পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের রিফিল বুকিংয়ের ন্যূনতম অপেক্ষার সময়সীমা ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করেছে। রান্নার গ্যাস মজুত করে রাখার প্রবণতা রোধ এবং সকলের মধ্যে সিলিন্ডারের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রকের কর্মকর্তারা। তাঁদের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা এবং এলপিজি সিলিন্ডার প্রাপ্তি নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গৃহস্থালির এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার রিফিল বুকিংয়ের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু করল সরকার। সংশোধিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে একবার সিলিন্ডার রিফিল বুক করার পর পরবর্তী বুকিং করতে গ্রাহকদের কমপক্ষে ২৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। আগে এই ব্যবধান ছিল ২১ দিন। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার রিফিলের জন্য অপেক্ষার সময় চার দিন বাড়ল।
37
কালোবাজারি রোধে বড় সিদ্ধান্ত
সরকারি সূত্রে খবর, এলপিজি সিলিন্ডার মজুত করে রাখা এবং কালোবাজারি রোধ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, উপলব্ধ গ্যাসের সরবরাহ যাতে বিভিন্ন অঞ্চল ও পরিবারের মধ্যে আরও সমভাবে বণ্টন করা যায়, সেই লক্ষ্যেও এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্নের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক তেল শোধনাগারগুলিকে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত উৎপাদিত এলপিজির বড় অংশই গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের চাহিদা পূরণে ব্যবহার করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে কোনও ঘাটতি না হয়।
57
এলপিজি সরবরাহকে অগ্রাধিকার
একই সঙ্গে আমদানি করা এলপিজি সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে জরুরি অ-গৃহস্থালী খাতগুলির জন্য। এর মধ্যে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলিতে কোনও ধরনের ব্যাঘাত না ঘটে এবং পরিষেবা স্বাভাবিকভাবে চালু রাখা যায়।
67
এলপিজি নীতিতে পরিবর্তন
এলপিজি নীতিতে পরিবর্তন আনা হলেও আপাতত পেট্রোল ও ডিজেলের দামে বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা। বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ১০০ মার্কিন ডলারের আশেপাশেই ঘোরাফেরা করতে পারে।
77
দেশজুড়ে বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি
বাণিজ্যিক এলপিজি (LPG) (রান্নার গ্যাস) সরবরাহে চরম বিপর্যয়ের জেরে বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ের খাদ্যশিল্পে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে। মঙ্গলবার মুম্বইয়ের হোটেল ও রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশন (AHAR) জানিয়েছে, গ্যাসের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে শহরের প্রায় ২০ শতাংশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাণিজ্যিক সিলিন্ডার সরবরাহে ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন দৈনন্দিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে জ্বালানির আকাশছোঁয়া দাম ও অপ্রতুলতা ক্ষুদ্র ও মাঝারি মানের রেস্তোরাঁগুলোর পিঠ দেওয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে।