
NEET-UG পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের মধ্যেই বড় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শুক্রবার তিনি জানিয়েছেন, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) আগামী ২১ জুন আবার নিট-এর পরীক্ষা নেবে। সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পরের বছর থেকে এই পরীক্ষা কম্পিউটার-বেসড টেস্ট (CBT) পদ্ধতিতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষার্থীদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে পরীক্ষায় আর কোনও দুর্নীতি হতে দেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, “ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ওদের পরিশ্রম ও চেষ্টার প্রতি সরকার সংবেদনশীল। এবার আর কোনও দুর্নীতি হবে না। সরকার তোমাদের পাশে আছে। দেশের স্বার্থে আমাদের একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আমরা খুবই দুঃখিত।”
সাংবাদিক বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী স্বীকার করে নেন যে ‘সাজেশন পেপার’-এর আড়ালে আসলে প্রশ্নপত্রই ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। প্রধান বলেন, “গেস্ট পেপারের নামে প্রশ্ন বাইরে চলে গিয়েছে।” তিনি জানান, ৮ মে থেকে এই বিষয়টি যাচাই করার প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা চলে ১১ মে পর্যন্ত। এরপর ১২ মে পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিক্ষামন্ত্রীর কথায়, “যখন আমরা নিশ্চিত হলাম যে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে, তখন ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে ১২ মে আমরা পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিই। আমরা চাইনি শিক্ষা মাফিয়াদের চক্রান্তের জেরে কোনও যোগ্য পরীক্ষার্থী তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হোক।”
প্রধান বলেন, সরকার পরীক্ষায় অনিয়মের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে চলে। তাঁর দাবি, আগের বছরের সমস্যার পর রাধাকৃষ্ণণ কমিটির সুপারিশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয়েছিল। “তা সত্ত্বেও এই ঘটনা ঘটেছে। তাই আমাদের প্রথম সিদ্ধান্তই ছিল পরীক্ষা বাতিল করা,” বলেন তিনি।
তবে NTA-এর উপর আস্থা হারাননি শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, “NTA সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ... একজন যোগ্য ব্যক্তির হাতেই এর দায়িত্ব রয়েছে... সুপ্রিম কোর্টের সুপারিশে এই সংস্থা তৈরি হয়েছে এবং প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি ছাত্রছাত্রীর পরীক্ষা নেয়... আমরা NTA-কে ০ শতাংশ ত্রুটিমুক্ত করব।”
শিক্ষামন্ত্রী একাধিক সংস্কারের কথাও ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “আমরা ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার ফি ফেরত দেব। আগামী পরীক্ষায় কোনও ফি লাগবে না।” তিনি আরও জানান, পরীক্ষার প্রক্রিয়া আরও মজবুত করতে এবং অনিয়ম রুখতে পরের বছর থেকে NEET পরীক্ষা CBT মোডে অর্থাৎ কম্পিউটারে নেওয়া হবে।
ধর্মেন্দ্র প্রধান আরও জানান, NTA পরীক্ষার্থীদের আবার নিজেদের পছন্দের পরীক্ষাকেন্দ্রের শহর বেছে নেওয়ার সুযোগ দেবে। তিনি বলেন, “বহু পরীক্ষার্থী হয়তো আগের পরীক্ষার শহর ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তাই NTA তাদের এক সপ্তাহ সময় দেবে নতুন করে শহর বেছে নেওয়ার জন্য।”
পরীক্ষার্থীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে পরীক্ষার সময়ও ১৫ মিনিট বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “যে পরীক্ষা দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত হওয়ার কথা ছিল, তা এখন সওয়া পাঁচটা পর্যন্ত চলবে।”
তিনি যোগ করেন, “ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য ভারত সরকার রাজ্যগুলির সঙ্গে কথা বলবে। আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলব, যাতে পরীক্ষার্থীদের অসুবিধা ন্যূনতম হয়।” প্রধান জানিয়েছেন, আগামী ১৪ জুনের মধ্যে সব পরীক্ষার্থীর অ্যাডমিট কার্ড ইস্যু করা হবে।