাইড-হেলিং প্ল্যাটফর্ম 'ভারত ট্যাক্সি' চালু করেছিলেন অমিত শাহ। চালকদের সঙ্গে কথা বলার সময় শাহ বলেন, "এর ভাবনাটাই হল, যে খাটছে, লাভটা সে পাবে, কোনও ধনী ব্যক্তি নয়। আপনারা বলছিলেন যে অনেক অভিযোগ ছিল, ৩০ শতাংশ টাকা কেটে নেওয়া হত, কোনও নিশ্চয়তা ছিল না।"
লক্ষ্য ট্যাক্সি চালকদের ধনী করা
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও বলেন, অন্যান্য অ্যাপ সংস্থাগুলির উদ্দেশ্য হল তাদের মালিকদের ধনী করা। "আমাদের উদ্দেশ্যও মালিকদের ধনী করা। তফাৎ শুধু একটাই, এখানে মালিক হলেন আপনারা নিজেরাই," যোগ করেন তিনি।
মোটা কমিশন দিতে হয় না
ভারত ট্যাক্সি একটি সমবায় মডেলে চলে, যেখানে চালকরাই অংশীদার এবং লাভের ভাগীদার। প্রচলিত রাইড-হেলিং পরিষেবাগুলির মতো এখানে প্ল্যাটফর্মকে মোটা অঙ্কের কমিশন দিতে হয় না। এই পরিষেবার জন্য একাধিক সংস্থার সঙ্গে চুক্তি বা MoU সই হয়েছে:
প্রথম চুক্তি
দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশ: সহকার ট্যাক্সি কো-অপারেটিভ লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তির আওতায়, ভারত ট্যাক্সি দিল্লির ২১টি জায়গায় ৩৪টি প্রিপেইড ট্যাক্সি বুথ ডিজিটালভাবে চালাবে। এর ফলে যাত্রীদের সুরক্ষা, স্বচ্ছতা এবং চালকদের আয় বাড়বে। দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশের সাহায্যে একটি জয়েন্ট কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারও তৈরি করা হয়েছে, যেখানে রিয়েল-টাইম রাইড মনিটরিং, SOS অ্যালার্ট এবং দ্রুত আপৎকালীন ব্যবস্থা থাকছে।
দ্বিতীয় চুক্তি
কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY): ন্যাশনাল ই-গভর্নেন্স ডিভিশনের (NeGD) সঙ্গে চুক্তির ফলে ডিজিটাল ইন্ডিয়া পরিকাঠামোর অধীনে ভারত ট্যাক্সিকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ডিজি-লকার, উমंग (UMANG) এবং এপিআই সেতুর সঙ্গে যুক্ত হওয়া যাবে। ফলে চালকদের নথিভুক্তিকরণ হবে কাগজবিহীন এবং সরকারি পরিষেবা পাওয়া সহজ হবে।
তৃতীয় চুক্তি
দিল্লি মেট্রো (DMRC): দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনের সঙ্গে চুক্তির ফলে ১০টি প্রধান মেট্রো স্টেশনে লাস্ট-মাইল কানেক্টিভিটি দেওয়া হবে। বাইক ট্যাক্সি, ই-অটো এবং ক্যাবের মাধ্যমে যাত্রীরা এক প্ল্যাটফর্মেই পুরো যাত্রার পরিকল্পনা ও পেমেন্ট করতে পারবেন।
চতুর্থ চুক্তি
এয়ারপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (AAI): এই চুক্তির মাধ্যমে সারা দেশে AAI পরিচালিত বিমানবন্দরগুলিতে ভারত ট্যাক্সির পরিষেবা নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
পঞ্চম চুক্তি
দিল্লি এয়ারপোর্ট (DAPS): দিল্লি ট্যুরিজম অ্যান্ড ট্রান্সপোর্টেশন ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন এবং দিল্লি এয়ারপোর্ট পার্কিং সার্ভিসেস (DAPS - GMR সমর্থিত)-এর সঙ্গেও চুক্তি হয়েছে। এর ফলে IGI এয়ারপোর্টের বিভিন্ন টার্মিনালে ভারত ট্যাক্সির হোয়াইট ক্যাব পরিষেবা চালু করার অনুমতি মিলেছে। প্রথম বছরে DAPS প্রতি ট্রিপের ২৪৫ টাকার পিকআপ ফি-তে ২০% ছাড় দেবে, যা ভারত ট্যাক্সির 'কালি-পিলি' পরিষেবার পাশাপাশি এয়ারপোর্ট থেকে রাইডের সংখ্যা ও আয় বাড়াতে সাহায্য করবে।

