নির্বাচন কমিশনে ফাটল! মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ চাইল বিরোধীরা, পাল্টা তোপ বিজেপির

Published : Sep 25, 2026, 11:22 PM IST
নির্বাচন কমিশনে ফাটল! মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ চাইল বিরোধীরা, পাল্টা তোপ বিজেপির

সংক্ষিপ্ত

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি রিপোর্টে নির্বাচন কমিশনের অন্দরের কোন্দল সামনে আসতেই জাতীয় রাজনীতিতে ঝড় উঠেছে। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে। অন্যদিকে, এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই মতবিরোধ চলছে। আর এই রিপোর্ট সামনে আসতেই শাসক দল বিজেপি এবং বিরোধীদের মধ্যে জোর তরজা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও অপসারণ দাবি করেছে।

বিজেপি অবশ্য এই অভিযোগকে 'ভিত্তিহীন অজুহাত' বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, ভোটে হারার হতাশা থেকেই বিরোধীরা এসব বলছে। তবে এনডিএ জোটের শরিক তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান একটু সতর্ক সুরেই কথা বলেছেন। তিনি নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থা বজায় থাকে। এদিকে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, আরজেডি, শিবসেনা (ইউবিটি) এবং বামপন্থীদের মতো বিরোধী দলগুলো একজোট হয়ে আক্রমণ শানিয়েছে। তারা একে 'গণতন্ত্রের হত্যা' বলে তোপ দেগেছে। বিরোধীদের দাবি, অবিলম্বে সমস্ত ফাইল প্রকাশ্যে আনতে হবে এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ বন্ধ রাখতে হবে। যদিও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত সমস্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমেই নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান। তিনি বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে যে রাজনৈতিক তরজা চলছে, তার মাঝে নির্বাচন কমিশনের উচিত নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে তুলে ধরা। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। এই প্রসঙ্গে পাসোয়ান বলেন, বিরোধীদের তোলা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দায়িত্ব কমিশনের, বিশেষ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যদি এমন প্রশ্ন ওঠে, তবে আমি মনে করি কমিশনের, বিশেষ করে সিইসি-র দায়িত্ব নিজেদের দিকটা শক্তভাবে তুলে ধরা। বিরোধীরা কী বলছে তাতে আমার কিছু যায় আসে না, কারণ রাজনীতি করাই ওদের কাজ।" তিনি আরও যোগ করেন, "নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই মানুষের আস্থা ধরে রাখতে হবে। কারণ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়েই যদি মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি হয়, সেটা খুব ভুল হবে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের উচিত নিজেদের বক্তব্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরা, যাতে মানুষের মনে কোনও সন্দেহ না থাকে।"

সিইসি-র পাশে বিজেপি, অভিযোগ ওড়াল গেরুয়া শিবির

বিরোধীদের অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছে বিজেপি। অমৃতসরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল এই অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি পক্ষপাতদুষ্টই হয়, তাহলে কেরালায় কংগ্রেস কীভাবে জিতল? এএনআই-কে মেঘওয়াল বলেন, "রাহুল গান্ধী সব ভুল তথ্য দিচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন যদি ঠিক না হয়, তাহলে আপনারা কেরালায় জিতলেন কী করে? রাহুল গান্ধী সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ করছেন।" একই সুরে বিজেপি সাংসদ অশোক বাজপেয়ী বলেন, "নির্বাচনে মানুষ বারবার রাহুল গান্ধীকে প্রত্যাখ্যান করেছে। কংগ্রেস তাদের পায়ের তলার মাটি হারিয়েছে।"

পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সমর্থনে জোরালো সওয়াল করেছেন। তিনি দাবি করেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করানো এবং ভোটার তালিকা পরিচ্ছন্ন করার জন্য জ্ঞানেশ কুমারকে জাতীয় সম্মান দেওয়া উচিত। শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "আসল কথা হল, খোদ কংগ্রেস দলই রাহুল গান্ধীর কথায় কান দেয় না; তারা তাঁকে সিরিয়াসলি নেয় না... জ্ঞানেশ কুমারের অন্তত পদ্মভূষণ পাওয়া উচিত।" রাজ্যে নির্বাচন পরিচালনা এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের প্রশংসা করে এই বিজেপি নেতা বলেন, "পশ্চিমবঙ্গের মানুষ খুব খুশি যে, এতদিন পর ভোটদানে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেনি। খুনের কোনও ঘটনা ঘটেনি এবং মানুষ সত্যিই নিজেদের ভোট দিতে পেরেছেন। তাছাড়া, এই রকম একটা সীমান্তবর্তী রাজ্যে জ্ঞানেশ কুমারই প্রথম ভোটার তালিকা থেকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।" তিনি আরও বলেন, "পশ্চিমবঙ্গের মানুষ খুব কমই এমন নির্বাচন দেখেছেন। তাই পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ পুরোপুরি জ্ঞানেশ কুমারকে সমর্থন করেন।"

আক্রমণ শানাল বিরোধীরা, চাইল জবাবদিহি

বিজেপির পাল্টা আক্রমণ খারিজ করে দিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তিনি স্পষ্ট জানান, এই বিষয়টিকে নিছক রাজনৈতিক বিবাদ বলে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, "দুঃখিত, এটা খুবই পুরনো এবং দুর্বল একটা গল্প। এখানে তথ্য আছে, প্রমাণ আছে। গোটা দেশ সেটা দেখতে পাচ্ছে। আমার ভাই বিভিন্ন সাংবাদিক বৈঠকে সেটা দেখিয়েছে। সে প্রমাণ সামনে এনেছে। এখন এটা খুব পরিষ্কার যে, ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এটা একটা খোঁড়া অজুহাত, আর বিজেপির উচিত এই ধরনের খোঁড়া অজুহাত দেওয়া বন্ধ করা।"

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যে কোনও ধরনের হস্তক্ষেপ সাংবিধানিক গণতন্ত্রের ওপর বড়সড় আঘাত। তিনি বলেন, “তারা যদি আমাদের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে, এবং তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব যদি নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে এসব করায়, তবে সেটা দেশদ্রোহিতার শামিল এবং তাদের এটা বোঝা উচিত। আর তাদের এর দায় নেওয়া উচিত। তারা যদি এটা করেই থাকে, তাহলে সেটা বলতে পারছে না কেন? তারা কিসের ভয় পাচ্ছে?”

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

AFSPA Extension: অরুণাচল প্রদেশের ৩ জেলায় আরও ৬ মাস বাড়ল আফস্পার মেয়াদ
ECI Controversy: জ্ঞানেশ পদত্যাগ না করলে গান্ধীজয়ন্তী থেকেই পথে সিজেপি, মুম্বই থেকে শুরু আন্দোলন?