লস্কর-ই-তৈবার একটি জঙ্গি মডিউলের ৮ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে এই মডিউলটি চালাচ্ছিল শাবির আহমেদ লোন নামে এক সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গি। ভারতে বেআইনিভাবে থাকা বাংলাদেশিদের নিয়োগ করে হামলার ছক কষা হচ্ছিল।
লস্কর-ই-তৈবা (LeT) জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ৮ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করল দিল্লি পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গেছে, এই পুরো জঙ্গি মডিউলটি চালাচ্ছিল শাবির আহমেদ লোন নামে এক ব্যক্তি।
210
শাবির আহমেদ লোন
সন্ত্রাসবাদে যুক্ত থাকার অভিযোগে শাবির আহমেদ লোন এক দশক জেলে ছিল। ২০১৯ সালে জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর সে বাংলাদেশে পালিয়ে যায়।
310
লোনের সঙ্গে হাফিজের যোগ
সূত্রের খবর, এই শাবির আহমেদ লোন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ কমান্ডার হাফিজ সইদ এবং জাকি-উর-রহমান লাখভির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখত। এই দুজনই ২৬/১১ মুম্বাই হামলার মূল চক্রী।
দিল্লি পুলিশ গ্রেপ্তার হওয়া আটজনকে জেরা করে জানার চেষ্টা করছে, তারা লালকেল্লার কাছাকাছি কোনও মন্দিরে বা অন্য কোনও জনবহুল এলাকায় বড়সড় হামলার পরিকল্পনা করছিল কি না।
510
টার্গেট বাংলাদেশীরা!
সূত্র মারফত আরও জানা গেছে, ভারতে বেআইনিভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের দলে টানার ও তাদের মগজধোলাই করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল লোনকে। গ্রেপ্তার হওয়া আটজনকেও সে লস্করের ভাবধারায় দীক্ষিত করে তুলেছিল।
610
বাংলাদেশিদের সাহায্য করল লোন
লোন মূলত বেআইনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বের করত। তারপর দালালদের মাধ্যমে তাদের জন্য আধার কার্ডের মতো নকল পরিচয়পত্র বানিয়ে দিত। সূত্রের দাবি, হামলা চালানোর জন্য অভিযুক্তদের হাতে অস্ত্রও তুলে দেওয়া হয়েছিল।
710
গোয়েন্দা সতর্কতা
এর আগে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একটি সতর্কবার্তা জারি করেছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, লালকেল্লার কাছে কোনও মন্দিরে বা অন্য কোনও ভিড়ে ঠাসা জায়গায় ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED) দিয়ে হামলা হতে পারে।
দিল্লি পুলিশের সূত্র এও জানিয়েছে যে, ফাঁস হওয়া এই বাংলাদেশি জঙ্গি মডিউলের হ্যান্ডলার 'সিগন্যাল' নামে একটি এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত।
810
তদন্তকারীদের দাবি
তদন্তকারীদের মতে, দিল্লি ও কলকাতায় যে ভারত-বিরোধী পোস্টারগুলো দেখা গিয়েছিল, সেগুলো কলকাতাতেই ছাপা হয়েছিল। পোস্টারের পিডিএফ ফাইল বাংলাদেশ থেকে পাঠিয়েছিল হ্যান্ডলার শাবির।
তদন্তে আরও জানা গেছে, শাবিরের নির্দেশেই লস্করের এই মডিউলটি কলকাতায় একটি ঘাঁটি তৈরি করেছিল। শহরের উপকণ্ঠে প্রায় ৮,০০০ টাকা ভাড়ায় একটি বাড়িও নিয়েছিল তারা।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা সোশ্যাল মিডিয়ায় পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর সমর্থনে পোস্ট করত। তামিলনাড়ুর উথুকুলি থেকে দু'জন, পাল্লাদাম থেকে তিনজন এবং থিরুমুরুগানপুন্ডি এলাকা থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা নকল আধার কার্ড ব্যবহার করে পরিচয় লুকিয়ে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করছিল।
910
বাজেয়াপ্ত
অভিযান চালিয়ে আটটি মোবাইল ফোন এবং ১৬টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। সমস্ত অভিযুক্তকে ট্রেনে করে দিল্লিতে আনা হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে। সন্দেহ করা হচ্ছে, এই অভিযুক্তরা জঙ্গিদের সাহায্য করার জন্য বিভিন্ন শহরে রেইকি চালিয়েছিল। দিল্লিতে "ফ্রি কাশ্মীর" পোস্টারও লাগানো হয়েছিল।
1010
বাকি রাজ্য থেকে গ্রেফতার
এর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ থেকেও আরও দু'জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ তামিলনাড়ু থেকে ধরা পড়া সব সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজধানীতে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তল্লাশির সময় পুলিশ তাদের কাছ থেকে কয়েক ডজন মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড বাজেয়াপ্ত করেছে।